বাংলাদেশের সকল কলেজগুলোতে বিনা প্রয়োজনে প্রবেশ নিষিদ্ধ পুলিশি টহল জোরদাড়ে নির্দেশ-মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)

নিউজ ডেস্ক : সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে নববধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনার ৩ দিন পর ৯টি নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এরমধ্যে বিনা প্রয়োজনে কলেজ ক্যাম্পাসে জনসাধারণ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ছাড়াও পুলিশি টহল জোরদার করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর টিভি

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মাউশির উপ-পরিচালক (কলেজ-১) প্রফেসর ড. শাহ মো. আমির আলী স্বাক্ষরিত ‘কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে বন্ধ সরকারি ও বেসরকারি কলেজসমূহে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ সরকারি নির্দেশনা’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চিঠি দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কলেজ অধ্যক্ষদের পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিগত ১৮ মার্চ থেকে অদ্যাবধি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

[১] শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে দেশ এখনও পর্যন্ত করোনা মুক্ত রয়েছে, বললেন মোহাম্মদ নাসিম ≣ [১] পঞ্চগড়ে পুরোহিত হত্যা মামলায় জেএমবি সদস্য রাজিব গান্ধীসহ ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড ≣ [১] শ্রীনগরে আড়িয়ল বিলে কৃষকের ধান কেটে দিলো স্বেচ্ছাসেবক লীগ
‘প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে নিরাপত্তা বজায় রাখাসহ কলেজের সব সরকারি সম্পদ ও সরঞ্জামের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সচেষ্ট থাকতে হবে।’

দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকা কলেজ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও সম্পদ সুরক্ষাসহ সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ৯ দফা পদক্ষেপ জরুরিভিত্তিতে নেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

ওইসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, অনলাইন ক্লাস কার্যক্রম চালু রাখতে হবে এবং আঞ্চলিক পরিচালককে ক্লাস নেয়ার তথ্য দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে নিয়মিত পরিদর্শন প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাসে অংশগ্রহণ মনিটরিং ও অভিভাবকের সঙ্গে সংযোগ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিতে হবে। কলেজ ক্যাম্পাসে বিনা প্রয়োজনে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। কলেজের বিজ্ঞানাগার ল্যাব, আইসিটি ল্যাব, লাইব্রেরিসহ সার্বিক সরকারি সম্পত্তি ও নথি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ছাত্রাবাসগুলো বন্ধ রাখতে হবে এবং ছাত্রাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকসহ সব প্রবেশপথে সার্বক্ষণিক প্রহরী নিয়োজিত রাখতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে।

চিঠিতে সরকারি ও বেসরকারি সব কলেজের প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বর্তমানে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে বন্ধ সরকারি ও বেসরকারি কলেজে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজে প্রাইভেট গাড়িতে করে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক নববধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের সামনে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দু’জন।

এ ঘটনায় সিএমপি’র শাহপরান থানায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলার কাছে সেই রাতের ঘটনার জবানবন্দি দেন নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ। এ সময় তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আদালত গৃহবধূর জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেন।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এখন পর্যন্ত এজাহারনামীয় ৬ আসামিকেই গ্রেপ্তার করেছে সিলেট রেঞ্জ পুলিশ ও র‍্যাব-৯। এছাড়াও মামলায় উল্লেখিত অজ্ঞাতনামা ৩ আসামির মধ্যে ২ আসামিই ধরা পড়েছে। এখন কেবল অজ্ঞাতনামা ১ আসামিকে হন্য হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।