সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের অনিবার্যতা প্রসঙ্গে!

সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের অনিবার্যতা প্রসঙ্গে-

শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা, ডাক্তারি, নার্সিংসহ কিছু সুনির্দিষ্ট পেশাকে মহান পেশা হিসেবে সাধারণভাবে আখ্যায়িত করা হয়। এই পেশাগুলোর মধ্যে সাংবাদিকতা খুবই চ্যালেঞ্জিং একটি পেশা। এই পেশায় জড়িতদের প্রতিনিয়ত ভাগ্যে থাকে বদনাম ও সুনাম দুটোই। উকিল ও পুলিশের মতোই অবস্থা অনেকটা। প্রবাদ হলেও এটাই সত্য যে, প্রকৃত সাংবাদিকের কোনো বন্ধু নেই, বন্ধু থাকতে পারে না। তিনি কখনো কারো দ্বারা ব্যবহৃত হতে পারেন না। তারপরও কিছু সাংবাদিক অনেকের বন্ধু হয়ে যান এবং বর্িিভন্নভাবে ব্যবহৃত হন। এটা এমন সাংবাদিকের জন্যে লক্ষ্মীর বিষয় বলে কথিত হলেও তার অনুকূলে সারস্বত্য এনে দেয় না বললেই চলে।

একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সাংবাদিকরা যখন দ্বিধা-বিভক্তি, অনৈক্য, গ্রুপিং ইত্যাদি সমস্যায় ভোগে, তখন ওই এলাকার অসৎ রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ একটি খারাপ চক্র সাংবাদিকদেরকে নিজেদের ক্রীড়নকে পরিণত করে কিংবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহারের সর্বাত্মক প্রয়াস চালায়। এমতাবস্থায় সাংবাদিকতার সঠিক গতিপথে ওই এলাকার অধিকাংশ সাংবাদিক টিকে থাকতে হিমশিম খান। রাজনীতিবিদদের প্রভাবশালী কেউ কেউ দ্বিধা বিভক্ত সাংবাদিকদের এক গ্রুপের নেতাকে বলেন, তোমাকে/আপনাকে আমাদের সভায় অমুকের গুণ গেয়ে বক্তব্য রাখতে হবে। তুমি বক্তব্য না রাখলে তোমার প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেবো। বস্তুত এমনটি বলে এমন রাজনীতিবিদরা সাংবাদিকদের ২/৩ গ্রুপের নেতাদের দিয়েই বক্তব্য দেয়ায় এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে বোঝায়, তোমাদের পক্ষে সাংবাদিকরাও নেই, তোমরা এতোটাই অজনপ্রিয়। অসৎ কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বৈধ-অবৈধ সুবিধা দেয়ার আশ্বাসে কিংবা সে সুবিধা নিশ্চিত করে দ্বিধা-বিভক্ত সাংবাদিকদেরকে তাদের ইচ্ছেমতো কাজে লাগায়, বিশেষ করে প্রশস্তিমূলক, উন্নয়নমূলক সংবাদে প্রলুব্ধ করে। আর জনপ্রতিনিধিরা দ্বিধা-বিভক্ত সাংবাদিকদের ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রয়োজনে। এতে এমন সব সাংবাদিকের সাথে কারো স্থায়ী শত্রুতা সৃষ্টি হয়, এমনকি জীবন বিপন্ন হবার ঘটনাও ঘটে।

চাঁদপুর জেলা সদর ও হাইমচরে সাংবাদিকদের দ্বিধা-বিভক্তি না থাকলেও মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ ও কচুয়ায় সেটি সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। আর মতলব দক্ষিণ, শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জে ততোটা দৃশ্যমান নয়, তবে বিদ্যমান নেতৃত্ব নিয়ে চাপা অসন্তোষ বা ক্ষোভ রয়েছে। এমন দৃশ্যপটে ফরিদগঞ্জের দ্বিধা-বিভক্ত সাংবাদিকগণ গত ১৩ নভেম্বর শুক্রবার কোনো তৃতীয়পক্ষের সহায়তা ছাড়াই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অতীত পরিণতি ও ভবিষ্যৎ পরিণতি উপলব্ধি করে সঠিক পরিণতির সাথে সদা-সর্বদা চলার জন্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেছেন। প্রেসক্লাব, ফরিদগঞ্জের বিলুপ্তি ঘটিয়ে এই উপজেলা সদরে সাংবাদিকদের প্লাটফর্ম হয়ে গেছে এখন একটাই এবং সেটি হচ্ছে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব। এক্ষেত্রে যারা ঔদার্য প্রদর্শন করেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন তারা নিশ্চয়ই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পাবেন বিশেষ মর্যাদায়।

স্মর্তব্য, শুধু সাংবাদিকদের সংগঠন নয়, যে কোনো সংগঠনের মধ্যে কিংবা পেশাজীবীদের মধ্যে অনৈক্য ঠেকাতে হলে প্রয়োজন নির্দিষ্ট মেয়াদশেষে নেতৃত্বের পরিবর্তনে স্বচ্ছতা রক্ষা। এটি রক্ষা করা না গেলেই তৈরি হয় দ্বিধা-বিভক্তি, অনৈক্য, গ্রুপিং ইত্যাদি সমস্যা। এই সমস্যা নিয়ে যে নেতা মাথা ঘামান, গুরুত্ব দেন তিনি সাধারণত পদলোভী হন না, তিনি হন সংগঠনের অস্তিত্ব ও সুনাম রক্ষার প্রশ্নে এক অতন্দ্র প্রহরী। এমন অতন্দ্র প্রহরীই প্রয়োজন বিভিন্ন সংগঠনে।

(ছবি কচুয়া প্রেসক্লাব)

চাঁদপুর কন্ঠ