প্রকৌশলীকে লাঞ্চিত করার অভিযোগে কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত

কচুয়ার ডাক

চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশলী বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুর আলমকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগে কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানা যায়। যার স্মারক নং- ৪৬.০০.০০০০.০৪৫.২৭০০২.২০-২৯৯, তারিখ-২৩/০৭/২০২০ খ্রিঃ।

প্রজ্ঞাপণে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরের কর্মকান্ড উপজেলা পরিষদে কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে হাতাশা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি করতে পারে যা সার্বিক ভাবে উপজেলা পরিষদে কার্যক্রম বাস্তবায়নে অচলাবস্থা সৃষ্টি ও জনস্বার্থ মারাত্মক ভাবে বিঘিœত হওয়ার আশংকা সহ অন্যান্য উপজেলা পরিষদে বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে। সেহেতু, সরকার জনস্বার্থে তাকে তার সেই পদ হতে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়- উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ এর ১৩ (খ) ধারা অনুসারে চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহানকে কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হল; এবং কচুয়া উপজেলা প্যানেল চেয়ারম্যান-১ কে উপজেলা পরিষদের কাজ পরিচালনার জন্য পরিষদের আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হল।

জানা যায়, গত শনিবার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুর আলমের উপর হামলার ঘটনায় কচুয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে প্রকৌশলী নুর আলম বাদী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরকে প্রধান আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন। এরই সাথে তার সাথে থাকা ইমাম হোসেন ও জহির হোসেন সহ আরো ১৫/২০ জনকে অজ্ঞাতনামা করে আসামী করা হয়েছে।

শিক্ষা উপ সহকারি প্রকৌশলী কর্তৃক গত ১৯ জুলাই কচুয়া থানায় দায়ের করা মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে কচুয়া উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কচুয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ এর একটি ৬তলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। ওই ভবনের ইতোমধ্যে এক তলার ছাদ ঢালাই কাজ শেষ হয়েছে। নতুন করে কাজ করার জন্য ঠিকাদার নতুন করে আবার নির্মাণ সামগ্রী এনেছেন। ওই নির্মাণ সামগ্রীর মান যাচাই করার জন্য নির্মাণাধীন ভবনে গিয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুর আলম। যাওয়ার সময় তিনি সাথে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপায়ন দাস শুভকে নিয়ে যান। প্রকৌশলী ও ইউএনও নির্মাণ সামগ্রী যাচাই করছিলেন। হঠাৎ করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির তার লোকজন নিয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

প্রকৌশলী নূূরে আলম জানান, আমি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এক সাথে স্কুলের ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে কাজের অনিয়মের বিষয়ে তদারকী করি। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান উপস্থিত হয়ে আমাকে কোন কথা জিজ্ঞাসা না করেই কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে ফেলে দেয়। ঠিকাদার চেয়ারম্যানকে থামেন বললে তিনি তাকেও রুক্ষ মেজাজে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এবং আমাকে ও ঠিকাদারের শ্রমিকদের সাইড থেকে বের করে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তালা মেরে রাখে।