করোনার ঝুঁকি নিয়ে কচুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ডাঃ সোহেল রানা

কচুয়ার ডাক

প্রাণঘাতী করোনার কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে মানুষ। করোনার মরণ থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ সহ ডাক্তাররা। এমন পরিস্থিতিতে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সোহেল রানা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

দিন-রাত সাধারণ রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের গুরুত্বর্পূর্ণ ঔষধ বিনামূল্যে সরবরাহ করেছেন তিনি। বর্তমানে সারা দেশে (কোভিড-১৯) নামে করোনা আতঙ্কের মাঝে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে ব্যস্ত অনেক ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানবতার ভূমিকা পালন করছেন এই তরুণ চিকিৎসক।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সহ প্রতিদিন সকাল থেকে হাসপাতালের রোগী দেখার পর রাত পর্যন্ত এলাকার রোগীদেরও চিকিৎসা সেবায় অক্লান্ত পরিশ্রম করেন এই চিকিৎসক। নিজ সন্তান ও স্ত্রীকে বাসায় রেখে এসে তিনি অনবরত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সোহেল রানা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি ডাক্তারি পেশাকে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে গ্রহণ করিনি। আমার বাবা জনগণের সেবার উদ্দেশ্যেই তিনি আমাকে ডাক্তারি পড়ার পরামর্শ দেন এবং আমিও তাঁর আদর্শে অনুপ্রেরিত হয়ে মানবিক দৃষ্টিতে ও জনসেবার উদ্দেশ্যে ডাক্তারি নিয়ে পড়ালেখা করেছি এবং ডাক্তার হয়েছি। তাই ডাক্তারিকে আমার পেশা হলেও মূলত মানবসেবার মাধ্যম বলে মনে করি। মানব সেবার উদ্দেশ্যে ডাক্তারি পেশায় যোগ দিয়েছি। এখন দেশের এমন চরম সংকটাপন্ন মুহূর্তে আমরা যদি ঘরে বসে থাকি, নিজেদের স্বার্থ সুবিধা বিবেচনা করি। তাহলে দেশের সাধারণ মানুষ কাদের কাছে যাবে? আর আমাদের চিকিৎসকদের মানব সেবার ধর্মের মর্যাদাটাও কিভাবে ঠিক থাকবে।”

করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “ঝুঁকি তো আছেই। তবে তাই বলে জনসাধারণের প্রয়োজনকে অবেহেলা করা যাবেনা। আর আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে সরকার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তো যথাসম্ভব সহযোগিতা করছেনই। এছাড়া দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সুবিধার্থে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রশাসন সহ বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠনের প্রতি তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, দেশের এমন চরম সংকটাপন্ন মুহূর্তে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান যদি চিকিৎসকদের প্রতি আন্তরিক মনোভাব পোষণ না করতেন তাহলে চিকিৎসকদের একক চেষ্টা ও মনোবলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিরাট ব্যাঘাত ঘটতো। তবে আশার বিষয় হলো আমাদের ঐকান্তিক ইচ্ছা মনোবল ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বয়ে আমরা রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পারছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করেছে। এ ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সচেতনতাই একমাত্র অবলম্বন। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। কচুয়ায়ও এ ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলে জনসাধারণকে বাড়িতে অবস্থান করার জন্য অনুরোধ করছি। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে না যাওয়াই ভাল। বাহিরে গিয়ে নিজে এবং নিজের পরিবারকে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন না। কচুয়াবাসীর কথা চিন্তা করে চরম ঝুঁকিতে থেকেও আমরা চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এ সময় কচুয়ার জনসাধারণ কে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখতে সচেতন হওয়ার জন্য ও অনুরোধ করেন এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।