কচুয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের অনিয়ম কে কেন্দ্র করেই সোস্যাল মাধ্যমে ব্যাপক ঝড় উপজেলা কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কে নিয়ে মন্তব্যের জের ধরেই ডিজিটাল আইনে মামলা!

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ণ দাস শুভ ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সোহেল রানাকে নিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে এক প্রবাসী যুবকের অশালীন মন্তব্যের ঘটনায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করা হয়।

গতকাল ২০/০৭/২০ সোমবার দুপুরে ইউএনও’র নিজ কার্যালয়ে এ মতবিনিমিয় সভার আয়োজন করা হয়,এসময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা খানম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল মবিন, ডেপুটি কমান্ডার  জাবের মিয়া, জিসান আহমেদ নান্নু,  আবুল হোসেন, প্রিয়তোষ পোদ্দার, মানিক ভৌমিক, মফিজুল ইসলাম বাবুল,  সন্তোষ চন্দ্র সেন প্রমুখ। এসময় পিআইও মোহাম্মদ আশেকুর রহমান,উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো: সোহেল রানা, মো: আতাউল করিম, আফাজ উদ্দিন মানিক, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সুজন পোদ্দারসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইউএনও ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে সৌদি প্রবাসী ও কচুয়ার তেতৈয়া গ্রামের অধিবাসী গাজী হাসান রানার উদ্ভুট মন্তব্যের বিষয় তুলে ধরেন এবং অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২০১৮ইং ২৫ -১ (ক) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে যার নং- ১৩,তারিখ: ২০.০৭.২০২০ ইং। ইউএনও’র সিএ মো: জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে গতকাল সোমবার কচুয়া থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।

ছবিঃ শাহ পরান , ফখরুল আলম তইমুর, গাজী হাসান রানার ফেসবুক কমেন্ট তুলে ধরা হল।

উল্লেখ্য গত ১৯/০৭/২০২০ তারিখে হামলার শিকার উপ-সহকারী প্রকৌশলী নূরে আলম জানান, গত দুইদিন আগে কচুয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের কাজের জন্য কিছু পাথর আসে। ওই পাথরগুলোর বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ আসে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আমি সেখানে যাই। যদি পাথরের মান ভাল না হয়, তাহলে রিজেক্ট করে দিবো এবং ঠিকাদারকে পাথরগুলো ফেরৎ নিয়ে যেতে বলবো। সে কারেণ সেখানে যাওয়া। আমি যাওয়ার পূর্বে ইউএনও সাহেবের কাছে উনার কার্যালয়ে যাই। উনার সাথে কথা বলে, উনাকে নিয়ে কাজের কাছে যাই। সেখানে গিয়ে পাথরগুলো যাচাই করছি, এমন সময় হঠাৎ করে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির কোন কথা না বলেই অতর্কিত হামলা চালায়। প্রথমে ইউএনও সাহেবের উপর হামলা চালায়। তিনি (ইউএনও) মুখের মাস্ক খুলার কারণে তাকে না মেরে আমার উপর হামলা চালায় এবং তার লোকজন দিয়ে আমাকে মারধর করে। চেয়ারম্যান বলে, দড়ি আন, তাকে বেধে রাখবো। পাশে থাকা লোকজন বলে, তিনি প্রকৌশলী উনাকে মারছেন কেন? তখন চেয়ারম্যান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গাল মন্দ করতে থাকে। আবারও আমাকে বাঁশ দিয়ে মারধর করে। পরে আমি আতংকিত হয়ে পড়ি এবং কচুয়া উপজেলা হাসপাতালে না গিয়ে চাঁদপুরে এসে সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেই। বিষয়টি আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরের ব্যাক্তিগত মোবাইল নম্বর ০১৭১১….০০০১ কল করা হলে বার বার ব্যস্ত পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তিনিও ফোন রিটার্ন করেননি।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপায়ন দাস শুভ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি আমরা সামনেই ঘটেছে এবং সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তবে ওই প্রকৌশলীকে যেভাবে মেরেছে, তাতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মত অবস্থা হয়নি।

চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহিম ইকবাল জানান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুরে আলমের মাধ্যমে ঘটনাটি আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। বিষয়টি আমি তাৎক্ষনিক ইউএনও’র কাছে জানি এবং ঘটনার সত্যতা পাই। পরে বিষয়টি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাদের নির্দেশমত আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।(ফোকাস মোহনা)

কচুয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের কাজ কে কেন্দ্রে করেই ফেসবুকে শাহ পরান , ফখরুল আলম তইমুর, গাজী হাসান রানার ফেসবুক কমেন্ট ও রিপ্লাইতে উপজেলা কর্মকর্তা দীপায়ণ দাস শুভ ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সোহেল রানাকে নিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে এক প্রবাসী যুবকের অশালীন মন্তব্যের ঘটনা ঘটে এবং তা  নির্মাণাধীন ভবনের অনিয়ম কে কেন্দ্র করেই অশালীন মন্তব্যের ঘটনার উৎপত্তি বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।