কচুয়ার সাংসদ ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর এম পির আকুন্ঠ সমর্থন ও আশীর্বাদ নিয়েই পর পর দুইবার বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নাজমুল আলম স্বপন!

কচুয়ারডাক অনলাইনঃ নাজমুল আলম স্বপন কচুয়া পৌরসভায় দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে ১০২১২ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আহসান হাবীব প্রানজল মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১০৫১ ভোট। আর বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হুমায়ুন কবির প্রধান পেয়েছেন ৬৪৭ ভোট।

সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে জোহরা খাতুন জবাফুল প্রতীক নিয়ে ২৬৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফেরদৌসী আক্তার (আনারস) পেয়েছেন ১৬২২ ভোট। ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে রোকেয়া বেগম আনারস প্রতীক নিয়ে ১৪৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিলকিছ আক্তার (জবাফুল) ১১২৫ ভোট পান। ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে পারুল আক্তার জবাফুল প্রতীক নিয়ে ২৬৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমেনা বেগম (আনারস) ৯০৫ ভোট পান।

সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ৭২৭ ভোট, ২নং ওয়ার্ডে মোঃ তাজুল ইসলাম ৪৮৬ ভোট, ৩নং ওয়ার্ডে মাহরুন আল মিলি ৪৫১ ভোট, ৪নং ওয়ার্ডে থেকে জাহাঙ্গীর মোল্লা ৩৭১ ভোট, ৫নং ওয়ার্ডে আমিনুল হক ৫০১ ভোট, ৬নং ওয়ার্ডে আব্দুল মান্নান ৫৪০ ভোট, ৭নং ওয়ার্ডে কামাল হেসেন অন্তর ৬০৭ ভোট, ৮নং ওয়ার্ডে মাসুদ আলম ৭২০ ভোট এবং ৯নং ওয়ার্ডে আবুল খায়ের রুমি ২৪৭ ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের স্মরণ কালের সেরা ঐক্য সংঘঠিত হয়েছে কচুয়া পৌরসভা নির্বাচন কে কেন্দ্র করে। বিগত সংসদ,উপজেলা এবং স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে বিপক্ষে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের অবস্থান থাকলেও এবারই প্রথম সকল নেতৃবৃন্দ পৌরসভা নির্বাচন কে কেন্দ্র করে একটি প্লাটফর্মে এসেছেন। তারা জেলা,কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয়ভাবে নৌকা জয়ের কোন বিকল্প দেখন নি। উপজেলা আওয়ামীলীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা দাবী করেন গত একাদশ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহ ছিল তখন মহীউদ্দিন খান আলমগীরে সাথে মনোনয়নে গোলাম হোসেনের নাম এসেছে, তাই নেতা কর্মীরা বিভক্তিতে রূপান্তরিত হয়। গত উপজেলা নির্বাচনে শাহজাহান শিশির নৌকা পেলেও দলের একটি অংশ উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নেতৃত্বে আনারস মার্কার পক্ষে কাজ করে দলের বিতরে বাহিরে বিতর্ক শুরু করে, ফলে দলে কোন্দল চরম আকার ধারন করে, উপজেলা চেয়ারম্যানকেও বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিয়েছিলেন, তাহলে দলের ভিতরে বাহিরে এত কোন্দল কেন, এজন্য তিনি স্থানীয় দলের সভাপতি  সাধারন সম্পাদকের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন?

কচুয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা সেলিম মাহমুদ উপজেলায় তার নিজের একটি বলয় তৈরি করতে চাচ্ছেন সে জন্য তিনি মাঠ গুচিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিমত ব্যাক্ত করেন, ছাত্রলীগের পর এবার যুবলীগ তার নিয়ন্ত্রনে চলে গেল বলেও অভিমত প্রদান করেন।

কচুয়ার মেয়র নাজমুল আলম একদিনে তৈরি হয়নি,ডঃমহীউদ্দিন খান আলমগীর এম পি গত ২০১৫ সালের মনোনয়নে একক ভুমিকা রাখেন তখন কাউকে পাওয়া যায় নি, এবারও তিনি কথা রেখেছেন,অন্য কোন ব্যাক্তির ভুমিকা আছে কিনা তা অনেকেই প্রশ্নাতীত করে তুলেন। কচুয়া পৌরসভার নৌকায় চরে পাড়ি দিতে চেয়েছেন অনেকেই,এখনো চান? মনোনয়ন বানিজ্য করে অনেকেই টাকা খুইয়েছেন কথিত কেন্দ্রীয় নেতাদের ধারে ধারে ঘুরে।  বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ও নৌকা প্রতীক টাকায় কেনা যায় না তা আবারো প্রমানিত হলো।

উপজেলায় ফুলটাইম রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান নাজমুল আলম স্বপন , কোন কিছু সহজেই পেয়ে যান নি । সেই ছাত্রলীগ থেকে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নির্বাচন ও সর্বশেষ গত ২০১৫ পৌরসভা নির্বাচন তাকে প্রতিদ্ধন্দীতা করেই জিতে আসতে হয়েছে,এবারো তাই হলো।  সব কিছু আজ তার নিজস্ব রাজনৈতিক কারিশমা দিয়েই অর্জন করে নিতে হয়েছে তাকে। দলের বিশ্বস্ত সুত্রে কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারন সম্পাদক হচ্ছেন মেয়র, রাজনীতিতে একজন নাজমুল আলম স্বপন ও সত্য মিথ্যার বেড়াজালে আওয়ামী ঐক্যের রাজনীতি,নির্বাচন পরবর্তী ঐক্য নিয়েও শংকায় রয়েছেন অনেকেই, কিন্তু দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলে হয়তো এই ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব, কারন হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন দলের ভিতরে ও বাহিরে রয়েছে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং বিরোধীদলের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা, দলমত নির্বিশেষে অনেকেই নৌকার পক্ষে ভোট ছেয়েছেন তা অনেকটা নাজমুল আলম স্বপনের কারিশমাটিক কারনেই হয়েছে, দলের ভেতরে ও বাহিরে ঐকেই তা প্রমান করে !!!

কচুয়া উপজেলায় দুঃসময়ে আওয়ামীলীগকে উপজেলায় আগলে রাখা ও ছাত্রলীগ,যুবলীগ কৃষকলীগ এবং আওয়ামীলীগ কে প্রতিষ্ঠা করতে কচুয়ায় উক্ত পরিবারের রয়েছে বিশেষ অবদান,কচুয়া উপজেলার করইশ গ্রামের জন্ম নেয়া কচুয়া উপজেলা কৃষকলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শুকুমিয়া বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর হইতে আওয়ামীলীগের মেম্বার ও কমিশনার হয়েছেন বহুবার, তারই ধারাবাহিকতায় উত্তরসুরী হিসেবে তার সুযোগ্য সন্তান নাজমুল আলম স্বপন দীর্ঘদিন থেকে উপজেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ কে সু-দক্ষভাবে পরিচালনা করে আসছেন, আর এবার আবারো দলের নিবেদিত প্রান হিসেবে ২য় বারেরে মতো মেয়র নির্বাচিত হলেন।