মোশতাক সরকারের শপথ পড়িয়েছিলেন প্রয়াত এইচ টি ইমাম ক্ষুব্ধ ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও!

এইচ টি ইমামের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন প্রধানমন্ত্রীও! গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের প্রতিষ্ঠিত করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বক্তব্যের কারণে সরকার ও দল বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। গত ১৩ ই নভেম্বর ২০১৪ সালে শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টার প্রতি এই ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত  উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও আলাউদ্দিন আহমেদ।

সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এইচ টি ইমাম ওই দিন সম্পূর্ণ অকারণে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বক্তব্য দিয়েছেন। সংসদীয় বোর্ডের দুজন সদস্যও এ সময় এইচ টি ইমামের বক্তব্যে সরকার ও দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। বোর্ডের অন্য সদস্যরাও তাতে একমত পোষণ করেন বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় এইচ টি ইমামের স্বপদে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করেছিলেন কেউ কেউ।
গত ১১/১১/২০১৪ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এইচ টি ইমাম ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে বলেছেন, ‘নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ পুলিশ ও প্রশাসনের যে ভূমিকা, নির্বাচনের সময় আমি তো প্রত্যেকটি উপজেলায় কথা বলেছি, সব জায়গায় আমাদের যারা রিক্রুটেড , তাদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের দিয়ে মোবাইল কোর্ট করিয়ে আমরা নির্বাচন করেছি। তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, বুক পেতে দিয়েছে।’ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমাদের লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হবে। তার পরে আমরা দেখব।

এ বক্তব্যের পর থেকেই আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং মন্ত্রীরাও প্রথম আলোর কাছে অনানুষ্ঠানিকভাবে এইচ টি ইমামের বক্তব্য নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাঁরা দলীয় এবং সরকারি পদ থেকে এইচ টি ইমামকে অপসারণ করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন। এ প্রসঙ্গে এই নেতারা তৎকালীন  নিউইয়র্কে দেওয়া আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, তিনিও সরকার এবং দলকে বিপদে ফেলেছিলেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সরকার ও দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এইচ টি ইমামও একইভাবে দল ও সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এইচ টি ইমামের কড়া সমালোচনা করেছিলেন।

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সাবেক আমলা এইচ টি ইমাম প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা হিসেবে সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমান সরকার শপথ নেওয়ার পর তিনি মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। এইচ টি ইমাম বঙ্গবন্ধুর আমলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ছিলেন। তবে তিনি ১৫ আগস্টের পর খোন্দকার মোশতাকের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানও পরিচালনা করেন।

মোশতাক সরকারের শপথ পড়িয়েছিলেন এইচ টি ইমাম: রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকারের শপথ পড়িয়েছিলেন জানিয়ে তাকে পলাশীর বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর আলী খানের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক সময় এইচ টি ইমামের সমালোচনা করে রিজভীও তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ব্লু-প্রিন্টের কুখ্যাত কারিগর এইচ টি ইমাম যে তালিকা সিইসিকে দিয়েছে, তা-ই বৈধ বলে প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন জেলার রিটার্নিং অফিসাররা। এই এইচ টি ইমাম সরকারের সকল কুকর্মের হোতা। তবে এখনো আওয়ামী লীগের বোধোদয় হচ্ছে না যে, এই এইচ টি ইমাম যেকোনো মুহূর্তে চোখ উল্টে দিতে পারে; যেমন পচাত্তরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ ডিঙিয়ে খন্দকার মোশতাকের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন। শপথ পড়িয়েছিলেন মোশতাক সরকারকে।’

‘তিনি যদি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের এতটাই অনুসারী ও ভক্ত হতেন, তাহলে তো শেখ মুজিবুর রহমানের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ক্যাবিনেট সেক্রেটারি পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। মীর জাফরের সকল গুণই এই এইচ টি ইমামের মধ্যে বিদ্যমান।

তার মৃত্যুর আগে ও পরে তাকে নিয়ে বিতর্ক থামে নি-

হোসেন তৌফিক ইমাম। যিনি এইচ টি ইমাম নামেই পরিচিত। একজন ডাকসাইটে আমলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা। সরকারি চাকুরী শেষ করে দীর্ঘ কর্মময় জীবনেও হয়ে উঠেছিলেন একজন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। পাশাপাশি ছিলেন সুবক্তা ও লেখক।

বুধবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার পর রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এই কর্মবীরের জীবনাবসান হয়েছে। তার বিয়োগে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সুত্রঃ প্রথম আলো , জাগো নিউজ