আওয়ামীলীগ তুমি কার? ছাত্রজীবনে শাহজাহান শিশিরের সহযোদ্ধা তোফিক আহম্মেদ কানাডা থেকে-শাহজাহান শিশিরের মুক্তি চাই! !

কচুয়ারডাক নিউজ ডেস্ক: আওয়ামীলীগ তুমি কার? তোফিক আহম্মেদ কানাডা থেকে-
শাহজাহান শিশিরের সাথে আমার পরিচয় ১৯৯০ এর পরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রলীগের মিছিলে। আমাদের এক বছরের সিনিয়ার। কার্জন হল এলাকায় আমাদের সিনিয়র হাতে গোনা যে হাতে কয়েকজন সক্রিয় রাজনীতি করতো তার মধ্যে শাহজাহান শিশির অন্যতম।

১৯৯৪ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনের উপলক্ষে হানিফ ভাইয়ের নির্বাচন পরিচালনার জন্য তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাহাদুর বেপারী ভাইয়ের নেতৃত্বে ৩০ জনের একটি ব্যাক্তিগত গোয়েন্দা বাহিনী গঠন করেন। শাহজাহান শিশির ও এই গোয়েন্দাদের একজন ছিল।

এই দলের প্রত্যেকের কাছে জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষর করা পরিচয়পত্র ছিল। তারা সকালে ২৯ মিন্টো রোড থেকে অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে সারাদিন কাজ করে সন্ধ্যায় রিপোর্ট করে বাড়ি ফিরতো। মুলতা তারা দলীয় প্রার্থীদের সম্ভাব্যতা, শক্তি ও দুর্বলতা, প্রতিপক্ষের অবস্থা, দলীয় নেতারা কেঊ দলের বিরুদ্ধে কাজ করছে কিনা, টাকা পয়সা দেয়া বা ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে কিনা, সেসব দেখতো। সরাসরি জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে রিপোর্ট করতো।

আমি ১৯৯৬ সালে মাস্টার্স শেষ হলে ক্যাম্পাসে যাওয়া কমিয়ে দেই। ১৯৯৮ থেকে চাকরী শুরু তারপর ২০০১ সালে কানাডায় ইমিগ্রেশন নিয়ে চলে আসি।

শাহজাহান শিশির ছাত্র রাজনীতি চালিয়ে যান। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে দুই দফায় সদস্য ও সম্পাদকীয় পদে ছিলেন। ৯০-৯৬ আর ২০০১-২০০৮ সে দেখেছে। রাজনীতির জন্য জেলও খেটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা শিশির, চলে যান নিজ এলাকা, মহিউদ্দিন খান আলমগীরের কচুয়াতে। শিশির ছাত্রলীগের একজন খাঁটি ও পরীক্ষিত দুর্দিনের সৈনিক, জনপ্রিয় ও ঊদীয়মান আওয়ামী লীগ নেতা। শিশির দুইবার কচুয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

তার শিক্ষিত ও যোগ্য নেতৃত্ব কচুয়াবাসী চোখের সামনে দেখেছে। চুরি না করে, ত্রান বন্টন বা প্রকল্পের খরচের হিসাব সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রকাশ করেছেন, করোনা প্রতিরোধে নিজে মাইকিং করেছেন, বন্যা প্রতিরোধে বা রাস্তা মেরামতে নিজে নেমে গেছেন।

ফেঁসে গেছেন দুরনীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে। নিম্নমানের মালামাল ব্যাবহার করে, রাতের আঁধারে লেবার দিয়ে স্কুল ভবনের কাজ করানোর প্রতিবাদ করতে গিয়ে। সুযোগ নিয়েছে দলেরই কিছু সুবিধাবাদী ও সুযোগ সন্ধানী হাইব্রিড। শিশিরকে সরাতে পারলে তাদের ভবিষ্যৎ খুলে যায়। তাই দুর্নিতিবাজ ইঞ্জিনিয়ারের সাথে তাল মিল করে বিনা বিচারে শিশিরকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে রাতারাতি বরখাস্ত। প্রবল জনমতের চাপ উপেক্ষা করেও শিশির এখন জেলে।

ছাত্রলীগের শিশির এখন জেলে। ২ বারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান দুর্নিতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আজ জেলে। দেশটা কি বালিশ, পর্দা, পিপিই, বটি, ঘটি, বই, বিদেশ ভ্রমণ দুর্নীতি আর ব্যাঙ্ক লুটেরাদের অভয়ারন্য? গত ১২টা বছর দেশ চালাচ্ছে কোন সরকার?

মাঝে মাঝে ত্যাগী আর দুর্দিনের কর্মী, তৃনমূলকে নিয়ে মজার মজার কথা শুনি, গোপাল ভাঁড়ের গল্পের মত। আর হাবা হাসমতের মত হাসি।

আজ হাইব্রিডরা তৃনমূলকে শিকড় শুদ্ধ উপড়ে ফেলছে,
চারিদিকে কাঊয়ার কা কা আর খা খা।
আর শারমিন রা শিশিররা জেলে যা!

আওয়ামি লীগ সরকার তুমি কার?