কচুয়া হযরত শাহ্‌ নেয়ামত শাহ্‌ উচ্চ বিদ্যালয়ের হারানো ঐতিহ্য “ঘুণে ধরা এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আত্মকাহিনী ও বেঁচে থাকার আকুতি”-কাউছার আলম পাটোয়ারী সহকারী কমিশনার!!!

কচুয়ারডাক নিউজ ডেস্কঃকচুয়া হযরত শাহ্‌ নেয়ামত শাহ্‌ উচ্চ বিদ্যালয়ের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কতটা সফল হবেন বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির আহব্বায়ক!
কচুয়া হযরত শাহ্‌ নেয়ামত শাহ্‌ উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি এ যাবত কালের সফল সভাপতি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র পৌরসভা মেয়র নাজমুল আলম স্বপন তন্মধ্যে দুটি ভবন নির্মাণ ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ছিল বড় চ্যালেঞ্জ!
হযরত শাহ্‌ নেয়ামত শাহ্‌ উচ্চ বিদ্যালয় নাম করন করা হয় কচুয়ার একজন পীর আউলিয়ার নামে, সাবেক এম পি প্রতিষ্ঠাতা হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় গত দুই যুগ ধরে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত, দুর্নীতিবাজ শিক্ষা কর্মকর্তা ও  বিভিন্ন আমলে কোষাগার লোপাট, অতিমাত্রায় রাজনীতিকিকরন, বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যাবস্থা আজ মৃত প্রায় অবস্থার পাহাড়সম অভিযোগ!
গত ৮ই অক্টোবর হয়ে গেল শিক্ষক দিবসের ভার্চুয়াল প্রাক্তন ছাত্র/ছাত্রীদের মিলন মেলা উঠে আসলো জানা-অজানা অনেক কল্প-কাহীনি ,চোখ রাখুন খুব শীগ্রই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে শুধুমাত্র কচুয়ারডাক অনলাইন-
হযরত শাহ্‌ নেয়ামত শাহ্‌ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রের বিদ্যালয়কে নিয়ে হুবুহু অসাধারন লিখা তুলে ধরা হলো- পড়ুন ভাবুন মতামত দিন!
ঘুণে ধরা এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আত্মকাহিনী ও বেঁচে থাকার আকুতি!!!
বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র চাঁদ সওদাগর,বেহুলা- লখিন্দর, মনসা -মুড়া এবং উজানীনগর সম্পর্কিত একদা কচুয়া নামক এক জনপদ ছিল! ঐ জনপদে একটি বালক ও বালিকা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থাকার পরও মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের তাগিদে একদল সমাজসেবীদের উদ্যোগে সরকারী পাইলট স্কুলেরই একজন তেজস্বী,মেধাবী,প্রচণ্ড জেদী,উচ্চবিলাসী তৎকালীন সময়ে গণিত ও ইংরেজীতে সমভাবে পারদর্শী একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে উল্লেখিত বিদ্যালয়ের কাছাকাছি স্হানে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এক বিদ্যালয়।অধিকতর বরকত ও রহমতের লক্ষ্যে স্কুলের নামকরণ করা হয় একজন ওলির নামকরণে ” হযরত শাহ নেয়ামত শাহ উচ্চ বিদ্যালয়”.বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ ও উচ্চ ব্যাক্তিত্বসম্পন্ন এক স্বপ্ন কাতুর এক প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে একদল তরুণ শিক্ষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে ও সহযোগিতায়! বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী ও কড়া মেজাজের!তাঁর কঠোর তত্বাবধানের কারণে শিক্ষকগণ ছিলেন ভীত সন্ত্রস্ত! তাঁর ভয়ে ছাত্র ছাত্রীগণের পাশাপাশি মনে হতো আশে পাশের গাছপালা ও মাটি কাঁপত!শিক্ষকগণ ক্লাশ নেওয়ার সময়ে তিনি লুকিয়ে স্কুলের পিছন দিয়ে বাগানে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষকদের কর্মকাণ্ড মনিটরিং করতেন।ফলে শিক্ষকগণ ক্লাশে ফাঁকি দেওয়ার কথা ঘুণাক্ষরেও চিন্তায় আনতে পারতেননা!তাঁর একাগ্রতা,লক্ষ্যে অবিচল থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ও কঠোর প্রশাসনের কারণে স্কুলটি অল্প দিনের মধ্যে বেশ সুনাম কুড়িয়ে ফেলে।ফলে দূর দূরান্ত থেকে অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদেরকে এই স্কুলে ভর্তি করাতে থাকেন।পদার্থবিদ্যা,রসায়নবিদ্যা ও উচ্চতর গণিতের মতো জটিল বিষয়ে তেমন কোন পারদর্শী শিক্ষক না থাকলেও প্রধান শিক্ষকের কঠোর নজরদারি ও শিক্ষকগণের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বিদ্যালয়টি পাইলট স্কুলের সাথে সমভাবে পাল্লা দিয়ে বোর্ডে ভালো ফলাফল করতে থাকে। ৯০ দশকে প্রায় প্রতিবছরেই দু একজন করে বোর্ড স্ট্যান্ড করতে থাকে।স্কুলটি জন্ম দেয় কয়েকজন দেশসেরা অসাধারণ ছাত্র- ছাত্রী ফাতিমা আক্তার, ইয়াকুব,শফিউল,শরীফ,ইউসুফ,সাইফুল,মির্জা নাজমুল,ইউনুস,আনিস, আশেক এলাহী প্রমূখসহ আরও নাম নাজানা অনেকের!বিদ্যালয়টি পড়াশোনায় যে ভালো করে তা নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেও বিদ্যালয়টি এ অঞ্চলে ছিল অসাধারণ!ফলে দেশে অনেক বিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও এই বিদ্যালয়টি তৎকালীন সময়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের ভিজিটের জন্য এ বিদ্যালয়টি নির্বাচন করা হয়। তিনি বিদ্যালয়টি ভিজিটের পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিদ্যালয়টির ভূয়সী প্রশংসা করেন!বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক অত্যন্ত মেধাবী ও বিচক্ষণ ছিলেন এবং তিনি পড়াশোনা শেষের পর মেধা ও যোগ্যতায় অনায়াসে তৎকালীন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দিতে পারতেন।কিন্তু তিনি তা না করে শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে ভালোবেসে ও জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়ে এটাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।সে যাহোক,বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের অত্যন্ত কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্হা অনেক শিক্ষকের মনপুত হয়নি এবং মনের ভিতর ক্ষোভ লালন করে থাকতে পারেন! তারই প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ক্ষমতার পট পরিবর্তনের ফলে কতিপয় শিক্ষক সুযোগটি গ্রহণ করেন।প্রধান শিক্ষককে স্কুল থেকে বিতাড়নসহ নানা হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে থাকেন।শুরু হয় এক অসাধারণ স্কুলের অন্ধকার যাত্রা!স্কুলটি নানামুখী অপরাজনীতির চর্চা,শিক্ষকদের অন্তর্দন্দ্বের প্রেক্ষিতে ফলাফলের দিক দিয়ে ব্যর্থতায় পর্যবেসিত হয়!অতঃপর নানা ঘাট পেরিয়ে প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক পুনরায় স্বপদে বহাল হলেও প্রাক্তন শিক্ষকদের বার্ধক্য,নতুন তরুণ মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারায় স্কুলটি পুনরায় তার পূর্বাবস্হায় ফিরে যেতে পারেনি।তবে স্কুলটি ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করে প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষকের অবসরের পর!বার্ধক্য,কর্তব্যে অবহেলা ও নতুন উদ্যমী শিক্ষক নিয়োগদানে ব্যর্থতা এবং সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির দায়সারা মনোভাব ও শিথিলতার কারণে অপমৃত্যু হয় এক সম্ভাবনাময় বিদ্যালয়ের!তবে আশার কথা হলো বিদ্যালয়টি এখন নাকি স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে তার হৃতগৌরব ফিরে পাওয়ার!বিদ্যালয়টি নাকি স্বপ্ন দেখেছে যে তার আঁতুর ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানেরা নাকি এক ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে একীভূত হয়েছে!প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের লক্ষ্যে যথাযথ এন্টিবায়োটিক নিয়ে তার রোগ সারাতে তারা এগিয়ে আসছে!দেখা যাক বিদ্যালয়টির স্বপ্ন পূরণ হয় কিনা!বিদ্যালয়টি আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে কিনা!আমরা না হয় সে অজানা ভোরের অপেক্ষায় থাকলাম!
পাঠকগণ আপনারাও বিদ্যালয়টির এ আকুতিতে ব্যাথাতুর হয়ে যার যার অবস্হান থেকে এগিয়ে আসবেন!বিদ্যালয়টির এ জরাজীর্ণ অবস্হা থেকে রক্ষা করে তাকে সুখী সুন্দর জীবনের দিকে নিয়ে যাবেন এ প্রত্যাশা আমিও করি।
বিদ্যালয়টি চিরজীবী হোক!
সূত্রঃ বিদ্যালয়টির অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ডায়েরী থেকে সংগৃহীত!
লেখকঃ মোঃ কাউছার আলম পাটোয়ারী, সহকারী কমিশনার,বিসিএস( শুল্ক ও আবগারী)
বিদ্যালয়টির প্রাক্তন সন্তান(১৯৯৯)
Image may contain: 2 people, text
0
People Reached
0
Engagements
Boost Post
Like

 

Comment
Share