আ,ন,ম এহসানুল হক মিলন(সাবেক এমপি)জনগন থেকে ছিটকে পড়ে আবারো হয়ে যান স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসি?

কচুয়ারডাক নিরবাচিত কলাম:চাদঁপুর কচুয়ার আ,ন,ম এহসানুল হক মিলন(সাবেক এমপি)জনগন থেকে ছিটকে পড়ে আবারো হয়ে যান স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসি?

অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন টিটো, লন্ডন ইউ,কে-

১৯৯৬ ও ২০০২ সালে চাঁদপুর-১কচুয়া থেকে পরপর দুবার কাকতালিয়ভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন এই সাবেক এমপি ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আনম এহসানুল হক মিলন। ছাত্রজীবন শুরু হয় ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে অত্যান্ত চতুর ও ধুর্তবাজ মিলন জিয়াউররহমানের হাত ধরেই ছাত্রদলে পর্দাপন করেন অতঃপর হয়েযান স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী,পেশায় ছিলেন একজন টেক্সিচালক।যুক্তরাস্ট্র বি এন পির অভিভাবকও বনে যান মিলন ৯০এর দশকে।
চাঁদপুর কচুয়ায় তৃনমুল বিএনপিতে কোন অবদান নাথাকলেও অনেকটা উড়ে এসেই বিএনপির কেন্দ্র থেকে দলীয়নমিনেশন নিয়ে রিতীমতো তাক লাগিয়ে দেন কচুয়া বাসীকে অতঃপর বনে যান কচুয়ার সাংসদ। সাংসদ হয়েও কাগজে কলমে কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করেত পারেননি, কারন তৎকালিন বিরোধীদলিয় এমপি বলে অনেকটা কোসঠাসা হয়ে পড়েন মিলন।
ডঃমহীউদ্দীনখান আলমগীর ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রির মুখ্যসচিব/সংস্থাপন সচিব থাকলেও পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনকে চেলেঞ্জ করে জনতার মঞ্চের মুল নায়ক হয়ে যান সাবেক এই আমলা ডঃখান। আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে সরকারের টেকনোকেট পরিকল্পনা মন্ত্রি হিসেবে ১৯৯৭ নিয়োগ প্রাপ্ত হন তিনি।অবহেলিত চাঁদপুর ও কচুয়াকে টাইটানিকে রুপান্তরিত করতে সমর্থ হন। হাজার হাজার কর্মী ও বেকার যুবকদের নিজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি প্রদানসহ উন্নয়নের ধারা বইয়ে দেন কচুয়ায় সাবেক এই আমলা ও মন্ত্রি ডঃমহীউদ্দীনখান আলমগীর যা তিনি এখনও অব্যাহত রেখেছেন।

বাংঙ্গালী জাতী হিসেবে আমাদের রক্তে মিরজাফরদের ও বেইমানের রক্ত প্রবাহিত সেই নবাব আমল ও দেশ স্বাধীনের পর থেকেই। ডঃমহিউদ্দীন খান আলমগীর যিনি কিনা নির্বাচিত না হয়েও নিজ যোগ্যতায় শুধুমাত্র টেকনোকেট মন্ত্রী হয়ে যে পরিমান উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন সেই অবদানের স্বীকৃতি স্বরপ কচুয়াবাসী কিনা তাকে মুল্যায়ন করতে ব্যার্থ হলেন ২০০১ সালের নির্বচনে।
কচুয়াবাসী ভোটদিলেন না ডঃখানকে ভোট দিলেন মিলনকে, অতঃপর এমপি ও প্রতিমন্ত্রী বনে যান মিলন।
সারা বাংলায় শিক্ষাক্ষেত্রে স্বরনকালের বিপর্যয় ছিল তৎকালীন বিএনপি জামাত আমলে। বেগম জিয়া রাস্ট্রীয় পতাকা তুলে দিলেন বাংলার কুখ্যাত রাজাকার আলবদর ও বেইমানদের হাতে আর শিক্ষাক্ষেত্র জাতীকে ধ্বংস করতে পতাকা তুলে দেন মিলন আর ওসমান ফারকদের হাতে। মিলন হেলিকাপ্টারে চড়ে দেশের জাতীয় সম্পদ ন্স্ট আর শতশত স্খুলের শিক্ষকদের নিজ হাতে বেত্রাগাতে পেটানো, গালে থাপ্পরমাড়া ছাড়া আর কিছুই উপহার দিতে পারেন নি শিক্ষাক্সেত্রে জাতীকে।যদিও নকলের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধ ঘোষনা ছিল অতঃপর তাও ব্যার্থ হয়। দেশে ছিল না শিক্ষাক্ষেত্রে অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন কিংবা ভবিষ্যৎ পরিকল্পপনা। শিক্ষাঙ্গনে তৈরি হয় শিবিরের সন্ত্রাসী আখড়া আর জামাতইসলামী জাতীকে আবারও মেধাশুন্য করতে সফল হয়, যেমনটা সফল হয়েছিল ১৯৭১ সালে।

শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে মিলন নিজ আসন চাঁদপুর কচুয়ায় স্কুল কলেজের উন্নয়নে ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছেন,শুধুমাত্র চাঁদপুর সদর থেকে ঘষামাজা করে একটি টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপন করেন কচুয়াতে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কিছু ভুয়া চাকুরী প্রদান করেন যা পরবর্তী সরকার আইনি প্রক্রিয়ায় অপসারিত করেন। সারা বাংলাদেশে স্কুল কলেজের উন্নয়নের জোয়ার বয়ে গেলেও তখন ইটপাথরের ছোয়া লাগনে কচুয়ার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
মিলন ব্যাক্তি জীবনের অর্ধেকেরও বেশী সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটালেও তার মায়া তিনি ছাড়তে পারনেনি অতঃপর কচুয়ার লাখো জনতাকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে নেতা কর্মীদের ডেঞ্জার জোনে রেখে অনেকটা প্রতারিত জনপ্রতিনিধি হিসেবেই আবারও আশ্রয়গ্রহন করনে যুক্তরাষ্ট্রে। ৩১টি মামলার আসামী হয়ে ফেরারী জীবন খুন ও চুরির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন দেশ থেকে দেশান্তরে।

কিন্তু কি পেলেন কচুয়া বাসী যিনি কিনা দুই দুইবার এমপি নির্বাচিত হয়েও কচুয়াবাসীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা আর প্রতারনা করে আবারও পাড়ি দিলেন সুদুঢ় প্রবাসে,এটাই কি কচুয়াবাসীর নিয়তি ছিল?
আনম এহসানুল হক মিলন শুধু এখানেই থেমে থাকেননি প্রতারনা আর চাঁদাবজির মিশন আর জাল বুনেঁছেন যুক্তরাস্ট্রে গিয়েও তাও আবার বিএনপির ভাইসচেয়ারম্যান বড়ভাই তারেকের নাম ধরেই। কমিটি ঘঠনে চাঁদাবাজীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে যুক্তরাস্ট্র বি এনপি কতৃক ধাওয়াও খেয়েছেন বলে খবর ও পত্রিকাতে প্রকাশিত হয় সাবেক এই মন্ত্রী ও এমপির বিরুদ্ধে।
জেল জুলুম আর নির্যাতন যেখানে বাংলাদেশ রাজনীতিবিদদের নিত্যদিনের তা উপলব্ধী করেই ডঃমহিউদ্দীন খান আলমগীর জেল জুলুম আর নির্যাতনকে আলিঙ্গন করে কুচুয়ার মাটি থেকে কোন দিন প্রবাসি হতে চাননি কারন তিনি কচুয়া মা মাটি মানুষ ও দেশকে ভালবাসেন বলেই ৭৭বয়সে জনগনের মাঝে আজও বিচরন করছেন উদ্যোম গতিতে। কচুয়া বাসী তা মনে রাখবে কি?

অন্যদিকে নাম লেখালেন বাংলাদেশের সেরা ব্যার্থমন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধির তালিকায় আ,ন,ম এহসানুল হক মিলন সাবেক এমপি, চলে গেলেন আবারও প্রবাস জীবনে সুদুঢ় যুক্তরাস্ট্রে। কচুয়াবাসী আবারো মিলনের এই প্রতারনা ভুলে যাবে কি?

লেখক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সরকারি আইনজীবী প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ঢাকা।

2,080 total views, 1 views today

মন্তব্য করুন।

Please enter your comment!
Please enter your name here