কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাঞ্ছিত শাহজাহান শিশিরকে প্রধান আসামী করে কচুয়া উপ-সহকারী প্রকৌশলী নূরে আলমের মামলা!

কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরের একের পর এক মারধরের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাকে কর্তব্য কাজে বাধা প্রদান করার ঘঠনায় বাদীর দরখাস্ত এবং উপরের নির্দেশ পেয়েই মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করেছেন কচুয়া থানা কর্মকর্তা ওয়ালিউল্লাহ নোমান।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পরীক্ষিত ও ত্যাগী একসময়ের সাবেক এই তুখড় ছাত্রনেতার মামলা যেন পিছু ছাড়ছে না, আওয়ামীলীগ বিরোধীদলে থাকাকালীন সময়ে মতিঝিল থানায় খুনের মামলায় আসামী দিয়ে মামলার জীবনের প্রথম খাতা খুলেন সাবেক এই তুখোড় ছাত্রনেতা, আর আজ সর্বশেষ আবারও মারধরের ঘঠনায় নিজ উপজেলায় প্রধান আসামী হলেন।

কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার প্রথম ধাপে কচুয়ায় বিভিন্ন আলোচনার জন্ম দেন তিনি, নির্বাচিত হওয়ার পর পাশে পান নি সাবেক নির্বাচিত সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান কেও কচুয়ার সাংসদের সামনেই থাপ্পড় মেরে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিলে তৎকালীন ভাইস-চেয়ারম্যান প্রানের ভঁয়ে চাঁদপুরে একটি সাধারন ডায়েরি করেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যাক্তিদের লাঞ্চনা ও বঞ্ছনার স্বীকার হতে হয় এই সাবেক এই তুখোড় ছাত্রনেতার হাত, গত জুন মাসে নতুন করে আবারও আলোচনায় আসেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রির উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম কে সামাজিক মাধ্যমে বিসেধাগাড় তুলেন।

গতকাল ১৯/০৭/২০ চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির ও তার দলবলের হামলার শিকার হয়েছেন বলে গণমাধ্যম কে জানান  চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নূরে আলম। কচুয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে না পেরে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আইনী ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন হামলার শিকার প্রকৌশলী।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ এলাকায় কচুয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর নির্মাণাধীন ৬ তলা ভবনের কাজ পরিদর্শনে গেলে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে কচুয়া উপজেলা সদরে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কচুয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ এর একটি ৬তলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। ওই ভবনের ইতোমধ্যে এক তলার ছাদ ঢালাই কাজ শেষ হয়েছে। নতুন করে কাজ করার জন্য ঠিকাদার নতুন করে আবার নির্মাণ সামগ্রী এনেছেন। ওই নির্মাণ সামগ্রীর মান যাচাই করার জন্য নির্মাণাধীন ভবনে গিয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুরে আলম। যাওয়ার সময় তিনি সাথে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপায়ন দাস শুভকে নিয়ে যান। প্রকৌশলী ও ইউএনও নির্মাণ সামগ্রী যাচাই করছিলেন। হঠাৎ করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির তার লোকজন নিয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

 

হামলার শিকার উপ-সহকারী প্রকৌশলী নূরে আলম জানান, গত দুইদিন আগে কচুয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের কাজের জন্য কিছু পাথর আসে। ওই পাথরগুলোর বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আমি সেখানে যাই। যদি পাথরের মান ভাল না হয়, তাহলে রিজেক্ট করে দিবো এবং ঠিকাদারকে পাথরগুলো ফেরৎ নিয়ে যেতে বলবো। সে কারেণ সেখানে যাওয়া। আমি যাওয়ার পূর্বে ইউএনও সাহেবের কাছে উনার কার্যালয়ে যাই। উনার সাথে কথা বলে, উনাকে নিয়ে কাজের কাছে যাই। সেখানে গিয়ে পাথরগুলো যাচাই করছি, এমন সময় হঠাৎ করে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির কোন কথা না বলেই অতর্কিত হামলা চালায়। প্রথমে ইউএনও সাহেবের উপর হামলা চালায়। তিনি (ইউএনও) মুখের মাস্ক খুলার কারণে তাকে না মেরে আমার উপর হামলা চালায় এবং তার লোকজন দিয়ে আমাকে মারধর করে। চেয়ারম্যান বলে, দড়ি আন, তাকে বেধে রাখবো। পাশে থাকা লোকজন বলে, তিনি প্রকৌশলী উনাকে মারছেন কেন? তখন চেয়ারম্যান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গাল মন্দ করতে থাকে। আবারও আমাকে বাঁশ দিয়ে মারধর করে। পরে আমি আতংকিত হয়ে পড়ি এবং কচুয়া উপজেলা হাসপাতালে না গিয়ে চাঁদপুরে এসে সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেই। বিষয়টি আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরের ব্যাক্তিগত মোবাইল নম্বর ০১৭১১….০০০১ কল করা হলে বার বার ব্যস্ত পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তিনিও ফোন রিটার্ন করেননি।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপায়ন দাস শুভ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি আমরা সামনেই ঘটেছে এবং সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তবে ওই প্রকৌশলীকে যেভাবে মেরেছে, তাতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মত অবস্থা হয়নি।

চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহিম ইকবাল জানান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুরে আলমের মাধ্যমে ঘটনাটি আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। বিষয়টি আমি তাৎক্ষনিক ইউএনও’র কাছে জানি এবং ঘটনার সত্যতা পাই। পরে বিষয়টি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাদের নির্দেশমত আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।(ফোকাস মোহনা)

গত জুন মাসে কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে চাঁদপুর আওয়ামী লীগসহ জাতীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন-ইত্তেফাক রিপোর্ট!

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরের প্রকাশিত একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে স্থানীয় চাঁদপুর আওয়ামী লীগসহ জাতীয় পর্যায়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। বিতর্কিত এই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সময়কার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে বলা হচ্ছে, ‘৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ক্ষমতায় নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে যুদ্ধাপরাধীরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যে প্রোপাগান্ডা চালায় সেই তথ্য প্রচারের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি একটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করে ইতোমধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। অন্য একটি গোয়েন্দা সংস্থা এখনো এ বিষয়ে আরো তদন্ত করছে।

কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির এই পোস্ট ও পোস্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত মন্তব্যে একাধিক স্থানে বর্তমান ও অতীত আওয়ামী লীগ নেতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং এইচটি ইমামকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেশ কিছু ধারা লঙ্ঘন করে। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে একজন জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মচারী হয়ে কোন ভিত্তিহীন তথ্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ে থাকা কারো বিরুদ্ধে অপপ্রচারের দায়ে তার শাস্তির দাবি জানান স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে ছাত্রলীগ নিয়ে একটি বিতর্কিত পোস্ট দেন। সেখানে কমেন্টে তিনি লেখেন, ‘৭৫ সালে জাতীয় মর্মান্তিক ঘটনার পর জাতির পিতার সবচেয়ে আপন ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়েই কিন্তু খন্দকার মোস্তাক তাঁর মন্ত্রী সভা গঠন করেছিলেন।’ তাঁর এই বক্তব্যটি কেবলমাত্র বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তি অনেক বছর ধরেই দিয়ে আসছে। তারাই অপপ্রচার করে আসছে, ‘জিয়াউর রহমান কিংবা অন্য কেও না, আওয়ামী লীগের নেতারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে’। যদিও সর্বোচ্চ আদালতের রায়সহ সকল সরকারি দলিল এই অপপ্রচারকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে। কিন্তু এই বিতর্কিত তথ্য আঁকড়ে ধরে আছেন এই উপজেলা চেয়ারম্যান।

ফেসবুকের এই লেখার মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ধারা ২১ সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছেন। আইনের ধারা ২১ এ বলা আছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রোপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা উহাতে মদদ প্রদান করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।’ এছাড়াও তাঁর উল্লিখিত বক্তব্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারা ২৫ (১) (খ) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ধারা ২৫ (১) (খ) এ বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি কোন ডিজিটাল মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ণ করিবার, বা বিভ্রান্তি ছড়াইবার, বা তদুদ্দেশ্যে, অপপ্রচার বা মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও, কোনো তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ, বা প্রচার করেন বা করিতে সহায়তা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

শাহজাহান শিশির তাঁর ফেসবুকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সম্পর্কে লেখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মধ্যে মাত্র ২০ জন যোগ্য নেতা। বাকিদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোন যোগ্যতা ছিল না। তিনি আরো মন্তব্য করেন, ‘তারাই এখন অনেক বড় বড় নেতা। তাদের কথার উপর এখন সারা দেশ চলে। বাংলাদেশের কোন কোন উপজেলা,ইউনিয়ন, পৌরসভা, ওয়ার্ডে কারা নির্বাচন করবে। কে কে আওয়ামী লীগ করে তারাই ঠিক করে দেয়। আর এটাই হল আমাদের বেঁচে থাকার নির্মম পরিহাস।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি তথা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এই মন্তব্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ধারা ২৫, ধারা ২৯ এবং ধারা ৩১ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। শাহজাহান শিশির ভাল করেই জানেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিটি কাউন্সিলে কাউন্সিলর ও ডেলিগেট গণ দলীয় নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব দলীয় সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার উপর দিয়ে থাকেন। এটি দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়, তাঁরা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার মনোনয়নেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকেন। শাহজাহান শিশিরের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে শুধু আওয়ামী লীগকেই আক্রমণ বা মানহানি করা হয় নি, এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও এক ধরণের অবজ্ঞা, বিদ্রূপ ও অবমাননা করা হয়েছে।

আর এমন মন্তব্য করার কারণে শাহজাহান শিশিরের ডিজিটাল আইনের ধারা ২৯ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে। এই আইনের ধারা ২৯ (১) অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্যানেল কোডের সেকশন ৪৯৯ এ বর্ণিত মানহানিকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন, তার জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

শাহজাহান শিশির ফেসবুকে আরেক স্থানে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন, ‘ঐ ব্যক্তির নাম এইচ টি ইমাম। নামে ইমাম হলেও অকাজে বেশ দক্ষ।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ধারা ২৫ (১) (ক) সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছেন। ২৫(১)(ক) তে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে, ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে, এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন, যাহা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথবা মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও, কোনো ব্যক্তিকে বিরক্ত, অপমান, অপদস্থ বা হেয় প্রতিপন্ন করিবার অভিপ্রায়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

এরপরের অংশে শাহজাহান শিশির লেখেন, ‘বর্তমানে তিনি আবার জননেত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা বটে।’ তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ডিজিটাল আইনের ধারা ২৫ (১) (খ) এর বিধান সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছেন। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালিয়েছেন। মন্ত্রীর পদ মর্যাদাসম্পন্ন প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সম্পর্কে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সম্পর্কে চরম ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে এই উপদেষ্টার পদকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। শাহজাহান শিশির প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নিযুক্ত উপদেষ্টার দায়িত্বকে জনগণের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন।

এখানে একটা বিষয় উল্লেখ্য, উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ এর বিধান অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একজন সরকারী কর্মকর্তা, যিনি ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্সি ১৯৮৬ অনুযায়ী একজন উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। একজন সরকারি কর্মকর্তা তার পদে থাকাকালীন সময়ে লিখিতভাবে এভাবে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে পারেন না। এছাড়া, দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত একজন জন প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সম্পর্কে লিখিতভাবে এই রকম আক্রমণাত্মক ও মিথ্যা মন্তব্য করতে পারে না। এই ধরণের কাজ কেবল ডিজিটাল আইন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণ সংক্রান্ত আইনের পরিপন্থী নয়, বরং অন্যান্য আইনেরও লঙ্ঘন যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে একটি গুরুতর শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা। এই ধরণের অপরাধের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে, এই ধরণের ঘটনা আরও ঘটতে থাকবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।