কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরের প্রতিবাদ ছিল রাস্ট্রের অর্থ অপচয় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের চিঠিতে ভুত-পেত্নীর আঁচড় রয়েছে!

কচুয়ারডাক ডেস্কঃ কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরের প্রতিবাদ ছিল রাস্ট্রের অর্থ অপচয় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ,সরকারের বিরুদ্ধে নয়, রাস্ট্রবাদী মামলার ধারা কিংবা রাষ্ট্র বিরোধী কোন মামলা জনাব শাহজাহান শিশিরের বিরুদ্ধে কিন্তু নেই তা স্পস্টতঃ, অপ-প্রচারকারীদের প্রতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি!

দেশে থাকাকালীন সময়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনে দেখেছি, বিভিন্ন অনিয়মে ও অসাধু ব্যাক্তিরাই রাস্ট্রের বিভিন্ন দপ্তরে অসাধুউপায় অবলম্বন করে রাস্ট্রকে দায়ী করে পক্ষে বিপক্ষে মামলা করে ফায়দা হাসিল করেন, অন্যদিকে প্রায় ৯০% মামলাই বিবাদী/আসামীরা রাস্ট্রের বিরুদ্ধে গিয়ে আদালত থেকে ন্যায়বিচার পেয়ে জয় লাভ করতে দেখেছি, তার কারন রাষ্ট্র পক্ষের দুর্বল সাক্ষ্য প্রমাণ, যদিও স্পর্শকাতর মামালার ক্ষেত্রে রাস্ট্র পক্ষ চাইলে আপীল করার বিধান রয়েছে !

কোন ব্যাক্তি বা ঘোস্টির কাছে রাস্ট্র ও তার আদলত অসহায় নয়, বরং রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যাবহার করে যারা অসাধুউপায়ে লিপ্ত রয়েছেন, তারাই সমাজে সবচেয়ে বড় অপরাধী এবং তারা ইতিহাসে আস্তাকূড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন!

আইন আদালত কিন্তু রাস্ট্র কিংবা ব্যাক্তি বুঝে না বা ছেনে না, আদালতের বিচারকরা তাদের শপথ অনুযায়ী ন্যায়বিচারের জন্য একমাত্র আল্লাহর কাছেই জবাব দিহি করবেন অন্য কোথাও নয়, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ এখন আগের বিভিন্ন আমলের চেয়ে অনেক স্বাধীন।

রাস্ট্র ও ব্যাক্তি বিশেষদের জন্য আইন ও আদালতের অপব্যাখ্যা দেয়ার সুজুগ নেই, তাতে সরকার আইন ও আদালত নিয়ে সমাজে বিরুপ মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে! আইন ও আদালতের কাছে রাস্ট্র ও ব্যাক্তি সবাই সমান, জনাব শাহজাহান শিশির আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই আত্মসমর্পণ করেছেন।

আমি অতীতে লিখেছি সাংসদ মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাজা বহাল থাকা অবস্থায় ১৪ বছরের সাজা নিয়েই তিনি ২০০৮ এর নির্বাচন করে জয় লাভ করেন, অতঃপর উচ্চ আদালত থেকে খালাস পান ও পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীও হন, লোটাস কামালও আজ অর্থ মন্ত্রী, আ ন ম এহসানুল হক মিলনের বিরুদ্ধেও প্রায় ৪০টি মামলা, মামলাবাজদের বাদী হাজির না থাকায় অধিকাংশ মামলা এখন প্রত্যাহার হচ্ছে, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ শাহাদাৎ ও মামলার হাজিরা দিচ্ছেন, আরো অনেকেই সরকারি দল ও বিরোধীদলের নেতা কর্মীরা বিভিন্ন হয়রানি মূলক মামলার হাজিরা দিচ্ছেন ।

কোয়া চাঁদপুর গ্রামের ভাইস-চেয়ারম্যানের পরিবারকে এলাকার মানুষ খুনি পরিবার হিসেবে জানে এবং ছেনে, তার বড় ভাই কাউন্সিলর মামুন খুনের দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন ও মামলা বিচারাধীন, সাজা বহাল থেকেও গত পৌরসভা নির্বাচনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হয়েছেন, কেউ উচ্চ আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন, কেউ বিচারের অপেক্ষায় আছেন, উপজেলায় মামলা হামলা জেল সাজা এসব রাজনীতিবিদদের জন্য নতুন কিছু নয়,

উপজেলা চেয়ারম্যান ন্যায়বিচার পেয়েই এসব ছেঁচড়া মামলা থেকে বের হয়ে আসবেন, তা সময়ের ব্যাপার মাত্র ভক্তরা শান্ত থেকেই অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারেন।

কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ খুবই দুর্বল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছি, স্থানীয় সরকারের চিঠি কোন ভূত-পেত্নীর আছড় ধারা প্রভাবিত হয়ে লিখেছেন বলে মনে হচ্ছে, ভিডিও ফুটেজ আর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ভিডিও সাক্ষাতকার ও চিঠিতে অনেক অমিল রয়েছে, তাছাড়া মামলার বিচার এখনো শুরু হয়নি।

সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে কমেন্ট যার বিরুদ্ধে, এই টি ইমাম নিজেই জানেন না এই মামলার বিষয়, উপজেলার কথিত মামলাবাজরাই হীন স্বার্থ হাসিলের জন্য উক্ত মামলা করেছেন,এসব থেকে খুব সহজেই তিনি মুক্তি পাবেন।

পরিশেষে উপজেলা চেয়ারম্যান আইনি লড়াই শেষে উপজেলায় স্বপদে পুনরায় ফিরে আসবেন, তাতে কোন সন্দেহ নেই, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী তিনিই একমাত্র কচুয়া উপজেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, অন্যথায় রাজপথেই আন্দোলন সংগ্রাম, কারন রাজপথ কখনো বেঈমানি করে না। সাধু সাবধান!

লেখক সাবেক সরকারী আইনজীবী প্রশাসনিক ট্রাইবুন্যাল ঢাকা, অন্যতম রুপকার ও প্রস্তাবক ড.মহীউদ্দিন খান আলমগীর মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ ও আইনজীবী ১/১১, সম্পাদক কচুয়ারডাক।

কচুয়ারডাক মুক্তমত-  kachuardak@gmail.com