সুপার স্প্রেডারস; করোনার অজানা সংক্রমণের নায়ক

জনসমাবেশ এড়াতে বলা হলেও যদি এসব উপেক্ষা করে অনেক মানুষ জড়ো হয় তখন সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। যারা বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে সংক্রমিত করেন এদেরকে বিজ্ঞানীরা বলছেন সুপার স্প্রেডারস। বিপজ্জনক হল, যে কোন কেউ হতে পারেন এমন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কেউই করোনার ইম্মুন নন, আর অন্যকে সম্প্রচার করতে পারবেন না এমন ইম্মুনিটিও কারও নেই। তাই সুপার স্প্রেডার যাতে না হন এজন্য প্রতিরোধের গাইড লাইন অনুসরণ করা উচিত।

আপনার করোনা আছে জানার আগেই আপনি করোনা ছড়াতে শুরু করতে পারেন। একটি শুকনো কাঁশি হওয়ার আগেই শরীরে করোনার সংখ্যা বৃদ্ধি শুরু হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, একজন লোক হতে পারেন viremic অর্থাৎ উপসর্গ হবার আগে একজনের শরীরে ভাইরাস চলমান হতে পারে বেশ কিছু দিন উপসর্গ হবার আগে। কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলে করোনা সম্প্রচার ঘটেছে সুপার স্প্রেডারদের মাধ্যমে।

অতীতের অনেক বিয়োগান্ত ঘটনার পেছনে আছে সুপার স্প্রেডারস
ইতিহাসে ক্লাসিক সুপার স্প্রেডার টাইফয়েড মেরি, তার আসল নাম মেরি মিল্লন। বিংশ দশকের গোড়ার দিকে তিনি ছিলেন একজন পাচিকা। তার কোন উপসর্গ ছিল না। কিন্তু পরে দেখা গেল ৫০ জন লোকের মধ্যে টাইফয়েড জ্বর ছড়িয়েছিলেন মেরি। ২০০৩ সালে চীনের বেইজিং সার্স মহামারির সময় সিডিসির ভাষ্য, একজন লোক ৭৬ জনকে ভাইরাস ছড়িয়েছিল। মার্স যখন দক্ষিণ কোরিয়াতে ঘুরছিল তখন একজন লোক ছড়িয়েছিল ২৮ জনের মধ্যে, এরপর ১০০ অধিক লোকের মধ্যে। আমেরিকায় হামের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ি ছিল এমন সুপার স্প্রেডার।
কিভাবে সুপার স্প্রেডার নিজে হওয়া প্রতিরোধ করবেন-
দুই ভাবে
প্রথমে রোগ না হওয়া
আর হলে অন্যকে সংক্রমিত না করা
নিয়মিত হাত ধোয়া, অপরিচ্ছন্ন হাত নাক মুখ চোখে না দেওয়া, জনসমুক্ষে গেলে মাস্ক পরা।
ঘরে থাকা
আর অতি প্রয়োজনে বাইরে গেলে অপর থেকে ৬ ফিট দূরত্ব রাখা
ঘরে থাকলে আর সামাজিক বিচ্চিন্নতা বজায় রাখলে আপনি রোগ ছড়ানো প্রতিরোধ করতে পারেন।