কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতীতে গোলাম হোসেন সেলিম মহামুদরা আশার আলো নাকি অভিশাপ-বিশ্লেষণ!

কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ রাজনীতীতে গোলাম হোসেন সেলিম মহামুদরা আশার আলো নাকি অভিশাপ!

‘এখন আমি আ.লীগের হাতেই নিরাপদ নই’ চাঁদপুর শহরে সংবাদ সম্মেলনে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন!

আওয়ামী লীগ করে এখন আমি আওয়ামী লীগের হাতেই নিরাপদ নই। আমি এবং আমার লোকজন আমার প্রতিপক্ষ চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তাঁর লোকজনের বিভিন্ন হামলা ও ষড়যন্ত্রের শিকার। গত এক বছরে তাদের একাধিক হামলায় আমার ৩০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আমার লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় অন্তত ১০টি মিথ্যা মামলা করা হয়।’

কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন। গতকাল শুক্রবার রাতে চাঁদপুর শহরের এক চায়নিজ রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

আগামী সংসদ নির্বাচনে মো. গোলাম হোসেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী—এ কথা বলেন গোলাম হোসেন। তিনি বলেন, এ জন্য নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে বারবার বাধা ও হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন।

গোলাম হোসেন বলেন, ‘আমি আগামীকাল রোববার কচুয়া থেকে পাঁচ হাজার লোক নিয়ে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যোগ দেব বলে নানাভাবে আমাকে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টির পাঁয়তারা শুরু করেছে। আমাকে কচুয়া থেকে কোনো বাস, গাড়ি, সিএনজি, এমনকি রিকশা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে আমি পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা ও লাকসাম থেকে ১৩০টি বাস ও ৩০টি পিকআপ ভাড়া করেছি।’

গোলাম হোসেন জানান, এসব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়ে তিনি গতকালও স্থানীয় পুলিশ সুপার ও কচুয়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান ওরফে হাতেমসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সাংসদ মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে ফোন করলে তিনি ধরেননি। গতকাল এবং আজ শনিবার সকালে ফোন করলেও তিনি ধরেননি। তবে কচুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক যুবলীগ আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন বলেন, গোলাম হোসেন সাংসদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ, গোলাম হোসেন মনোনয়ন পেতে দলের কিছু লোক ও এলাকার লোকজনকে বিভ্রান্ত করছেন। এতে তিনি কখনোই মনোনয়ন পাবেন না। আর পেলেও কোনো দিন এই আসনে সাংসদ হতে পারবেন না।

এ ব্যাপারে কচুয়া থানার ওসি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, এখানে আওয়ামী লীগ অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা আছে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে কারও কোনো সমস্যা নেই। প্রথম আলো  ৩১ মার্চ ২০১৮, ১১:৫২

 

ড.সেলিম মাহমুদ দলের দায়িত্বশীল ব্যাক্তি হিসেবে স্বাক্ষরিত চিঠিতে সাংসদ হলেন পাপুল!

রাজনীতিতে পোড়খাওয়া প্রবীণ নেতারা এমপি হতে না পারলেও হঠাৎ বিদেশ থেকে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসেই’ হয়ে গেছেন বাংলাদেশের আইন প্রণেতা বা জাতীয় সংসদ সদস্য। শুধু কী তাই? এই ‘এমপি’র স্ত্রীর শখ পূরণে তাকেও সংসদে এনেছেন একই পথে। ‘দলবিহীন’ স্বামী-স্ত্রী এমপি হতে অবশ্য ‘কোটি-কোটি’ টাকা লগ্নি করতে হয়েছে বলে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল।

এ হলো লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল ও সেলিনা ইসলাম দম্পত্তির ঘটনা।

কুয়েতে অর্থ ও মানব পাচার মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পুলিশের হাতে আটক ও রিমান্ডে থাকা বাংলাদেশের আইন প্রণেতা পাপুল এখন বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচনায় এসেছেন। অর্থ ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে বিশ্ব যখন এক অভিন্ন সুরে কথা বলছে, তখন অভিযুক্ত বাংলাদেশের একজন আইন প্রণেতার কারণে দেশের মাথা নত হয়ে আসছে। এমপি হওয়ায় তিন বছর আগেও যাকে কখনো এলাকায় দেখা যায়নি, একদিনও রাজপথে মিছিল মিটিং করতে হয়নি-সেই ব্যক্তি ও স্ত্রীর এমপি হওয়া যেন রূপকথার গল্পের মতোই।

লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এমনই সব তথ্যই পাওয়া গেছে।জানা গেছে, জন্মের পর পাপুলের বেড়ে ওঠা ঢাকা ও চট্টগ্রামে। ১৯৯২ সালে তার ভাই বিএনপি নেতা কাজী মঞ্জুরুল আলমের হাত ধরেই মরুভূমির দেশ কুয়েতে পাড়ি জমান তিনি। মরুর বুকে গড়ে তোলেন টাকার পাহাড়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দেড়-দুই বছর আগে ২০১৬ সালে লক্ষ্মীপুরে আবির্ভূত হন কাজী পাপুল।

স্থানীয় একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেন এলাকায় জনসেবা করতে এসেছেন তিনি। নিজে মুখেই বলেন, ‘জন্মের পর প্রথম এসেছি। রায়পুরকে জেলায় রূপান্তরিত করতে চাই। ’ এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জামশেদ কবিরের হাত ধরে দান-খয়রাত শুরু করেন। স্থানীয় কিছু নেতা ও যুবকদের মোটরসাইকেল কিনে দিয়ে নিজের দলভারী করেন

কথায় কথায় টাকা পয়সা ঢেলে এলাকায় অল্প দিনে মানবতার সেবক বনে যান।

২০১৮ সালে তিনি লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে বিশাল শোডাউন করে ধানমন্ডি দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। আর তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম সিআইপি নৌকা পেতে কুমিল্লা-১ (মেঘনা-দাউদকান্দি) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় দুজনই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হন। লক্ষ্মীপুর-২ আসনটি আওয়ামী লীগ মহাজোট প্রার্থীকে ছেড়ে দেয়। মহাজোটের প্রার্থী করা হয় জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ নোমানকে। আর কুমিল্লা-২ আসনে নৌকার টিকিট পান প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুবিদ আলী ভুঁইয়া। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও ‘এমপি’ হওয়ার দৌড়ে থেমে থাকেননি পাপুল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তিনি। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা-কর্মী মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। পাপুলের শখের ‘এমপি’ হতে বাধা হয়ে দাঁড়ান জাতীয় পার্টির নোমান। তার সঙ্গে সমাঝোতার চেষ্টা করেন পাপুল। অবশেষে সফল হন। ১৯ ডিসেম্বর হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বিজ্ঞপ্তি’ দিয়ে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিজ্ঞপ্তিতে তিনি নিজ দল জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, লক্ষ্য নির্ধারণে অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয় ও সিদ্ধান্তহীনতা এবং মহাজোটের স্বতন্ত্র প্রার্থী পাপুলের (আপেল প্রতীক) নির্বাচনে বহাল থাকার কথা উল্লেখ করেন নোমান।   ওই সময়ে ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়। চিঠিতে লেখা হয়, ‘আপনারা সদয় অবগত আছেন যে, লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসন ২৭৫ এর মহাজোট মনোনীত প্রার্থী মো. নোমান মহাজোটের বৃহত্তর স্বার্থে আওয়ামী লীগ দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শহীদ ইসলামের সমর্থনে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। আপনাদের জানা আছে যে, মো. শহীদ ইসলাম আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত নেতা ও সক্রিয় কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বৃহত্তর স্বার্থে এই আসনের বিজয় দলের পক্ষে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই লক্ষে মো. শহীদ ইসলামকে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে নির্বাচন কমিশনকৃত তার প্রতীকে বিজয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ অতীব জরুরি। এই মর্মে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের শহীদ ইসলামকে সমর্থন প্রদানের জন্য আপনারা নিদের্শ দিতে পারেন। এই বিষয়ে আপনাদের সর্বত্মক সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। ’ দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যানের পক্ষে চিঠি স্বাক্ষর করেন সমন্বয়ক ড. সেলিম মাহমুদ। সেলিম মাহমুদ বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক।

এরপর ২২ ডিসেম্বর শহরের তাজমহল সিনেমা হলের সামনে দলের জরুরি সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু প্রকাশ্যে বলেন, ‘বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নোমান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। …অনেক টাকা, অনেক টাকা। ’ তার এই বক্তব্য নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সভায় নেতাদের মধ্যে বিতন্ডা ও হাতাহাতিও হয়।

তখনকার জাপা দলীয় এমপি নোমানের ব্যক্তিগত সহকারী শাহ আলম নিজেও তখন গণমাধ্যমের কাছে বলেছিলেন, ‘পাপুলের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা নিয়ে তিনি (নোমান) সরে দাঁড়িয়েছেন বলে আমরা শুনেছি। তবে ওনাকে (নোমানকে) কয়েক দিন ধরে ফোনেও আমরা পাচ্ছি না। ’ আর পাপুল তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘গত আড়াই বছরে আমি এলাকায় বিপুল কাজ করেছি। প্রায় ৩২ কোটি টাকা মানবসেবায় খরচ করেছি। ’ নোমানের সঙ্গে টাকার লেনদেনের বিষয়ে পাপুল তখন বলেছিলেন, ‘উনি ফাইন্যান্সিয়ালি (আর্থিকভাবে) দুর্বল। নির্বাচনে থাকলে বড়জোর ৫ হাজার ভোট পেতেন। এসব বুঝেই উনি সরে দাঁড়ান। এখানে লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি। ’

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, দলীয় এমপি প্রার্থী ঠিক করা বা মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষর করে থাকেন। কিন্তু আদম ব্যবসায়ী পাপুলের ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। সূত্রটির দাবি, এজন্য নানা রকম কল্পকাহিনী দলের ভিতরে-বাইরে আলোচনা আছে। এক-দুজন প্রভাবশালী নেতা পাপুলকে আওয়ামী লীগের ফ্লেভার দিয়ে ‘দলহীন’ ব্যক্তিকে এমপি বানিয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পাঠানোর চিঠি পেয়ে আওয়ামী লীগের সব শ্রেণির নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাপুলের বিজয় নিশ্চিত করেন। এ হলো পাপুলের এমপি হওয়ার গল্প।

নিজের স্বপ্ন পূরণ হলেও নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত স্ত্রী সেলিনা ইসলামকে সংসদে আনার মিশনে নামেন হঠাৎ এমপি হওয়া পাপুল। প্রথমে স্বতন্ত্র কোটায় এমপি করার মিশনে নামেন তিনি। বর্তমান সংসদে তিনজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য থাকায় কিছুটা হোঁচট খান। কারণ সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে হলে ছয়জন এমপির ভোট প্রয়োজন হয়। সে সময়ে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার পরামর্শে এমপিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন পাপুল। এবারও তার সাফল্য হাতে ধরা দেয়। বউকে এমপি বানাতে তার স্বপ্ন পূরণ হয়। এতে অবশ্য কোটি কোটি টাকার খরচ করতে হয়েছে বলেও পাপুলের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে অবৈধ ভিসা ব্যবসার দায়ে পাপুলের বিরুদ্ধে কুয়েত সিআইডি রিপোর্ট করলে গা ঢাকা দিতে দেশে ফিরে আসেন তিনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তখন খবর আসে ‘কুয়েত থেকে লাপাত্তা পাপুল। ’ এবার তিনি করোনার মধ্যেই কুয়েত ফিরে নিজেকে জাহির করতে ৯ মার্চ ফেসবুক লাইভে আসেন এবং সেখানে দম্ভ নিয়ে বলেন, ‘আমি কাচের পাহাড় তৈরি করিনি, আমি পাথরের পাহাড় তৈরি করেছি… এটা ভাঙবে না, কেউ ভাঙতে পারবে না। ’ গত শনিবার রাতে তিনি কুয়েত সিআইডি পুলিশের হাতে আটক হয়ে রিমান্ডে রয়েছেন। বিষয়টি শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্ব মিডিয়ায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের একজন আইন প্রণেতার অর্থ ও মানব পাচারের ঘৃণ্য অপরাধটির।

এ প্রসঙ্গে লক্ষীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সফিকুল ইসলাম পিন্টু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এমপি পাপুল কান্ডে আমরা লক্ষ্মীপুরের মানুষসহ সারা দেশের মানুষ এখন বিস্মিত ও লজ্জিত। আমাদের দেশ ও প্রিয় জেলা এখন আন্তর্জাতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছে। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় এক-দুজন প্রভাবশালী নেতাকে ম্যানেজ করার মাধ্যমে এমপি হন পাপুল। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, আমিসহ প্রায় ১৮ জন ওই আসনে নৌকা পেতে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করি। কিন্তু এখানে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির নোমানকে প্রার্থী করা হয়। আমরা সবাই মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ শুরু করি। কিন্তু ২২ ডিসেম্বর তৎকালীন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ড. সেলিম মাহমুদ স্বাক্ষরিত জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগকে চিঠি পাঠান স্বতন্ত্র প্রার্থী পাপুলের পক্ষে কাজ করার জন্য। মহাজোট প্রার্থী বসে যাওয়ায় ধানের শীষ ঠেকাতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে পাপুলকে বিজয়ী করি। এখন পত্রিকা ও টিভি পাপুলের গ্রেফতার সংবাদ দেখছি ও পড়ছি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলছি। তারা বলছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে এবং বক্তব্য দেবে। আমরা সেই অপেক্ষায় আছি।   এ প্রসঙ্গে রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র ইসমাইল হোসেন খোকন বলেন, ৩ বছর আগে রায়পুরে এসে প্রচুর টাকা খরচ করেন অঢেল টাকার মালিক পাপুল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে যখন জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নোমানকে মনোনয়ন দেওয়া হলে, আমরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সবাই যথারীতি নোমানের পক্ষে কাজ শুরু করি। পাপুল তখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। হঠাৎ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে মহাজোট প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে লাপাত্তা হন। এরপর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে দলীয় নেতা-কর্মীরা সবাই তার ভোট করে এমপি নির্বাচিত করেন। নির্বাচনের আগে তিনি প্রচুর টাকা খরচ করলেও নির্বাচনের পর তিনি এলাকায় অনিয়মিত হয়ে পড়েন। মাঝে মধ্যে এলাকায় আসতেন। নির্বাচিত হয়ে দলের নেতা-কর্মীদের বিভক্তি করার চেষ্টাসহ নিজস্ব বলয় তৈরি করার চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এ এফ জসীম উদ্দিন আহমদ বলেন, সারা দেশ যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমরা পিছিয়ে পড়ছি। রাজনীতিবিদ না হয়েও পাপুল এমপি হওয়া এটি স্থানীয় নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দেওলিয়াপনারই বহিঃপ্রকাশ বলে আমি মনে করি।

স্ত্রী কন্যা শ্যালিকাসহ এমপি পাপুলের তথ্য চেয়ে দুদকের চিঠি : অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার হওয়া লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ দূত মারফত পাঠানো চিঠি গ্রহণ করেছেন পাপুলের স্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের চিঠি দেওয়া হয়নি বরং বিভিন্ন তথ্য চেয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা কমিশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন চিঠি দিয়েছেন। দুদক সূত্র জানায়, পাপুল, তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার বিস্তারিত নাম-ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট নম্বরসহ যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, পরিবর্তিত ও অপরিবর্তিত ঠিকানা দিতে বলা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, হুন্ডি ব্যবসা ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

গত শনিবার রাতে কুয়েতের মুশরিফ আবাসিক এলাকার বাসা থেকে পাপুলকে গ্রেফতার করে কুয়েত সিআইডি। রবিবার তাকে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। সোমবার তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় কুয়েতের আদালত। কুয়েতে মুদ্রা ও মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কুয়েতি আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তারই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী ৫ বাংলাদেশি। সাক্ষীদের সবাইকে কুয়েতে নিয়েছিলেন পাপুল। কুয়েতি আদালতকে তারা বলেন, ‘কুয়েত আসার জন্য তারা পাপুলকে তিন হাজার কুয়েতি দিনার করে দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রতি বছর আকামা নবায়নের জন্য দিয়েছেন ৩০০ দিনার বা তারও বেশি।

বাংলাদেশ প্রতিদিন ১০/০৬/২০২০

কচুয়া উপজেলায় গত ১৯/০৭/২০ ইং তারিখের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কে কেন্দ্র করে মামলা বিচারধীন থাকা অবস্থায় তদন্তের স্বার্থে দুই দুই বারে জনপ্রিয় নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির সাময়িকভাবে বরখাস্ত হন!
কচুয়ারডাক তাৎক্ষনিক লাইভে নির্বাহী অফিসার কাজের নিম্মমানের জন্য ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা না নেয়ায় দেশ-বিদেশ থেকে আলোচকগন সমালোচনা করেন,লাইভে এই পর্যন্ত শত শত কমেন্ট ও ৫০হাজারের ও অধিক ভিউয়ার হয়, আলোচকগন প্রবাসী গাজী হাসান রানার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ডিজিটাল আইনে মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নির্বাহী অফিসারকে মামলাটি প্রত্যাহার করে তার পরিবারকে হয়রানি না করতে থানা কর্মকর্তাকে লাইভে অনুরোধ জানান।অন্যাথায় মামলাটি প্রত্যাহার করা না হলে আসামীর ন্যায়বিচারের জন্য তদন্তের স্বার্থে মামলার বাদী(পক্ষে অধঃস্তন স্টাফ) নির্বাহী অফিসারকে প্রত্যাহার চেয়ে ইউরোপ,মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় অবস্থিত কচুয়ার প্রবাসীগন কচুয়ার স্থানীয় সাংসদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
রেমিটেন্স যোদ্ধার ডিজিটাল আইনে মামলাটি প্রত্যাহার করা না হলে কচুয়া উপজেলার প্রবাসীরা বিভিন্ন দেশ থেকে গাজী হাসান রানার ন্যায় বিচারের জন্য বাদী (পক্ষে অধঃস্তন স্টাফ) উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে জরুরীভাবে প্রত্যাহার করে নেয়া এই মুহূর্তে প্রয়োজন আছে বলে আপনি মনে করছেন কি?

আইন কি শুধু সাধারন জনগনের জন্য, প্রশাসনের জন্যও কিছু আইন রয়েছে এই স্বাধীন দেশে ?

”Administrative law plays a vital role in determining the law and order in Bangladesh. Bangladesh administrative law is an important means of ensuring democracy. Through administrative law the citizen of Bangladesh can claim for remedy if they feel the administrative organs are not serving them properly and their rights have been violated by them ”

কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতীতে গোলাম হোসেন সেলিম মহামুদরা কি রেমিটেন্স যোদ্ধা গাজী হাসান রানা ও তার পরিবারের আর্তনাদ শোনতে পান না, না কোন বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য তিনারা শান্ত কচুয়াকে অশান্ত করার কলকাঠি নাড়ছেন পর্দার আড়াল থেকে, তাদের রাজনীনিতি যদি কচুয়ার গন-মানুষের জন্য হয় অবশ্যই রেমিটেন্স যোদ্ধা গাজী হাসান রানা ও তার পরিবারের আর্তনাদ তাদের শোনতে হবে? অন্যথায় এক শিশির নয় কচুয়ার সহস্র শিশির আগামীতে আপনাদের কে ক্ষমা করবে না, কারন আপনাদের আমল নামাও সেই গণভবন থেকে শুরু করে গন মাধ্যম ও কচুয়ার জনগণের হাতে রয়েছে!