স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় এবং কচুয়া প্রশাসনের বিরুদ্ধে দ্বি-মুখীতার অভিযোগ মুক্তি পেলেও উপজেলা চেয়ারম্যানের সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ প্রত্যাহার করা হয়নি,সাজাপ্রাপ্ত হয়েও কাউন্সিলর বহাল!

কচুয়ারডাক নিউজডেস্কঃ কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তি পাবার পরও পুনরায় প্রজ্ঞাপন জারি করে সাময়িক বরখাস্ত তুলে নিয়ে চেয়ারম্যান পদে বহাল না করা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে সুলতানা খানমের পদত্যাগ না করায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অন্যদিকে কাউন্সিলর আদালত থেকে যাবজ্জীবন ও চার বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়েও বহিস্কার না হয়ে বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আইন ও বিধি সমান হলেও উপজেলা প্রশাসন দ্বিমুখীতার পরিচয় দিয়েছেন বলে জনমনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।  কচুয়া উপজেলা জনগনের দাবী অনতি বিলম্বে বরখাস্তের আদেশ তুলে নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান কে তার পদ ও চেয়ার বুঝিয়ে দিয়ে ভোটাধিকার রক্ষায় জনগনের সেবা প্রদানের প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন, অন্যথায় জনগনকে সাথে নিয়ে চেয়ারম্যান কে বহাল করতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন। স্থানীয় যুবলীগ নেতা দাবী করেন  উপজেলা চেয়ারম্যান কে মামলার ৩৮ ঘন্টার মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও একজন  কাউন্সিলর দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজা প্রাপ্ত হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা গ্রহন না করায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান শেষে পিতা মাতার কবর জেয়ারাত ও মানুষের ভালবাসার ঋণ শুধরাতে দীর্ঘ ৬মাস পর মিথ্যা, বানোয়াট, হয়রানিমূলক মামলায় কারামুক্তির পর চিকিৎসা গ্রহণ করেই আজ কচুয়া উপজেলায় আসছেন কচুয়া উপজেলা পরিষদের বারবার নির্বাচিত জনগনের উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির।
কচুয়ার ইতিহাসে নতুন একটি মাইল-ফলকের অপেক্ষায়, হাজার হাজার জনতার উষ্ণ অভ্যর্থনার প্রহর গুনছেন শিশিরভক্তরা, এই নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে প্রান চাঞ্জল্য ও উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা, দীর্ঘদিন পর তাদের প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য উপজেলার পথে প্রান্তরে, হাটে বাজারে, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র/ছাত্রী ও শুভাকাংখীরা রয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

গত ৭ই ডিসেম্বর কচুয়া উপজেলার আজ পাঁচলক্ষ জনগনের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ, উপজেলার জনপ্রিয় দুই দুই বারের চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির কি এমন দোষ করলেন ৩মাস ১২ দিন জেল খাটতে হলো,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার মহোদয় এর কাছে উপজেলার পাঁচলক্ষ জনগনের বিনীত আবেদন আপনি আপনার যেই কোনো মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় একটা টিম গঠন করুন। কি হয়েছিল সেইদিন কচুয়ায়?

কচুয়া উপজেলা পরিষদের দু’বারের নির্বাচিত জনপ্রিয় জনতার চেয়ারম্যান খ্যাত মো: শাহজাহান শিশির গত ১৯ জুলাই কচুয়া উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শহীদ স্মৃতি বালিকা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মানাধীন ৬তলা বিশিষ্ট কাজ নির্মান কাজে অনিয়মের ঘটনায় শিক্ষা প্রকৌশলী নুরে আলমের সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে প্রকৌশলী লাঞ্চিত হয়। এ নিয়ে ওই দিন রাতে চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: নুরে আলম বাদী হয়ে কচুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১০,তারিখ: ১৯.০৭.২০২০ ইং। ওই মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরকে প্রধান আসামী ও তার পিএ মো: জহিরুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ নেতা মো:ইমাম হোসাইনকে আসামীসহ অজ্ঞাতনামা ১৮জনকে আসামী করা হয়।
২৩ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় উপ-সচিব জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশের মাধ্যমে শাহজাহান শিশিরকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়। এরপরে ২৫ আগষ্ট শাহজাহান শিশির চাঁদপুরের নি¤œ আদালতে জামিন চাইতে গেলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে তাঁর মুক্তির দাবিতে কচুয়ার বিভিন্ন এলাকায় গণআন্দোলন করে ভক্তবৃন্দ ও দলীয় নেতাকর্মীরা । এর আগে গত ২২ অক্টোবর শাহজাহান শিশির চাঁদপুর কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করে কারাকর্তৃপক্ষ। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা সেবা নেয়ার পর কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে পাঠানো হয়। কচুয়া ইতিহাসে এই প্রথম কোনো জনপ্রতিনিধি সাময়িক বহিস্কার হয়ে টানা ৩মাস ১২দিন কারাবরণ করেন।