বাংলাদেশের সাবেক এম পি পাপুলের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা,দলে বহাল তবিয়তে ও পুরস্কৃত অন্যতম হোতা এবং সহায়তাকারী-সেলিম মাহমুদ!

কচুয়ারডাক অনলাইনঃ বাংলাদেশের সাবেক এম পি পাপুলের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা,দলে বহাল তবিয়তে ও পুরস্কৃত অন্যতম হোতা এবং সহায়তাকারী-সেলিম মাহমুদ!

কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে।সোমবার সংসদ সচিবালয় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। মানব ও অর্থপাচারের দায়ে কুয়েতের আদালতের রায়ে দণ্ডিত হওয়ায় সংসদ সদস্য পদ হারালেন তিনি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি প্রথম কোন সংসদ সদস্য যিনি বিদেশে আটক ও ফৌজদারি অপরাধে দন্ডিত হওয়ার পর পদ হারালেন।জানা যায়, সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি মতে স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর পর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করা হলো। এর আগে বিষয়টি নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে স্পিকার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় কুয়েত থেকে পাঠানো পাপুলের মামলার রায়ের কপি পর্যালোচনা করা হয়।

আরবি ও ইংরেজিতে লেখা ৬১ পৃষ্ঠার রায়ের কপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের স্পিকারের দপ্তরে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সংবিধান, কার্যপ্রণালি বিধি ও আইন অনুযায়ী এখন তার আর সংসদ সদস্য পদ নেই।

অর্থ ও মানবপাচারের মামলায় গত ২৮ জানুয়ারি পাপুলকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় কুয়েতের আদালত। পাশাপাশি তাকে ১৯ লাখ কুয়েতি রিয়াল বা ৫৩ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়। গত বছরের ৬ জুন রাতে কুয়েতের বাসা থেকে আটক করা হয় পাপুলকে। আটকের সাড়ে সাত মাস আর বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর সাড়ে তিন মাসের মাথায় দণ্ডিত হন তিনি।

কচুয়ারডাকের বিশেষ প্রতিবেদন-
বাংলাদেশের মাফিয়াডন দম্পতি ও মানবাপাচারকারী হিসেবে কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত এম পি আসামী মো:শহীদুল ইসলাম পাপুলকে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দলীয় প্রধান ও দলের সম্পাদকের বিনা অনুমতিতে আওয়ামীলীগ দলীয় সভাপতির অফিস থেকে কো-চেয়ারম্যানের পক্ষে এ ধরনের চিঠি দেয়ার বিধান দলীয় গঠন তন্ত্রে রয়েছে কিনা, সেলিম মাহমুদের কাছে দল ও কচুয়াউপজেলাবাসী আগামীতে কতটা নিরাপদ সেবা পেতে পারেন বলে দেশ-বিদেশ থেকে দলীয় কিংবা কচুয়ার একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনি মনে করছেন! সামাজিক মধ্যমে এইচটি ইমামের নেতিবাচক সমালোচনা করায় উপজেলায় মামলাবাজদের হয়রানির স্বীকার হয়ে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন প্রতিদিন শাহজাহান শিশির, মাফিয়াডন পাপুলকে সহায়াতকারী এইচ টি ইমামের পক্ষে সেলিম মাহমুদের এই অন্যায় দায় তাদের দল ও কচুয়া উপজেলাবাসী নিতে পারে কি? তাদের বিচার ও আইনের আওতায় আনা উচিৎ নয় কি?
লক্ষীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বললেন, ‘শহিদ ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী আমাদের লক্ষ্মীপুর জেলা, উপজেলা ও কোনো ইউনিয়ন কমিটির সদস্য পদেও নেই। তিনি মাঠপর্যায়ে দলীয় কোনো কাজও কখনো করেননি।’
তাহলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চিঠিতে কীভাবে শহিদ ইসলামকে দলের একজন নিবেদিত নেতা ও সক্রিয় মাঠপর্যায়ের কর্মী বলা হলো—এ প্রশ্নের জবাবে নূর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘হ্যাঁ, ওইভাবে একটা লেখা দেখেছি। ওইটা তো চিঠি যাঁরা ইস্যু করেছেন, তাঁরা বলতে পারবেন। ঊর্ধ্বতন ইউনিট যখন একটা কিছু দেয়, সে বিষয়ে আমাদের তো বলারও কিছু থাকে না।’
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ভোটের সময় লক্ষ্মীপুরে অনেকটা প্রকাশ্য আলোচনা ছিল যে ১২ কোটি টাকার বিনিময়ে নোমানকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেন শহিদ। এ প্রক্রিয়ায় জেলা আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতা এবং আসনটির সাবেক দলীয় এক সাংসদ যুক্ত ছিলেন। নির্বাচনে প্রার্থী সরানো, ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রণ করা থেকে জয়ী হওয়া পর্যন্ত শহিদকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কয়েকজনকে সন্তুষ্ট করতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা ​দিয়ে।
লক্ষ্মীপুর জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম আর মাসুদ বলেন, “বিষয়টা দৃশ্যমান না হলেও এটাই সত্য যে টাকার বিনিময়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পাপুলের সঙ্গে নেগোশিয়েট করেই এটা করেছিলেন। নোমান সাহেব সব খুলে না বললেও পাপুলের সঙ্গে লেনদেনের বিষয়ে আমাকে হিন্টস দিয়েছিলেন। ভালো অ্যামাউন্ট পেয়েই ছেড়েছিলেন, এমন ইংগিত আমি পেয়েছিলাম।”
জাতীয় পার্টির নেতাদের বরাত দিয়ে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, লক্ষ্মীপুর-২ আসন পাপুলকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্বাচনের আগে ঢাকায় এইচ টি ইমামের বাসায় একটি বৈঠকও হয়েছিল।
সেই বৈঠকে আসলে কী হয়েছিল, কেন পরে আওয়ামী লীগ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে চিঠি দিয়ে পাপুলকে সমর্থন দিতে বলেছিল, সে বিষয়ে কথা বলতে এইচ টি ইমামকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে কথা বলতে চাইলেও তিনি সাড়া দেননি।
সেলিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যে চিঠিটি ইস্যু হয়েছিল সেটি ছিল নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম সাহেবের সিদ্ধান্তটাই যথাযথভাবে পদাধিকার বলে আমি চিঠিতে জানিয়েছি।
“বাংলদেশে বিভিন্ন সময়ে এভাবে অনেকেই এমপি হয়েছেন। পাপুলের বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। স্বতন্ত্র এমপি পাপুল মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ সরকারের কোন দায় দায়িত্ব নেই।”
কচুয়ার জনগনের অনুরোধে সেই চিঠি তুলে ধরা হলো-
আল্লাহ সর্ব শক্তিমান
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি -২০১৮
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ
সভাপতির কার্যালয়
তারিখঃ ২১ ডিসেম্বর ২০১৮
বিষয়ঃ জনাব মোঃ শহীদ ইসলাম (পাপুল সাজাপ্রাপ্ত লক্ষীপুরের এম পি কুয়েত কারাগার) এর সমর্থনে দলীয় সমর্থন প্রসঙ্গে।
প্রিয়
আপনারা সদয় অবগত আছেন যে, লক্ষীপুর-২, সংসদীয় আসন-২৭৫ এর মহাজোট মনোনীত প্রার্থী জনাব মোঃ নোমান মহাজোটের বৃহত্তর স্বার্থে আওয়ামীলীগ দলীয় স্বতন্ত্র প্রাথী জনাব মোঃ শহীদ ইসলামের (পাপুল সাজাপ্রাপ্ত লক্ষীপুরের এম পি কুয়েত কারাগার) সমর্থনে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। আপনাদের জানা আছে যে জনাব মোঃ শহীদ ইসলাম (পাপুল সাজাপ্রাপ্ত লক্ষীপুরের এম পি কুয়েত কারাগার) আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিত নেতা ও সক্রীয় মাঠ পর্যায়ের কর্মী।দীর্ঘদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বৃহত্তর স্বার্থে এই আসনের বিজয় দলের পক্ষে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই লক্ষে জনাব মোঃ শহীদ ইসলাম কে (পাপুল সাজাপ্রাপ্ত লক্ষীপুরের এম পি কুয়েত কারাগার) সর্বাত্মক সমর্থন দিয়ে নির্বাচন কমিশনকৃত তার প্রতীকে বিজয়ের পদক্ষেপ গ্রহন অতীব জরুরী।
এই মর্মে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জনাব শহীদ ইসলাম কে (পাপুল সাজাপ্রাপ্ত লক্ষীপুরের এম পি কুয়েত কারাগার) সমর্থন প্রদানের জন্য আপনারা নির্দেশ দিতে পারেন।
এই বিষয়ে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।
শ্রদ্ধান্তে,
প্রতি,
১।জনাব গোলাম ফারুক পিঙ্কূ
সভাপতি
২। জনাব মোঃনুরুদ্দীন নয়ন
সাধারন সম্পাদক
লক্ষীপুর জেলা আওয়ামী লীগ
এইচটি ইমাম কো-চেয়ারম্যানের পক্ষে
স্বাক্ষর ……।।
(ড.সেলিম মাহমুদ)
সমন্বয়কারী
নির্বাচন পরিচালনা কমিটি
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ
কচুয়ার সেলিম মাহমুদের সুপারিশকৃত সেই মাফিয়া এম পি শহিদুল ইসলাম পাপুল কুয়েত কারাগারে চার বছরের জেল,দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের জন্য কলঙ্ক!
অর্থ ও মানবপাচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ ইসলাম পাপুলকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের একটি আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১৯ লাখ কুয়েতি রিয়াল (৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা) জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) এ রায় ঘোষণা করা হয়। গত বছরের ২৬ নভেম্বর এ মামলার শুনানি শেষে কুয়েতের অপরাধ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল-ওসমান এই দিন ধার্য করেন। বর্তমানে পাপুল দেশটির কারাগারে রয়েছেন।
গত ৬ জুন কুয়েতের আদালতের আদেশে মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হন সংসদ সদস্য শহীদ ইসলাম পাপুল। একই সময়ে পাপুল ও তার পরিবারের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনেদেনের তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
গত ২৭ ডিসেম্বর পাপুলের পরিবারের ৮টি ব্যাংকের ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব, ৩০ একরের বেশি জমি, গুলশানের ফ্ল্যাটসহ দেশে থাকা সম্পদ জব্দ করে দুদক। ১১ নভেম্বর অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এমপি পাপুল, তার স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানকে আসামি করে মামলা করে দুদক, কিন্তু ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে রইয়ে গেলেন আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ডঃ সেলিম মাহমুদ!
এবার কুয়েতে পাপুলের কত সম্পদ রয়েছে, তার তথ্য চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কুয়েতে চিঠি পাঠায় দুদক। এতে দেশে পাপুলের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্তের বিষয়ে উল্লেখ করে কুয়েতে থাকা পাপুলের কোম্পানি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের সাবেক এম পি পাপুলের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা হলেও দলে বহাল তবিয়তেই রয়ে গেলেন অন্যতম হোতা এবং যার আদেশ ও নির্দেশে আওয়ামীলীগের প্রার্থী না হয়েও সরসরি সহায়তাকারী হিসেবে সেলিম মাহমুদ তৎকালীন নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে থেকে চিঠী দিয়ে তাকে সাংসদ নির্বাচিত করেন।
(বাংলাদেশ প্রতিদিন বাংলা নিউজ ও দলীয় চিঠি থেকে সংগৃহীত )