দেশে এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা কমানোর চিন্তা-ভাবনা চলছে : শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি , এমপি।

করোনা ভাইরাসের জন্য আটকে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষার বিষয় সংখ্যা কমানো এবং কম সময়ে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনি।

২৭ জুন শনিবার শিক্ষা বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব) আয়োজিত ‘করোনায় শিক্ষার চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল সেমিনারে এ ভাবনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,এ বছরের এইচএসসির সিলেবাস কমানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। কারণ তারা তো তাদের সিলেবাস সম্পন্ন করেছে। এখন হতে পারে যে, পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং এত লাখ লাখ পরিবার, এত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, এত প্রশাসনের মানুষ, এত শিক্ষক- সবাইকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলব?

‘তাহলে সেটি আমরা কম সময়ে করতে পারি কি-না? কম সংখ্যক পরীক্ষা নিতে পারি কি-না? আমরা সবকিছুই ভাবছি।’

গত ১ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও করোনা ভাইরাসের কারণে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেছে।

পরীক্ষা কবে হবে- তা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা পরিস্থিতি অনুকূলে আসার ১৫ দিন পর এই পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই ১৫ দিন শিক্ষার্থীদের নোটিশ দিতে হবে। তাদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে সময় দিতে হবে।

এদিকে করোনাকালে সামর্থ্যবান প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায়ে মানবিক হয়ে ছাড় দেওয়ার অনুরোধ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বন্ধের মধ্যেও অনেক প্রতিষ্ঠান টিউশন ফি’র জন্য চাপাচাপি করছে- এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই সময়ে বড় একটা সমস্যা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি দেওয়া। ফি না পেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগগুলো তাদের শিক্ষকদের কী করে বেতন দেবে? আর শিক্ষকরা তো অধিকাংশই বেতনের ওপর নির্ভরশীল। কেউ কেউ টিউশনি করাতেন। এখন তো সব বন্ধ।

‘তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এক রকম নয়। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজেদের কিছুটা হলেও আগামী ক’মাস চলার মতো সামর্থ্য আছে, তাদের অনুরোধ করব- ফি কিস্তিতে হোক বা কিছু দিন বাদ দিয়ে পরে নেওয়া হোক, সেটি করতে পারলে ভালো। না হলে দেখেন কতটা ছাড় দেওয়া যায়, সেটা চেষ্টা করবেন।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা খারাপ, তারা অন্যান্য ঋণের জন্য চেষ্টা করতে পারেন। আমরাও সে ব্যাপারে সহযোগিতা করতে পারি।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, আপনাদেরও কিছু ছাড় দিতে হবে। কারণ কিছু না কিছু বেতন তো দিতে হবে। আপনার সন্তান পড়াশোনা করছে, এখন প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে মানে তো সেই বেতন বন্ধ করে দেওয়া যায় না।

‘যেমন আপনি হয়ত কাজে যেতে পারছেন না, কাজ বন্ধ আছে, কিন্তু আপনি কি তার জন্য বেতন চাইবেন না? সরকারি হলে তো পুরো বেতনই পাচ্ছেন, সরকারি না হলে হয়তো বেতন কম দিচ্ছে। তাই যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে আপনার সন্তানের ফি দেওয়া উচিত।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যদি আপনার সামর্থ্য না থাকে সেক্ষত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারাও যদি কিছুটা ছাড় দিতে পারে, কিছুটা কিস্তিতে নিতে পারে, যতদূর সম্ভব উভয়পক্ষকেই আসলে মানবিক আচরণ করতে হবে। এটি এমন একটি সময় যখন আমরা আমাদের প্রয়োজনের কথা ভাবব, তেমনি আমাদের কিন্তু টিকে থাকবার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আপনার সন্তানটিকে আপনি কোথায় ভর্তি করবেন? এবং সেটি সরকারের জন্য বড় ধরনের একটি দুশ্চিন্তা নিশ্চয়ই।