কচুয়া উপজেলায় কতিপয় ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন খন্দকার মোশতাকের কেবেনিট সচিব কে নিয়ে কথা বলায় শাহজাহান শিশিরের বিরুদ্ধে মামলা,সাথে সাথে ওয়ারেন্ট- এডভোকেট মোঃ হেলাল উদ্দিন!মুক্তমত

কচুয়ারডাক নিউজ ডেস্কঃকচুয়া উপজেলায় কতিপয় ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন খন্দকার মোশতাকের কেবেনিট সচিব কে নিয়ে কথা বলায় শাহজাহান শিশিরের বিরুদ্ধে মামলা,সাথে সাথে ওয়ারেন্ট- এডভোকেট মোঃ হেলাল উদ্দিন!মুক্তমত।

প্রিয় কচুয়াবাসী আসসালামু আলাইকুম,অন্যদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সালাম ও শুভেচ্ছা।
দেশের এই মুহুর্তে আমি লিখতে চাইনি, অনেকটা বাধ্য হয়ে বিবেকের তাড়নায় কচুয়া বাসীকে সঠিক তথ্য গুলো জানানো প্রয়োজন মনে করে আপনাদের সদয়ে উপস্থাপন করছি।

গত দুই দিন কতিপয় ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন খন্দকার মোশতাকের কেবেনিট সচিব কে নিয়ে কথা বলায় শাহজাহান শিশিরের বিরুদ্ধে মামলা, সাথে সাথে ওয়ারেন্ট- এডভোকেট মোঃ হেলাল উদ্দিন

প্রশ্ন ০১. খুনি খন্দকার মোশতাকের কেবিনেট সচিব কে?

নাম জানতে চাই।

উত্তর জানা না থাকলে যেনে নিন l
১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট খন্দকার মোশতাক সরকার যে আদেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করেছিল এবং সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ ও এয়ারভাইস মার্শাল একে খন্দকার কে তাদের স্ব স্ব পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল, একই আদেশে বঙ্গবন্ধুর কেবিনেট সচিব এইচ টি ইমামকে কেবিনেট সচিবের পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

তবে খন্দকার মোশতাকের একই আদেশে অপসারিত প্রথম ২ জনের সাথে জনাব এইচ টি ইমামের প্রার্থক্য এই যে, তাদের দুই জনকে সান্তনা হিসেবে বিদেশে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হয়েছিল আর এইচ টি ইমামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ১৫ আগস্ট বিকাল বেলা বঙ্গবন্ধুর লাশের উপর দিয়ে বঙ্গভবনে যে শপথগ্রহন অনুষ্ঠান হয়েছিল, কেবিনেট ডিভিশনের পক্ষে সেটি সমন্বয় করেছিল শফিউল আজম যিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার কতৃক নিযুক্ত হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের চীফ সেক্রেটারী ছিলেন।

তাকে ১৫ আগস্ট বিকেলে সেক্রেটারি জেনারেল নামক একটি পদ দিয়ে তার মাধ্যমেই এ কাজের সমন্বয় করা হয়েছিল l এই ধরণের পদ তার আগে – পরে কখনোই ছিল না l ২৪ আগস্টের আনুষ্ঠানিক আদেশে তাকেই খন্দকার মোশতাকের কেবিনেট সচিব করা হয়েছিল। আর এইচ টি ইমাম খন্দকার মোশতাক ও জিয়ার রহমানের শাসন আমলে ৩ বছর এক টানা কারাগারে ছিলেন। যিনি ১৯৭১ সালের জুন থেকে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ পর্যন্ত সচিবের সর্বোচ্চ পদ কেবিনেট সচিব ছিলেন, তাকে প্রায় ১০ বছরের অধিক সময় খন্দকার মোশতাক, জিয়াউর রহমান, এরশাদের শাসন আমলে শাস্তি হিসেবে নিম্নতর পদে রাখা হয়। তার মধ্যে প্রথম ৩ বছর তিনি সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন( জেলে থাকা কালে) l

এ সকল কারনেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জনাব এইচ টি ইমামকে পূর্ণ মন্ত্রীর পদ মর্যাদায় তিন মেয়াদে তার উপদেষ্টা নিয়োগ করেছেন এবং সর্বাধিক তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দলের নির্বাচনী কো- চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেছেন।বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার চেয়ে কেউ বেশি বঙ্গবন্ধু প্রেমী হওয়ার চেস্টা করবেন না। এ চরিত্র খন্দকার মোশতাকের চরিত্র।

১৫ আগস্ট নিয়ে এ বিতর্ক বিএনপি জামায়াতে সৃষ্ট বিতর্ক। এইচ টি ইমামকে টার্গেট করেছে বিএনপি-জামায়াত l কারণ প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আর এইচ টি ইমামের কো -চেয়ারম্যানশীপে পর পর ৩ টি নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিশাল জয় পেয়েছে l

এ কারনে বিএনপি -জামায়াত আওয়ামী লীগকে গায়েল করার জন্য এইচ টি ইমামকে বিতর্কিত করতে চায়। নির্বাচনী কো চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামকে বিতর্কিত করতে পারলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী টিম টা কে বিতর্কিত করা যায় l

এটি বিএনপি জামায়াতের অনেক পুরনো খেলা। ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া কুমিল্লার এক জনসভায় এইচ টি ইমাম সম্পর্কে একই অভিযোগ করেছে l লন্ডনে তারেক জিয়া একাধিক বার এইচটি ইমাম সম্পর্কে একই কথা বলেছেন l

তাহলে বিএনপির এজেন্ট হিসেবে আওয়ামী লীগের ভিতরে কারা কারা কাজ করছে? বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কে এতটা বোকা ভাবা ঠিক না l তিনি একজন অবিশ্বস্ত লোককে পর পর ৩ টি জাতীয় নির্বাচনের কো-চেয়ারম্যান করবেন?তাদের এই অপপ্রচার জননেত্রী শেখ হাসিনার মেধা, প্রজ্ঞা, দূরদৃষ্টি ও ভাবমূর্তি কে ক্ষুন্ন করে। এ সকল এজেন্টদের মুখোশ আস্তে আস্তে উন্মোচিত হচ্ছে। এ ধরনের মিথ্যাচার ও ইতিহাস বিকৃতি কেবলমাত্র জিয়া, ডালিম গংগদের অনুসারীদের পক্ষে সম্ভব।

প্রশ্ন ০২۔ মামলা কোথায় ? ওয়ারেন্ট কোথায় ?

মামলা হয়েছে এবং সাথে সাথে ওয়ারেন্ট জারী হয়েছে – এ মিথ্যা প্রচারণা কেন? যদি কারো বিরুদ্ধ ওয়ারেন্ট ইস্যু/ জারী হয়, সেই ওয়ারেন্ট তো সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইস্যু করবে। তাহলে এই অপপ্রচার কী সরকারের বিরুদ্ধে নয় ? দলের বিরুদ্ধে নয় ? মামলা নিয়ে এতো ভয় কেন ? এখন তো অন্য দল ক্ষমতায় নেই l তাহলে এতো ভয় কেন ? মামলা হলেই কী জেলে যেতে হয়? কিসের এতো ভয় ? নাকি পর্দার আড়ালে অন্য কোনো বিষয় আছে যা নিয়ে এতো ভয় আর আশংকা ?

মিথ্যাচার ও অপ্রপচারের রাজনীতি আর কত দিন ? মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে তথাকথিত রাজনীতি করছেন বলেই কিছু দিন পর পর বিপদে পরে মানুষের হাতে পায়ে ধরতে হয়, আর কান্না- কাটির অভিনয় করতে হয় l
৮১টি ভোট কেন্দ্রে হারার পর কয়েকটি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট জালিয়াতি করে চেয়ারম্যান হয়েছেন- চোরের মার বড়ো গলা l

ড۔মহীউদ্দীন খান আলমগীরের পক্ষ হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানে গোলাম হোসেনের গাড়ির বহরে হামলা করেছেন কার স্বার্থে ? ড۔ আলমগীর কী আপনাকে হামলা করতে বলেছিলেন? কার এজেন্ট হিসেবে সেদিন এই অপকর্ম গুলো করেছিলেন ? এটি আর কারো বুঝতে বাকি নেই যে, আপনি তখন গোলাম হোসেনের এজেন্ট হিসেবেই কাজ করেছেন l কারণ এই কাজ গুলো করলে মহীউদ্দিন খান আলমগীর সাহেব জাতীয় পর্যায়ে বিতর্কিত হবেন l গোলাম হোসেন মনোনয়ন পাবে আর আপনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্র দখল করে এমপি হবেন l আপনার ধারণা ছিল ড۔ আলমগীর মনোনয়ন পাবেন না l উনি মনোনয়ন পাওয়ায় আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি l

এখন আপনি গোলাম হোসেনের সাথে কেন ঐক্য করেছেন, সেটা আমাদের জানা আছে l আপনি জানেন, গোলাম হোসেন রাজনীতির লোক না, দুই দিন পর গোলাম হোসেন কে আউট করা যাবে l তাই গোলাম হোসেনের সাথে ঐক্য করলে আপনি এর সুবিধাটা পাবেন l কারণ আপনি গোলাম হোসেনের টাকায় নিজের রাজনীতিটা

করতে পারবেন l সেই জন্যই গোলাম হোসেনের সাথে আপনি যুক্ত হয়েছেন l

আর গোলাম হোসেন মনে করেছে, এই শিশিরই তো ওই সময়ে আলমগীর সাহেবের পক্ষে আমাকে পর্দার আড়ালে আমি যেভাবে বলেছি,যেভাবে চেয়েছি সেভাবে ডিসটার্ব করেছিল যাতে আমি সারাদেশে আলোচিত হই এবং মহীউদ্দীন খান আলমগীর বির্তকিত হয় l সুতরাং শিশির আমার পক্ষে থাকলে তো আমার আর কোনো অসুবিধা হবে না l এই শিশির যে ৮১ টি ভোট কেন্দ্রে হেরে বসে আছে, এটা কী গোলাম হোসেন জানে না ? তাঁর যে কোনো রাজনৈতিক পদ নেই, সেটা কী তিনি জানেন না ? ফেসবুকে তার প্রোফাইলে পরিচয় লিখেছে আওয়ামী লীগের সহ সম্পাদক l ২০১৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগে সহ সম্পাদক হিসেবে কাউকে নিযুক্ত করা হয় নি l গত সম্মেলনে এই পদটি বিলুপ্ত করা হয়েছে l তারপরও গত পাঁচ বছর ধরে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে আসছে এই শিশির l উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছে, উপজেলা পরিষদ বানান টাও ফেসবুকে সঠিকভাবে লিখতে পারে না l গোলাম হোসেন সাহেব কী এগুলো জানেন? গোলাম হোসেন সাহেব কী জানেন, শিশির মূলত তার রাজনীতি করে এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছে ?

উপজেলা নির্বাচনের মনোনয়নের আগে শিশির আপনি ঢাকায় গিয়েছিলেন ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ অফিসে ড۔ সেলিম মাহমুদের কাছে ক্ষমা চাইতে l আপনি তাঁকে পরিষ্কার ভাবে বলেছিলেন তিনি যেন অন্যদের কথা শুনে তাঁকে ভুল না বুঝেন l আপনি এটাও বলেছিলেন, আপনার মেয়ে আপনাকে বলেছে , বাবা আমাদের উপজেলা চেয়ারম্যানের একটা গাড়ি থাকলেই চলবে l এমপি হওয়ার দরকার নেই l’ আপনি ড۔ সেলিম কে সরাসরি বলেছিলেন, আপনার এমপি হওয়ার কোনো স্বপ্ন নেই l উনি যেন আপনাকে ভুল না বুঝেন l

তারপর উপজেলা নির্বাচনের আগে আপনি ও আপনার স্ত্রী আলাদাভাবে ধানমন্ডি অফিসে গিয়েছিলেন ওনার আশীর্বাদের জন্য l আপনি ও আপনার স্ত্রী দুজনেই তখন ড۔ সেলিম কে বলেছিলেন যে, আপনাকে নির্বাচনে হারানোর জন্য ড۔ আলমগীর বিএনপির এহসানুল হক মিলনের সাথে আঁতাত করেছে l আপনারা ড۔ সেলিমের সাহায্য চাইলেন এই বিষয়ে l সেই কথাগুলো আপনি ভুলে গেছেন ?

শিশির আপনি একজন ইউপি চেয়ারম্যান কে অনুরোধ করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব যাতে ড۔ সেলিম কে আপনার ব্যাপারে বুঝিয়ে শুনিয়ে নমনীয় করেন l ড۔ সেলিমের উত্তর কী ছিল আপনি নিশ্চয়ই তাদের কাছ থেকে শুনেছেন l

বাংলদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তার নিজের উপজেলা কচুয়ায় কম্বল বিতরন করতে যাবে – সেই জন্য আপনি এমপি সাহেবকে ফোন করেছিলেন এ বিষয়ে তার করণীয় কিছু আছে কিনা l আপনি কী করতে চেয়েছিলেন ? বাধা কিংবা হামলা ? ভুলে যাবেন না এটা অরাজনৈতিক গোলাম হোসেন না l এ ধরণের কিছু করার চেষ্টা যদি আপনি ওই সময়ে করতেন, তাহলে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো l

আপনার সমন্বয়ে গোলাম হোসেনের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে তাঁর কলেজে যে প্রোগ্রাম করা হলো সেটা ফ্লপ হলো কেন ? পাঁচ এমপি আর দশ আওয়ামী লীগ নেতা কেন ওই প্রোগ্রাম বয়কট করলো ? ড. সেলিমের বিরুদ্ধে আপনি ড.আলমগীর এবং গোলাম হোসেনের মধ্যে যে ঐক্য করে দিলেন তার ফলাফল কী ?

আপনার এই নোংরা রাজনীতি কচুয়ায় আর চলবে না l শেখ হাসিনার এই ডিজিটাল বাংলাদেশে ইতিহাস বিকৃতি, মিথ্যাচার আর প্রতারণার রাজনীতি চলবে না l সবাই এখন স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে এবং সব জায়গায় সি সি ক্যামেরা ও আছে l

সবশেষে, এই করোনা ভাইরাস কে মোকাবিলা করে বেঁচে থাকুক এই দেশের মানুষ, বেঁচে থাকুক এবং সুস্থ থাকুক কচুয়ার মানুষ।

-অ্যাডভোকেট মোঃ হেলাল উদ্দীন,
সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ কচুয়া চাঁদপুর,
সাবেক ছাত্র ও যুব নেতা।