পুলিশের চাকুরী বিধিমালা পরিপন্থী ও ক্ষমতার অপব্যবহার করায় বরিশালে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত!

কচূয়ারডাক ডেস্কঃ পুলিশের চাকুরী বিধিমালা পরিপন্থী ও  ক্ষমতার অপব্যবহার করায় বরিশালে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে তাদের বরখাস্তের আদেশ দেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান। বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বশির আহমেদ ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. শরীফ।

আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএমপি’র সহকারী কমিশনার মো. রাসেল। তিনি জানান, নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে তারা দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। যা বিভাগীয় তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আর এ জন্য তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এসআই বশির আহম্মেদ ও এএসআই শরিফুল ইসলামকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিএমপি’র একটি সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে ভয়ভীতি দেখিয়ে সদর উপজেলার চরমোনাই এলাকার বেশ কয়েকজন জেলে ও মাছ ধরার ট্রলার মালিকদের কাছ থেকে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা চাঁদা আদায় করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে তা তদন্ত করা হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এসআই বশির আহমেদ ও এএসআই মো. শরীফের বিরুদ্ধে নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত এবং বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল রাতে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই গ্রামে নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় দলিল লেখক রিয়াজকে কুপিয়ে হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই বশির আহমেদ। ২০ এপ্রিল নিহতের স্ত্রী লিজা পরকিয়া প্রেমিক মাসুমকে নিয়ে স্বামী হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন। পরবর্তীতে নগর গোয়েন্দা পুলিশের অধিকতর তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া তিন যুবক গত ২৮ আগস্ট স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, রিয়াজের ঘরে চুরি করতে ঢুকলে তিনি জেগে ওঠায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লিজার অভিযোগ, এসআই বশির আহমেদ তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে আদালতে মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছেন।