চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ব্যক্তিস্বার্থে নৌকার পরাজিত প্রার্থীদের সংবাদ সম্মেলন তীর চুড়া হলো সাবেক এম পি ইঞ্জিনিয়ার শামছল হক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রোমানের প্রতি!

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ব্যক্তিস্বার্থে নৌকার পরাজিত প্রার্থীদের সংবাদ সম্মেলন তীর চুড়া হলো সাবেক এম পি ইঞ্জিনিয়ার শামছল হক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রোমানের প্রতি!

ব্যক্তিস্বার্থে নৌকা প্রতীককে পরাজিত করতে ব্যক্তি অনুসারীদেরকে নৌকার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের পরাজিত প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ১৬ জানুয়ারি রোববার সকালে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, ১ নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী, বাহাউদ্দিন বাহার, ২ নং বালিথুবা পুর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জি এম হাসান তাবাসসুম, ৪নং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ পারভেজ হোসেন, ৫ নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গনি পাটোয়ারী, ৬ নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নেরর চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী, ৭নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আলাউদ্দিন, ৯ নং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেল চৌধুরী, ১৫ নং রুপসা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওমর ফারুক ফারুকী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ প্রক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুন্নবী নোমান, সাবেক সাধারন সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী, সিনিয়র সাংবাদিক আবু হেনা মোস্তফা কামাল,নাছির উদ্দিন পাঠান, বর্তমান সহ-সভাপতি আমান উল্লাহ আমান, কার্যনির্বাহী সদস্য নারায়ন রবিদাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম ইকবাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিল হাসান সহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

প্রার্থীরা তাদের অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করে বলেন, গত ৫ ই জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের নামে জেলা প্রশাসন উপজেলা প্রশাসন খন্দকার মােশতাকের নব্য অনুসারি কোন গােষ্ঠীর ইশারা ইঙ্গিতে স্বাধীনতার প্রতীক নৌকা মার্কাকে হারানাের ঘৃন্য যড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন বলে আমাদের মনে হয়। তাদের অতি উৎসাহি কর্মকান্ড, কথা বার্তা, আচার আচরন এবং দায়িত্ব পালনে জনমনে সেই সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করা কালীন সময়ে আমরা যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছিলাম সেসব বিষয়ে আপনারা অবগত আছেন। যে সকল প্রার্থী উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে সর্বস্তরের আওয়ামী লীগের কর্মীদের সহযােগিতা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা কেবলমাত্র ব্যক্তিস্বার্থে নৌকা প্রতীককে পরাজিত করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে তাদের ব্যক্তিগত অনুসারীদেরকে নৌকার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের অনুসারীদের দিয়ে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। আমরা দেখেছি যে, জেলা পর্যায়ের বিশেষ মহলের ইন্দনে প্রশাসন নৌকা মার্কার কর্মীদেরকে নির্বাচনের পূর্ব হতে নির্বাচন পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ভীতি প্রদর্শন পূর্বক নির্বাচনের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থেকে বিরত রেখেছে। এছাড়াও নির্বাচনের দিন নৌকার এজেন্ট, ব্যাজধারী কর্মীদের মারধর করে ভােট কেন্দ্র থেকে তাড়িয়ে দেওয়া, আটক করা
এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

নির্বাচনের আগের দিন থেকে নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনের জনবিরােধী আচরণে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের মুখােশে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে নৌকার কর্মীদের নির্বাচনের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করা এবং মনােবল ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রবিমুখ করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কে নৌকার বিরুদ্ধ প্রতীকে ভােট দানে বল প্রয়ােগ করার সুযােগ তৈরি করে দিয়েছে।

আপনারা অবগত আছেন যে নৌকা প্রতীককে পরাজিত করার লক্ষ্যে জেলা আওয়ামী লীগের একজন সাবেক শীর্ষ নেতা তথা সাবেক এমপি সামছুল হক ভূঁইয়া নৌকা মার্কাকে পরাজিত করার জন্য প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে কযেকজন করে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে তাদেরকে এবং স্বতন্ত্র নামে বিএনপি জামায়াতের প্রার্থিদের অবৈধ লক্ষ লক্ষ কালাে টাকা ডােনেশন দিয়ে নৌকাকে পরাজিত করেছেন।

এছাড়াও সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম রােমান প্রকাশ্য সমাবেশে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে সরাসরি হুমকি প্রদর্শন করে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য সহ তার অনুগত ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনীর মাধ্যমে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেও ভােটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। তার অনুসারী বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে এবং চাঁদপুরের বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। আমরা আরো দেখেছি যে তার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থাকা একজন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে তার আপন ভাইকে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে দাঁড় করিযেই ক্ষান্ত হয়নি নৌকার কর্মীদেরকে ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী এবং প্রশাসনের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ঘরছাড়া করেছেন। প্রশাসনিক হয়রানির মাধ্যমে নৌকার কর্মীদের গ্রেফতারসহ তাদের পরিবার পরিজনকে ভয়-ভীতি গ্রদর্শন করে নৌকা প্রতীককে নির্বাচন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করার অপচেষ্টা চালান।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে থেকে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করা এবং একটি বিশেষ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা নির্বাচনী দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার এবং সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদেরকে চাকরি হারানাের ভয় দেখিয়ে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য করেন।