কচুয়া উপজেলার ”মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও অতীতকে জানবো আগামীকে গড়বো” ৮ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১সালের এই দিনে রঘুনাথপুর গণহত্যা দিবস- বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন সিকদার!

কচুয়ারডাক মুক্তিযোদ্ধা ডেস্কঃকচুয়া উপজেলায় ”অতীতকে জানবো আগামীকে গড়বো” ৮ই সেপ্টেম্বর ১৯৭১সালের এই দিনে রঘুনাথপুর গণহত্যা দিবস!

রঘুনাথপুর গণহত্যা পর্ব-১

ঐতিহ্যবাহী ৮নং কাদলা ইউনিয়নের মহদ্দিরবাগ ভুইয়া পরিবারের মরহুম চেরাজুল হক ভূঁইয়ার কৃতিসন্তান রঘুনাথপুর গণহত্যায় নিহত মেধাবী ছাত্র শহীদ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া । এই নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে কৃতিত্বের সাথে এম এ পাশ করেছিলেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে মুক্তিপাগল মানুষের কাতারে শামিল হতে ১৯৭১ এর ২৬ জুন পাকিস্তান থেকে পলায়ন করে মাতৃভূমিতে চলে এসেছিলেন তিনি। দেশে ফিরেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দীপ্ত শপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।১৯৭১ এ ৮ই সেপ্টেম্বর তাহার বাড়ির অতি নিকটে রঘুনাথপুর বাজার গণহত্যায় পাক বাহিনীর দোসর রাজাকার দের গুলিতে তিনি নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন। উল্লেখিত ভুইয়া পরিবারের হাজীগঞ্জ এবং কচুয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম সুলতান ভুইয়ার ছেলে মরহুম দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বলিষ্ঠ সংগঠক। দেলোয়ার হোসেন মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য পরিবেশন করেছিলেন। এনায়েতপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক মরহুম অাবু তাহের (রেনু) ভাই, গুলবাহার গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা পেয়ারা, দেবীপুর গ্রামের তাজুল ইসলাম মাষ্টার সহ এখান থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়াতেন।

কচুয়া উপজেলা ৮নং কাদলা ইউনিয়ন ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অভয় আশ্রম। মেঠো পথে পায়ে হেঁটে বা নৌকায় ছাড়া উল্লেখিত ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় যাতায়াতে কোন বিকল্প ব্যবস্থা ছিলনা। উল্লেখিত ইউনিয়নের আরেকজন মহাপ্রাণ বীরপুরুষ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মরহুম আমির হোসেন পাঠান। শাসন খোলা (আয়েমা) গ্রামের এই কৃতী সন্তান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কচুয়ার মুক্তিযোদ্ধাদের মুজিব বাহিনীর কমান্ডার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম ওয়াহিদুর রহমান, যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এফ এফ আব্দুর রশিদ পাঠান এবং মুজিব বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার (অপারেশন) জাবের মিয়াকে তাদের গেরিলা বাহিনী সহ চরম এক কঠিন মুহূর্তে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। তার পরেও উল্লেখিত এলাকায় নি:ছিদ্র নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা রাখতে মুক্তিযোদ্ধাদের পালাক্রমে সেন্ট্রি ডিউটি বসানো ছিল। চারদিকে যখন মুক্তিযুদ্ধের দামামা, দায়িত্বপ্রাপ্ত সেন্ট্রিদের একজন সাহসী বীর আমার সহযোদ্ধা আবু তাহের অাবিদ মজুমদারের গভীর রাত্রে “হোন্ড-হোন্ড” চিৎকারের বিপদ সংকেতে সকল মুক্তিযোদ্ধারা আর্মস হাতে নিয়ে পজিশনে চলে যায়। তখন চারদিকে মাঠে সামান্য পানি। দলবদ্ধ ভাবে চলাচলের কুকুর পানিতে হেঁটে আসতে মনে হয়েছিল শত্রুবাহিনী ক্যাম্প অভিমুখী আক্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে আসছে । কমান্ডার মহোদয়গণ তখন কুকুরের চিৎকার অনুভব করে ফায়ার ওপেন এর নির্দেশ হতে বিরত থাকেন।
কাদলা ইউনিয়নে উল্লেখিত ক্যাম্পে মুজিব বাহিনীর অধিনায়ক মরহুম ওয়াহিদুর রহমান,এফ এফ বাহিনীর কমান্ডার আব্দুর রশিদ পাঠান ,মুজিব বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডান (অপারেশন) জাবের মিয়া, গ্রুপ কমান্ডর (অপারেশন) ওসমান গনি পাটোয়ারী সহ শীর্ষ কমান্ডারগন সমন্বয় করে মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কচুয়ার স্থানীয় ছাত্র-যুবকদের মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার পরিচালনায় প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। দুঃসাহসী জাবের মিয়া প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দেবীপুরের সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ আহমেদ (খোকা), পূর্ব কালোচোঁ গ্রামের নয় নং ইউনিয়ন কমিটির সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা অাবু তাহের অাবিদ মজুমদার , যুদ্ধকালীন কচুয়ার অাঞ্চলিক কমান্ডার অাব্দুল হালিম, পৌরসভার সাবেক কমান্ডার গাজী ইউসুফ, হাবিবুর রহমান(হাবু) কড়ইশ সহ আমি আনোয়ার হোসেন সিকদার (লেখক) ভারতের ত্রিপুরায় হাতিমারা ক্যাম্পে একই ব্যারাকে অবস্থান করেছিলাম। সীমান্তের অতি নিকটে ভারতের হাতিমারা, পদ্যনগর, কাঁঠালিয়া ও বড়মুড়া এ চারটি ক্যাম্প ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ত্রিপুরা রাজ্যের নিরাপদ এলাকায় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চরিলামে স্থানান্তর করা হয়েছিল।রাত্রে অামাদের ক্যাম্পে বাতি জ্বালানো নিষেদ ছিল। কেননা ময়নামতি সেনানিবাস থেকে হাতিমারা ক্যাম্প ফায়ারিং রেইঞ্জের ভিতরে ছিলাম অামরা। ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শর্মার অধিনে আমাদের ক্যাম্পের প্রশিক্ষণ পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিলেন সুবেদা আইইয়ু আলী ও নায়েক ফজলুর রহমান দুইজনই হাজীগঞ্জ উপজেলার বাসীন্দা।
ত্রিপুরা রাজ্যের মহাকুমা শহর সোনামুড়া এস ডি ও টিলা এবং সোনামুড়া ফকির বাড়িতে কুমিল্লা জেলা স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা ও বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা মুজিব বাহিনীর অধিনায়ক শ্রদ্ধেয় নেতা এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান। চাঁদপুর মহাকুমা বি এল এফ অধিনায়ক অাব্দুল মমিন খান মাখন ও মহকুমা ছাত্রলীগ নেতা রবিউল অাওয়াল খান কিরন ভাই সহ কুমিল্লা-চাঁদপুর এবং কচুয়ার বহু মুক্তিযোদ্ধার সাথে অামার স্বাক্ষাত হয়েছিল,সাবেক কচুয়া নির্বাচিত ডেপুটি কমান্ডার ও ৮নং কাদলা ইউনিয়ন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো: সোলায়মান গাজী সহ কাদলা ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল, গিয়াস উদ্দিন মোল্লা ও রফিকুল ইসলাম (বরইগাও),মরহুম অাব্দুর রব(গ্রাম:দোগর) মরহুম ডা: জাফর (দেবীপুর), এবাদুল্লা (শাসনখোলা), কাদলার খলিলুর রহমান ও ইউসুফ বেঙ্গল সহ অনেকেই ভারতে এবং স্থানীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেও চুড়ান্ত গেজেটভুক্ত হতে পারেন নি।

ফিরে আসি রঘুনাথপুর গণহত্যা প্রসঙ্গে। হাজীগঞ্জ উপজরলার রাজাকার কমান্ডার বাচ্চু মিয়া মন্তার নেতৃত্বে রঘুনাথপুর বাজারের এ গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। তারাপল্লা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল বাশার সরদার রঘুনাথপুর গণহত্যা স্মৃতি পরিষদের সভাপতি হিসেবে গণহত্যা দিবস কে স্মরণীয় বরণীয় করার অাপ্রান চেষ্টা করেছিলেন। হাজীগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা মতিনকে হত্যা করে তাঁর মৃত দেহ চলন্ত নৌকার পিছনে দঁড়ি দিয়ে বেঁধে রঘুনাথপুর থেকে হাজীগঞ্জ নিয়ে লাশ গুম করা হয়েছিল। দূর্ভাগা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মতিনের ভাগ্যে দাফন কাফন জুটেনি।

কচুয়া উপজেলা অাওয়ামীলীগ সংগ্রাম পরিষদের নেতা এম এ রশিদ প্রধান, কাজী অাব্দুর রশিদ ও দেলোয়ার হোসেন ভুইয়া সম্মিলিতভাবে নিম্নে লিখিত ব্যক্তিদের নিয়ে অাট নং কাদলা ইউনিয়র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়েছিল।
কাদলা ইউনিয়নে সংগ্রাম পরিষদে যারা অবদান রেখেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম মরহুম আলি অাহমেদ মাষ্টর (গ্রাম কাদলা), মরহুম নসু মিয়া চৌধুরী(গ্রাম-সইপুরা), ওহিদুল আলম ম-কাদলা(গ্রাম-কাদলা) মরহুম সিদ্দিকুর রহমান(কাদলা),মরহুম মেচু মিচু মিয়া চৌধুরী (গ্রাম-দোগর), মরহুম আব্দুল মতিন মিয়জী (গ্রাম-মনপুাম), কেনু মিয়া চৌধুরী , ফটিক চৌধুরী (গ্রাম-সইপুরা) এবং স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আবু তাহের দলা)(কাদলা)সহ বহু ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা কর্মীরা অবদান রেখেছিলেন।

আজ ৮ই সেপ্টেম্বর #রঘুনাথপুর_গণহত্যা_দিবস
(রঘুনাথপুর গণহত্যার শেষ পর্ব

ঐতিহাসিক রঘুনাথপুর বাজারটি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার অন্তর্গত ৮ নং কাদলা ইউনিয়নে অবস্থিত। ডাকাতিয়া নদীর নৌযান চলাচলের মহা সংযোগ প্রবাহিত বিশাল বোয়ালজুরী খালের তীরে রঘুনাথপুর বাজার ছিল ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য সুবিধাজনক স্থান। তৎকালীন কচুয়া ,হাজীগঞ্জ এবং মতলব থানার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এই এলাকাটি ছিল মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। নৌকা বা নৌযান ছাড়া এ অঞ্চলে কোন যাতায়াতের ব্যবস্থা ছিলনা । ১৯৭১ সালের সু-মহান মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় রঘুনাথপুরের যুদ্ধ ও গণহত্যা দিবস ছিল ৮ ই সেপ্টেম্বর দিনে এবং দ্বি-প্রহরে ।
বর্ষাকাল চারিদিকে নৌকা আর পানিতে চলছে ক্রয়-বিক্রয়ের মিলন মেলা। রঘুনাথপুর বাজার হতে অনতি দূরে হাজীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযুদ্ধকালীন এফ এফ কমান্ডার ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মজিবুর রহমান মজুমদার অস্থায়ী ক্যাম্প (গোপন আস্তানা) থেকে কিছু সহযোদ্ধা সদস্য মুক্তাঞ্চল ভেবে কোন প্রকার ডিফেন্স ছাড়াই অস্ত্র সাথে নিয়ে বাজারে ঢুকে পড়ে। তারা কেহ চুল কাটায় কেহ ছবি উঠানো নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তাদের এই আগমনী বার্তাটি রাজাকার এবং খান সেনাদের দালালের মাধ্যমে শত্রু বাহিনীর নিকট দ্রুত পৌঁছে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে রাজাকার বাহিনী বিপরীত দিক হতে বাজারে ঢুকে ঘেরাও করে গুলি চালাতে শুরু করে দেয় । এমতাবস্থায় মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্নভাবে পজিশনে গেলেও আত্মরক্ষায় গুলি চালাতে বাধ্য হয়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা মতিন পজিশনে থাকা অবস্থায় আটকা পড়ে়। শত্রু বাহিনীর ব্রাশফায়ারে মতিনের জীবন প্রদীপ চিরতরে নিভে যায়। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, দাফন-কাফনও মতিনের ভাগ্যে জুটে নাই। উল্লেখিত গণহত্যায় হজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গ্রাম ধড্ডা মিঞা বাড়ির জনাব অাব্দুল আওয়াল (আবু মিঞা) রঘুনাথপুর বাজারের ঈদগাহের পূর্ব পাশ্বে নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন।রাজাকারদের এই আক্রমণের হিংস্রতা, ক্ষিপ্রতা এবং বর্বরতা অজানা-অচেনা নিরস্ত্র নিরীহ বহু মানুষের লাশের রক্তে লালে লাল হয়ে যায়। ভয়ে এবং আতঙ্কে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। চারদিকে আত্মচিৎকার ও কান্নার আওয়াজ। গুলিবিদ্ধ অগনিত আহত লোক যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে। পাকবাহিনীরা লুটপাট আর তছনছ করে দেয় সবকিছু। কে নিবে কার খোঁজ, কে কাকে পানির পিপাসা নিবারণ করে জীবন বাঁচাবে। কে কাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে ।অগণিত লাশের মধ্যে যে কয়জনের নাম জানা গেল তাদের মধ্যে অন্যতম শহীদ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, শহীদ মো: অাব্দুল অাওয়াল (আবু মিঞা), শহীদ মোঃ শামছুল হক, শহীদ অাব্দুল মতিন,শহীদ জুনাব অালী,শহীদ মোয়াজ্জেম হোসেন,শহীদ আনসার আলী মুন্সী,শহীদ শামছুল হক-২ এবং স্বর্গীয় গিরিশচন্দ্র সরকারসহ নাম না জানা আরো অনেকেই।

কচুয়া, হাজীগঞ্জ, মতলব ও দাউদকান্দি এই চার উপজেলার অগণিত ক্রেতা ও বিক্রেতার সমাবেশ ছাড়াও প্রতিদিন যাতায়াতে শতশত মালবাহী ও যাত্রীবাহী নৌকার পাল উড়িয়ে দাঁড় এবং বৈঠা টানার মাঝি-মাল্লাদের গানের কলতানে মুখরিত রাখতো বোয়ালজুরী খাল এবং রঘুনাথপুরকে। রঘুনাথপুর হতে দুই কিলোমিটার দূরে বোয়ালজুরীর পশ্চিম তীরে শাসন খোলা গ্রাম। উল্লেখিত নির্মম ঘটনার পরে সেখানে অস্থায়ী মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের দায়িত্বে নিয়োজিত বি এল এফ কমান্ডার ওয়াহিদুর রহমান, এফ এফ কমান্ডার আব্দুর রশিদ পাঠান এবং বি এল এফ ডেপুটি কমান্ডার (অপারেশন) জাবের মিয়া পর্যায়ক্রমে তাদের বাহিনী পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন।

কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো, মুক্তিযোদ্ধারা হারিয়ে মৃত্যুর পরপারে চলে যাচ্ছে। অনেক চেনাজানা চেহারা রণাঙ্গনের সাথি আজ আমাদের মাঝে নেই, নেই বঙ্গবন্ধু সহ বড় বড় সংগ্রাম গুলিতে যারা জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে ছাত্র-যুবক এবং জনতাকে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিলেন।হয়তো আগামী দিনে আমরা অনেকেই থাকবো না। মৃত্যু আমাদের আলিঙ্গন করবেই। মৃত্যুর মিছিল দিনদিন ভারী হচ্ছে ।তাই মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে কচুয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে আকুল আবেদন,রঘুনাথপুর গণহত্যাসহ মুক্তিযুদ্ধকালীন কচুয়া উপজেলার প্রতিটি ঘটনা নিয়ে, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করে, নতুন প্রজন্ম সহ সাধারন মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সহ অনেক অজানা তথ্য জানাতে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সকল মানুষকে উজ্জীবিত করতে, কচুয়ার গণ মানুষের প্রান প্রিয় নেতা মাননীয় সংসদ সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর,চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মহোদয় ও উপজেলা প্রশাসন সহ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের পরীক্ষিত নেতৃত্ব দানকারীদের সহানুভূতির সহিত সহায়তা কামনা করছি।

লেখক পরিচিতি:
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মুক্তিযোদ্ধা মো: অানোয়ার হোসেন সিকদার,
সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কচুয়া উপজেলা এবং
সহ-সভাপতি, চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগ,
অন্যতম নেতা, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।

লেখক নিবেদনঃ লেখাটি স্মৃতিচারণ মূলক,কোন কোন ক্ষেত্রে ভূলভ্রান্তি থাকা অস্বাভাবিক নয়। সহ্রদয় পাঠকের যদি কোনো ভুল ভ্রান্তি চোখে পড়ে, জানালে বাধিত হবো।