বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী মুজিব জন্মশতবার্ষিকী পালনে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি!

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী মুজিব জন্মশতবার্ষিকী পালন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও দ্বীন ইসলাম নিয়ে দেশের ভয়াভহ পরিস্থিতিতে আমাদের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি!

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বাবা সম্মুখযুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশকে শ্ত্রুমুক্ত করে এ দেশ কে স্বাধীন করেন, তাই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে একটু বেশিই গর্ববোধ করি, কারন এই অর্জনটি ছিল  আমার  বাবার।

মুসলিম দেশ, আমরা মুসলমান, দেশ-প্রেমিক মুসলমানের সন্তান হয়েই আমাদের জন্ম, ধর্ম কর্ম তো আমাদের পারিবারিক শিক্ষা দীক্ষা ও ঐতিহ্য- অনুপ্রেরনা বিদায় হজ্জের বানী।

স্বাধীন দেশে আজ পঞ্চাশ বছরের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন হচ্ছে, কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ পর্যন্ত বাবার সুচিকিৎসা কোন সরকার দিতে পারে নি, তার জন্য কোন সরকার নয় আমরা লজ্জিত?

দেশে বি এন পি-জামাত ক্ষমতায় আসার পর প্রথমেই বাবার রাজনৈতিক আদর্শিক কারনে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়, বাবা স্বাধীন দেশে কোন সরকারের কাছ থেকে আজ পর্যন্ত সু-বিচার পায় নি তার জন্য কোন সরকার নয় আমরা লজ্জিত?

আমি ও আমার পরিবার দেশের সাংবিধানিক অধিকারের  অন্ন, বস্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার জন্য কোনদিন কোন সরকার এম পি মন্ত্রী কিংবা রাস্ট্রের কোন কর্তা ব্যাক্তির কাছে আমাদের পক্ষে যাওয়া কিংবা  চাওয়া হয় নি। আমি ও আমার পরিবারের কাউকে হারাম রুটি রোজগার স্পর্শ করেনি, আমি ও আমার পরিবারের নামে কোন ব্যাংক লোনও নেই।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে আমি কিংবা আমার পরিবারের আমরা কেউ নই, কোন ঠিকাদারি লাইসেন্স আমাদের নেই, আমি সরকার ও দলের পক্ষে ভালো খারাপ কিছু লিখার কিংবা বলার অধিকারও রাখি না! বসবাস করছি নিজ দেশ ছেড়ে একটি ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড দেশে, তাই জুরিসডিকশান অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করি ও সামাজিক মাধ্যমে লিখি, আমার লিখা বা বলায় কারো বিরাগভাজন হওয়া, কিংবা কারো কিছু আসবে যাবে বলে আমি মনে করছি না।

 

বাবা বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালী জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে তৎকালীন জেড ফোরসের কমান্ডার সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অধীনে মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তা সত্য।

যুদ্ধ পরবর্তী কচুয়া উপজেলায় আওয়ামীলীগ কে সু- সংঘঠিত করতে এডভোকেট আউয়াল সাহেবের একান্ত কাছের আস্থাভাজন হিসেবে ২৪২ টি গ্রামে চষে বেরিয়েছেন, উপজেলা ইউনিয়ন গ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে অংশীদার হয়েছেন ।

তৎকালীন দেশের শুন্যতা উন্নয়ন নেতৃত্ব ও আদর্শের গুনাবলিতে  বাবা সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ও ভক্ত হিসেবে এখনো প্রবাসে দিনাতিপাত করছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও সরকারের প্রতিনিধিদের নিঃশ্চুপ নিরবতায় আমি বাকরুদ্ধ হতবাক, দেশের এই ক্রান্তিকালে সরকার ও দলের পদ ধারী ব্যাক্তিগনের আমার আপনার চেয়ে তাদের আগে এগিয়ে আসা উচিৎ নয় কি? আমরা তো এখন নগণ্য অতি ক্ষুদ্র সরকার ও দলের শুভাকাঙ্ক্ষী সমর্থক মাত্র।

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় আমরা শেখ মুজিব ও তার পরিবার কে একটু বেশিই ভালোবাসী  তা তো আমাদের অন্যায় হতে পারে না! আগেই বলেছি আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার ও দেশ প্রেমিক মুসলমানের সন্তান।

আমরা সাধারণ আমজনতা হয়ে থাকতে চাই, দল ও সরকারের যত অন্যায় দায় আমজনতা নিতে পারে কি?

দায়তো তাদের উপরই বর্তাবে যারা সরকার পরিচালনা এবং দলের পদ পদবী সুবাধাভোগী সরকারের পদ পূজারী তাদেরকেই ভালো মন্দ দায় বহন করতে হবে তাই নয় কি?

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী মুজিব জন্মশতবার্ষিকী পালনে এবং দেশের এহেন  পরিস্থিতিতে আমাদের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি এতটুকুই। ধন্যবাদ

লেখকঃ এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন টিটো চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গাজী সোলায়মান-নাজমা ফাউন্ডেশান কাদলা কচুয়া চাঁদপুর।