বৈষয়িক করোনা-কভিড-১৯সহ আল্লাহর সকল পরীক্ষাতে ধৈর্যের সাথে এগোতে হবে-মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির!

কচুয়ারডাক নিউজ ডেস্কঃ বৈষয়িক করোনা-কভিড-১৯সহ আল্লাহর সকল পরীক্ষাতে ধৈর্যের সাথে এগোতে হবে-মাওলানা এমএ করিম ইবনে মছব্বির।

পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে ই মহান রাব্বুল আলামীন হযরত আদম আ, থেকে শুরু করে সর্ব শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ রাছুল সা, সহ সকল নবী এবং রাছুল সা,এমন কি সাহাবায়ে কেরাম, তাবিইন, আইম্মায়ে মুজতাহিদিন, অলি, আউলিয়া সহ পৃথিবীর সকল মানবজাতি কে ই মহান আললাহ পাক, বিভিন্ন ধরনের অগ্নি পরীক্ষা করেছেন। যারা আল্লাহর কঠিন পরীক্ষা তে ঈমান, এবং ধৈর্যের সাথে ঠিকে থাকবে, তাঁরা ই ইহকাল এবং পরকালে সফলতা লাভ করবে। আল্লাহ পাক যখন হযরত আইয়ুব কুষ্ঠ রোগ দিয়ে আঠারো বছর অবধি পরীক্ষা করেন, আল্লাহর পরীক্ষা তে আল্লাহ আল্লাহ জিকির করতে করতে হযরত আইয়ুব আ, আল্লাহর সে পরীক্ষা তে সফলতার সাথে পাশ করেন। অনুরূপ ভাবে হযরত ইউনুস আ, যখন মাছের উদরে চল্লিশ দিন ছিলেন, তখন তো আর দুনিয়ার কোন হসপিটাল বা ডাক্তার অথবা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য মাছের উদরে কোন ভেন্টিলেটর ও ছিলো না। সবই ছিলো মহান আল্লাহর কুদরতের শক্তির চমক। হযরত ইউনুস নবী মাছের উদরে ই প্রতি টা অক্সিজেন এর সাথে আল্লাহর জিকিরে লিপ্ত ছিলেন। ইউনুস নবী মাছের পেটে কি জিকির শুরু করেন, সেই জিকিরের নাম জান নূন। অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সূবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন।মহান রাব্বুল আলামীন ও ইউনুস নবী কে মাছের পেটে হিফাজত করলেন। নমরুদ যখন হযরত ইব্রাহিম আ, কে অগ্নি কুন্ডে ফেলে দেয়, তখন ফিরিশতা জিবরাঈল আ, ইব্রাহিম কে বলেন হে ইব্রাহিম আমি জিবরাঈল তোমাকে বাঁচানোর জন্য সাহায্য করবো, ইব্রাহিম নবী ফিরিশতা জিবরাঈল কে ধমক দিয়ে বলেন, ঐ ফিরিশতা জিবরাঈল তুমি তো আমার মত আল্লাহর সৃষ্টি মাখলূক, আমি অগ্নি কুন্ডে আছি সেটা আমার আল্লাহ দেখছেন, আমি ইব্রাহিম সরাসরি আল্লাহর সাহায্য চাই। তুমি ফিরিশতা জিবরাঈল আবার কে?আল্লাহর উপর এতটুকু কঠিন মজবুত ঈমান ছিলো হযরত ইব্রাহিম আ, এর মহান আল্লাহ পাক ও সরাসরি হযরত ইব্রাহিম আ, সা, কে হিফাজত করেন। নমরুদ আগুন কে বলে, হে ,আগুন তুমি ইব্রাহিম আ, কে শেয করে দাও, নমরুদ এর কথার উওরে আগুন নমরুদ কে বলে তুমি নমরুদ আমি আগুনের উদরে এসো তুমি নমরুদ কে আমি আগুন পুড়াতে এক সেকেন্ড ও বিলম্ব করবো না। অত পর মহান রাব্বুল আলামীন, আগুন কে নির্দেশ করেন হে আগুন তুমি ইব্রাহিম এর উপর শান্তি দায়ক হয়ে যাও। অতঃপর আগুন ও আল্লাহর নির্দেষে হযরত ইব্রাহিম আ, উপর শান্তি দায়ক হয়ে গেলো। আল্লাহ পাক পৃথিবীর সকল নবী এবং রাছুল গণ কে কঠিন পরীক্ষা করেন, তারা ও আল্লাহর সকল কঠিন পরীক্ষা তে সফল ভাবে কামিয়াব হয়েছিলেন । মহামারী করোনা ভাইরাসে আমি অধমের কিছু পরামর্শ হলো আমরা সবাই শেষ রাতে তাহাজজুদ এর নামাজ পড়ে আল্লাহর নিকট কান্না কাঠি করা।আর সত্যিকারের মুমিন রা বিপদে পড়লে ও তাঁরা কোন ভয় ভীতি না করে বলবে আমরা তো আল্লাহর জন্যই আর নিশ্চিত আমরা আল্লাহর নিকট ফিরে যাবো। সুরা বাকারাহ। আর এ পরীক্ষায় যারা ঠিকে থাকবে সেই দৃঢ় বিশ্বাসী মুমিন রা মহান আল্লাহর সমগ্র দয়া, রহমত, ও হিদায়ত প্রাপ্ত। সুরায়ে বাকারাহ। দুনিয়া তে ভাইরাসের মেডিসিন খুজতে হচ্ছে, ।কিন্তু কবরে যখন পোকা, মাকড়, সাপের আজাবের ভাইরাস শুরু হবে তখন কি করবেন?মহামারী করোনা ভাইরাসে ঈমান হারা, ধৈর্য হারা না হয়ে, সর্ব অবস্থায় মহান আল্লাহর উপর ভরসা করুন। ফজরের নামাজ আদায় করে ভোরের হাওয়া, বাতাস নিতে থাকুন। রাছূল সা, বলেন মৃত্যু ছাড়া সকল রোগের মহা মেডিসিন কালোজিরা নিয়মিত আহার করুন, তার সাথে খাটি মধু ও পান করতে থাকুন। ওয়া ইজা মারিজতু ফা হুয়া ইয়াশ ফিন, দোয়া টি পাঠ করে পানি পান করুন। দুনিয়ার মেডিসিন একটা উছিলা মাএ। মেডিকেল আর হাসপাতাল যদি কাউকে বাঁচাতে পারতো, তাহলে মানুষের মৃত্যু হতো না। আল্লাহ পাক মানুষের জনমের আগে ই মৃত্যু টা সৃষ্টি করেছেন। মেহের বাণী করে আমরা সবাই যেনো মহান আল্লাহর উপর মজবুত ঈমান এবং তকদিরের ভাল মন্দ সকল প্রকার বিপদে আপদে, ধৈর্যের উপর অবিচল থাকি, এবং মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা অন্তরে রাখার নিয়ত করি এবং পাচ ওয়াক্ত এর ফরজ নামাজ আদায়ে যত্নবান হই, এ ছাড়া জন্য থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত জীবনে যত ফরজ নামাজ কাযা হয়ে ছে, সেই সমূহ উমর কাজা নামাজ গুলি আদায়ে সচেষ্ট হই ,নিয়মিত আল কোরআন তিলাওত এর চেষ্টা করবেন, কেননা আল কোরআন এর আলিফ,লাম, মীম থেকে মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাছ পর্যন্ত আল্লাহর সকল বান্দা দের জন্য শিফা, সম্পূর্ণ আল কোরআন ই রোগ নিরাময়ের মেডিসিন ।আল্লাহ পাক সারা পৃথিবীর মানুষ জাতি কে তার কুদরতের অফুরন্ত দয়া দিয়ে আমাদের সবাইকে পেনডেমিক মাইক্রোসকোপ ভাইরাস থেকে হিফাজত করুন আমীন। আল্লাহ পাক আমাদের সকলের সহায় হোন ।

লেখকঃ সাবেক ইমাম ও খতীব বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ মসজিদ।