চাঁদপুর কচূয়া উপজেলায় ৮নং কাদলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মুসলমান ধর্মাবলম্বী ভোটারদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছুঁইয়ে ভোটের প্রতিশ্রুতি নেওয়ার অভিযোগে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি, জেলা রিটার্নিং অফিসার কে ফলাফল ও গেজেট স্থগিত চেয়ে নির্বাচন বাতিলের দাবীর আবেদন করছেন প্রার্থী !

চাঁদপুর কচূয়া উপজেলায় ৮নং কাদলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মুসলমান ধর্মাবলম্বী ভোটারদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছুঁইয়ে ভোটের প্রতিশ্রুতি নেওয়ার অভিযোগে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি, জেলা রিটার্নিং অফিসার কে ফলাফল ও গেজেট স্থগিত চেয়ে নির্বাচন বাতিলের দাবীর আবেদন করছেন প্রার্থী !

কচুয়া উপজেলা কাদলা ইউনিয়নে গত ৫ই জানুয়ারি ভোটের রাত্রে মুসলমান ধর্মাবলম্বী ভোটারদের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও গ্রাম মহল্লায় ভোটের আগের দিন রাত পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছুঁইয়ে ভোটের প্রতিশ্রুতি নেওয়ার অভিযোগে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে পরে গ্রামে চায়ের দোকানে হাঁটে বাজারে চাউর উঠে। অতঃপর ভোটাররা একে একে পুরুষ মহিলা জানাজানি শুরু হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাপিলাবাড়ী গ্রামের মহিলা ভোটার দাবী করেন আমাকে এক হাতে ছোট কোরআন শরীফ দিয়ে এবং অন্যহাতে ১হাজার টাকার নোট দিয়ে আনারস মার্কায় ভোট দেয়ার কথা বলেন, টাকা নিয়ে আনারসে ভোট না দিলে জাহান্নামে যেতে হবে এবং ভোট দেয়ার পর কাউকে এসব বললে পাপ হবে বলেও ভয় দেখান। অত্র এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন ভোটের আগে ও পরে বহুবার আনারস মার্কার প্রার্থী কাপিলাবাড়ী মাদ্রাসায় আসা যাওয়া করতেন মাদ্রাসার দাতার সাথে বিভিন্ন গোপন মিটিং করেন, উক্ত মাদ্রাসা থেকে ছোট ছোট আল-কোরআন নিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।

কাদলা গ্রামের দক্ষিন পাড়ায় বিভিন্ন বাড়ী বাড়ী গিয়েও ছোট ছোট পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছুঁইয়ে প্রভাবিত করে ভোটের প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেওয়ার একই অভিযোগে উঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেম্বার প্রার্থী দাবী করেন আমার প্রতিদ্ধন্দী প্রার্থী এবং আনারস মার্কার এজেণ্ট চেয়ারম্যান ভোট ১০০০ ও মেম্বার ভোট ৫০০ টাকা দিয়ে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছুঁইয়ে ভোটের প্রতিশ্রুতি নেওয়ার ওয়াদা করা হয় বলে আমার কাছে অভিযোগ করেন বিষয়টি আমি অনেক কে জানিয়েছি । ঠিক একই কায়দায় গুলবাহার, দেবীপুর, বরিগাও, আয়মা, দোঘর, চৌমুহনী, মনপুরা, নিশ্চিন্তপুর ভোটারদের প্রভাবিত করে ভোট চাওয়ায় তা সম্পূর্ণ রুপে বে-আইনি বলে দাবী করেন সংশ্লিষ্টরা ।

বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাস্ট্রে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার ধর্ম নিরপেক্ষ দেশে  সাম্প্রদায়িক বিরোধী প্রচার বলে আখ্যা দেন দেশের বিশিষ্ট জ্ঞানী ব্যাক্তীরা। অত্র ইউনিয়নের ১২টি কেন্দ্রে একই কায়দায় ভোট চাওয়ায় হিন্দু বসতি এলাকা বিশেষ করে কাদলা, আয়মা, দোঘর কেন্দ্রের ভোট তুলনামুলকভাবে নৌকায় বেশী পরে এবং অন্যান্য মুসলিম ভোটার কেন্দ্রে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছুঁইয়ে ভোটের প্রতিশ্রুতি নেওয়ায় মানুষ ভয়ে আতঙ্কে ভোট প্রদান করে, যা অত্যান্ত দুঃখজনক বটে। তুলনামূলক যে সকল গ্রাম ও কেন্দ্রে হিন্দু ভোটার ছিল সেসব কেন্দ্রে নৌকা যথাক্রমে ৫৪৪ প্রথম, ৪৩৫ দ্বিতীয়, ৪২৮ তৃতীয় সর্বচ্চো ভোট পরে, তাতেই বুঝা যায় উক্ত এলাকায় সংখ্যালঘুদের ভোট কেনা কিংবা পবিত্র ইসলাম ধর্মগ্রন্থের প্রভাব পড়েনি। অন্যদিকে দোঘর, চৌমুহনী, মনপূরা এবং নিশ্চিন্তপুর নামকরা মাদ্রাসা থাকায় অত্র এলাকার মুসল্লিদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছুঁইয়ে ভোট দেয়ার প্রাভাবিত করায় সেসব কেন্দ্রে ভোটের হার যথাক্রমে সবচেয়ে বেশি মনপুরা মাদ্রাসা কেন্দ্র ৬৯.৪৮%, নিশ্চন্তপুর মাদ্রাসা কেন্দ্র ৭০.২৩%, চৌমুহনী আলিম মাদ্রাসা ৭২.১৮%।

উক্ত বিষয় গুলি বেশি আলোচিত হয়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোটের পরের দিনই, প্রায় দুই ডজন গরু কেটে ভুড়িভোজের আয়োজন করলে ভুরিভোজে এসব কথা চাউর হয়, যদিও নির্বাচন বিঁধিমালা আচরণ বিধিতে ৪৮ঘন্টার মধ্যে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ কিন্তু উক্ত প্রার্থী তা তোয়াক্কা না করে ভূড়িভোজের আয়োজন করে বিধি লঙ্ঘন করেন।

নির্বাচন প্রচারকালীন সময় স্বর্ণের ক্রেস্ট আনারস মার্কা উপহার দিয়ে বিধি লঙ্গন করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেন আনারসের প্রার্থী, যা কচুয়া ও জেলা  রিটার্নিং অফিসার কোন রকম ব্যাবস্থা গ্রহণ করেন নি।
বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েও থেমে থাকনে নি একের পর এক রাস্ট্র সংবিধান বিরোধী মন্তব্য করতেই থাকেন, ভোটের আগে গত ২৭/১২/২০২১ ইং মধুপুর মাহফিলে বলেন আপনারা সবাই মাহফিলে আসবেন এবং ভোটের পরে মাহফিল দরকার নেই বলেও দোঘর গ্রামে মিটিং করে এই মন্তব্য করেন, ইসলাম বিদ্বেষী না ইসলাম কে নিয়ে বিতর্ক কটাক্ষ কোন টাই সঠিক বলে মনে হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন সচেতনরা। কেউ কেউ বলছেন মানুষিক রোগী।

প্রতিদিন ফেসবুক লাইভে এসেই ইসলাম বান্দব ইউনিয়ন এবং ইউনিয়নে নিজস্ব ও শরীয়া আইন চালু করে দোকানপাট বন্ধ রাখতে চান, এইসব বক্তব্যের ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির এক আইনজীবীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন- আফগানিস্থান ও তালেবান ফেরত না হলে কেউ এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না। আইনের আশ্রয় নেয়া হলে গেজেট স্থগিত কিংবা বহিঃস্কার হতে পারেন উক্ত প্রার্থী ,ধর্ম রাষ্ট্র সম্পর্কে যার নুন্যতম জ্ঞান নাই তার কাছে ইউনিয়ন পরিষদ মুসলমান এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ হবে না। এতে দাঙ্গা লেগে যেতে পারে।
ডঃ মহীউদ্দিন খান আলমগীর এম পি কে দোষারোপ করে আনারসের প্রার্থী দাবী করে বলেন নৌকা কিনে নিয়ে গেছে, তুমি আমার প্রার্থী। সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও যুবলীগ সম্পাদক উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক তিন তিন বারের নৌকার প্রার্থী জনাব রফিকুল ইসলাম লালু কে উদ্দেশ্যে করে বলেন সাইনবোর্ড ব্যাবহার করলেই তো আর হবে না, আপনারা এখনো বুঝেন না যে আমি কার প্রার্থী, কার ইশারায় এই খেলা হইতেছে ?


উপজেলায় আইন ও নির্বাচন আচরনবিধিকে তোয়াক্কা না করে নৌকা ঠেকাতে কোটি কোটি টাকা ঢেলে রাস্ট্র সংবিধান বিরোধী ধর্মভীতিকে কাজে লাগানোর অভিযোগসহ পাতানো নির্বাচন, বিদেশে মানি লন্ডারিং, স্বর্ণ চোরাচালান, পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তিদের প্রাণনাশের হুমকি এবং আয়কর ফাঁকির অভিযোগে দুদকে মামলা দায়ের হতে পারে কথিত বিতর্কিত ব্যাবসায়ী জীঃচৌধুরীর বিরুদ্ধে, আদালতে প্রমানিত হলে সাজা ভোগ করতে পারেন জীঃ চৌধুরী!
স্বর্ণের ক্রেস্ট আনারস মার্কা উপহার দেয়ায় বিধি ৭১(২)(ক), ধর্মীয় গ্রন্থ ব্যাবহার করায় ধারা ৭৩(ক)(ঈ) এবং ভূরিভোজের আয়োজনে বিধি৭৪(১) নুন্যতম ৬ মাস ও দুই বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন, এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতি নষ্ট করার জন্য বাংলাদেশ সংবিধান ও ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পাকিস্থান ও তালেবানি কায়দায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করা সাংবিধানিকভাবে রাস্ত্রদ্রোহী বলে যাবজ্জীবন কিংবা মৃত্যুদন্ড হতে পারে।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারকালে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারকে দেবতার ছবি ছুঁইয়ে ভোটের প্রতিশ্রুতি নেওয়ার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ৩২ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে সুতা ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহাকে ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাকসুদ হোসেন রকির ঠেলাগাড়ি মার্কায় ভোট চাইতে দেখা যায়। তিনি তার গলায় দেবতার ছবি ভোটারের কপালে ছুঁইয়ে ভোটের প্রতিশ্রুতি আদায় করেন।
বাসদের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ভিডিওতে যে জায়গাটি দেখা যাচ্ছে সেটি ১৫নং ওয়ার্ডের বংশাল এলাকা। গত মঙ্গলবার রাতে ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা নগদ টাকা দিয়ে ঠেলাগাড়ি ও বই মার্কার পক্ষে ভোট কিনেছেন। তিনি হিন্দুদের পবিত্র গ্রন্থ ‘গীতা’ ছুঁইয়ে ভোট নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়াও লিটন সাহা হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন। আমরা তার দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।’
দেবতার ছবি ছুঁইয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে লিটন সাহা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি দেবতার ছবি ছুঁয়ে ভোট চেয়েছি এটা সত্য। কিন্তু, নির্বাচনে কোনো প্রভাব বিস্তার করি নাই। আচরণবিধিও লঙ্ঘন করি নাই। যাদের কাছে ভোট চেয়েছি সবাই আমার পরিচিত। কাউকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়নি। টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায় না। এগুলো সব মিথ্যা।
১৩, ১৪ ও ১৫নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লায় পুজামণ্ডপে পবিত্র ধর্ম গ্রন্থকে অবমানায় দেশজূরে তোলপাড় শুরু হলে পাশের থানা হাজীগঞ্জে পুলিশের সাথে গুলাগুলিতে প্রায় তিনজন নিহত চারজন আহত হন।

কচুয়া উপজেলার জনগণের দাবী পাতানো নির্বাচন এবং কালোটাকার হোতাদের আইনের আওতায় এনে ভবিষ্যতে কেউ জেন এসব হয়রানির
স্বীকার না হন, জেলা উপজেলা বিভাগীয় কমিশনারের হস্তক্ষেপ চান কাদলা ইউনিয়ন এবং উপজেলাবাসী।

উক্ত বিষয়ে আনারসের প্রার্থী এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বার বার কল করা হলেও তারা এই প্রতিবেদকের কল রিসিব করেন নি।