কচুয়া উপজেলা ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের একদিন আগে পরে সাংবাদিক সম্মেলন,মত ও আদর্শ ভিন্ন হলেও উভয় পক্ষই পাতানো কমিটির জন্য তাদের সাংঘঠনিক জেলা কমিটিকেই দোষারোপ করছেন!

কচুয়ারডাক বিশেষ প্রতিবেদনঃকচুয়ায় ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র না মেনে চলমান কমিটির মেয়াদ থাকা সত্বেও কোন ধরনের কারণ দর্শানো ছাড়াই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ৩টি কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষণা দেয়ার প্রতিবাদে পদ বঞ্চিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

২৬ ডিসেম্বর রোববার দুপুরে কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে পদ বঞ্চিত ২নং পাথৈর,৩নং বিতারা ও ১২ নং আশরাফপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যৌথ ভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক ভৌমিকের সভাপতিত্বে ও সাবেক সাধোরণ সম্পাদক জিসান আহমেদ নান্নু’র পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, আশ্রাফপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি বেলায়াত হোসেন রিপন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,মেয়াদ উত্তীর্ন কচুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটি গঠনতন্ত্র না মেনে বিবাহিত, অছাত্র,জামাত-বিএনপি’র সমর্থিত ও বিতর্কিত নেতার্কীদের দিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে মনগড়া ভাবে নতুন ইউনিয়ন আহবায়ক কমিটি ঘোষণা দিচ্ছেন।

২নং পাথৈর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বর্তমান আহবায়ক সালমান চৌধুরী কাউয়ুম ও বিতারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক সোহাগ সরকার বিগত সময়ে নানান কারণে এলাকায় বির্তকিত ও সমালোচিত। তাছাড়া ৬নং উত্তর ইউনিয়নে ত্যাগী ও প্রকৃত আওয়ামী পরিবারের সদস্যদের বাদ দিয়ে আহবায়ক সালাউদ্দিন সরকার মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আহবায়ক কমিটি দেন বলে লিখিত অভিযোগে দাবি করেন।

একই ভাবে যোগ্যদের বাদ দিয়ে তাদের পছন্দের অধিকাংশ অযোগ্যদের দিয়ে আশরাফপুর ও গোহট উত্তর ইউনিয়নে ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়েছে,তাদের অধিকাংশই বিবাহিত ও অন্যদলের সমর্থক।

তিনি আরও বলেন, ৩ মাসের উপজেলা কমিটির বয়স এখন প্রায় ৯ মাস। আমরা ইউনিয়নের ওই কমিটিগুলো মনে প্রাণে প্রত্যাখ্যান করছি এবং বর্তমান আহবায়ক কমিটি বাদ দিয়ে নতুন করে কচুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ সময় কচুয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রিয়তোষ পোদ্দার ও রাকিবুল হাসান, ছাত্রলীগ নেতা নাছির উদ্দিন মেম্বার, মিয়া মো. সোহেল, সাইফুল ইসলাম,কাজী রিশাদ, আবু সুফিয়ান বাবু, জাবেদ মোল্লা নিপু,জোবায়ের হোসেনসহ দলীয় শীর্ষ একাধিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কচুয়া উপজেলা ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন-

কচুয়া উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের একাংশ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কচুয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা ছাত্রদলের একাংশের প্রস্তাবিত কমিটির আহ্বায়ক রইজ উদ্দিন চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, গত ২১ ডিসেম্বর চাঁদপুর জেলা কমিটি কচুয়া উপজেলা ছাত্রদলের একটি মনগড়া কমিটি গঠন করে বিভাগীয় কমিটির নিকট জমা দিয়েছে। ওই কমিটিতে কচুয়া উপজেলার তৃণমূলের ত্যাগী, কারাবরণকারী, হামলা-মামলার শিকার ও নির্যাতিত কর্মীদের বাদ দিয়ে এলাকায় থাকে না এমন ব্যক্তি ও বিবাহিতদেরকে স্থান দেয়া হয়েছে। যা ছাত্রদলের সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্রবিরোধী। চাঁদপুর জেলা কমিটি স্বেচ্ছাচারিতার মধ্য দিয়ে তাদের পছন্দের লোকদের দিয়ে এ কমিটি গঠন করেছে। তাই কচুয়ায় ছাত্রদলের রাজনীতির অঙ্গনে জেলা কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। উপজেলা ছাত্রদলের একাংশসহ পৌর ছাত্রদল ও কচুয়া বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ওই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘোষিত কমিটি বাতিল করে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানানো হয়। দাবি মানা না হলে বিক্ষোভ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইসমাঈল প্রধান আবেগ, সহ-সভাপতি কামরুল হাসান মিয়াজী ও জুনায়েদ, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মায়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান জুয়েল, সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল পাটওয়ারী ও শাহাদাত হোসেন, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম জাহিদ, সহ-সভাপতি নূর আলম নূর, সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মুরাদ মিয়া, বিতারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, দক্ষিণ কচুয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রুবেল মীর, কচুয়া বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কাউছার আলম, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য তানজির শিকদার ও শাখাওয়াত।

কচুয়া উপজেলাকে পরিকল্পিতভাবে মেধাশুন্য করা হচ্ছে ব লে অবিজোগ এসেছে,ছাত্রসমাজ এখন লেখাপড়া আর বই খাতার পেছনে অর্থ ব্যয় না করে, তারা এখন হোন্ডার তৈল, নেতার শোডাউন, কমিটি কেনা বেচায় জড়িয়ে মায়ের কানের সোনা বিক্রী করে অর্থ ব্যয় করছেন, উৎসাহ দিচ্ছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংবাদিক। কচুয়া উপজেলা ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের একদিন আগে পরে সাংবাদিক সম্মেলন,মত ও আদর্শ ভিন্ন হলেও উভয় পক্ষই পাতানো কমিটির জন্য তাদের সাংঘঠনিক জেলা কমিটিকেই দোষারোপ করছেন, বিকাশে টাকা দিয়েও কমিটিতে পদ না পেয়ে, তারা পদবঞ্চিত হয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করছেন বলে অভিযোগ তুলেন!