ক্ষমতা শুধু ভোগের নয় ত্যাগেরও : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কচুয়ার ডাক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতা শুধু ভোগের জন্য নয়, ক্ষমতা ত্যাগেরও বিষয়। মানুষের জন্য দেশের জন্য কতটুকু দিতে পারলাম সেটাই মূল বিষয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২১০০ সালে কেমন হবে সেটা মাথায় রেখে আমরা ১০০ বছরের পরিকল্পনা করছি। যে গতিতে বাংলাদেশ এগুচ্ছে তাতে আগামী ৪১ সালে এই বাংলাদেশ উন্নত বাংলাদেশ হবে বলে বিশ্বাস করি।
তৎকালীন পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার গোপন নথিগুলো নিয়ে ‘সিক্রেট ডকুমেন্ট অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য ন্যাশন বঙ্গববন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শিরোনামে ১৪ খন্ডে প্রকাশিতব্য বইয়ের প্রথম খন্ডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল বিকেলে ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বইটির সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী এ বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করেন। বইটি প্রকাশ করছে হাক্কানী পাবলিশার্স। প্রচ্ছদ করেছেন সমর মজুমদার। প্রতিটি খন্ডের প্রচ্ছদের ডিজাইন একই। ৫৮২ পৃষ্ঠা সম্বলিত প্রথম খন্ডের মূল্য ৯০০ টাকা।
ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এর সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান। এ ছাড়া হাক্কানী পাবলিশার্স-এর প্রকাশক গোলাম মোস্তফা, আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর নজরুল ইসলাম খান।
উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু পারেনি। দিন যতই যাচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাস ততো সমৃদ্ধ হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের নাম আরও উজ্জ্বল হয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করছি। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। বাংলাদেশের অগ্রগতি দেখে পাকিস্তানের অনেক নাগরিক বলছে, এদেশকে বাংলাদেশ বানিয়ে দাও।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রজীবন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শুধু সংগ্রাম করে গেছেন। তার সংগ্রাম ছিল এ দেশের মানুষকে শোষণ বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষা করা। তৎকালীন পূর্ব বাংলা এবং পাকিস্তানের মধ্যে যে বৈষম্য ছিল সে বৈষম্যের কথা বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বার বার জেল খেটেছেন, বারবার তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই প্রকাশনায় অমূল্য তথ্য ভান্ডার রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট সবই জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ রিপোর্ট তারপরও কেন আমরা প্রকাশ করলাম, এটা অনেকের মনে আসতে পারে?’
তিনি বলেন, আমি জানি না পৃথিবীতে কোথাও কোনো দেশে কেউ কখনো কোনো নেতার বিরুদ্ধে কোনো রিপোর্ট হলে সেটা প্রকাশ করেছে কি না? আমার মনে হয় আজ পর্যন্ত বোধহয় কেউ করেনি। কিন্তু আমার আগ্রহ এ কারণেই এই রিপোর্টের মধ্য দিয়ে ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত জাতির পিতার প্রতিটি কর্মকান্ড, তিনি কী করেছেন, কোন মিটিং করেছেন। কোন মিটিংয়ে কী বক্ততা দিয়েছেন, তার অনেক তথ্য সেখানে আছে।’
তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমি আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে কী আছে তা দেখতে চাইলাম। তখনকার ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (আইবি) এখন এসবি (স্পেশাল সিকিউরিটি ব্রাঞ্চ) আমি এসবির ওখান থেকে আইবি রিপোর্ট ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত জাতির পিতার বিরুদ্ধে কী কী রিপোর্ট দিয়েছিল, সমস্ত ফাইল নিয়ে আসি। ৪৭টি ফাইল মাত্র একজন নেতার নামে। আরও অনেক নেতার ফাইল আমি ঘেঁটেছি। ওই একটা পাতলা ফাইল ছাড়া আর কিছু নেই। কিন্তু একজনের বিরুদ্ধে অর্থাৎ জাতির পিতার বিরুদ্ধে ৪৭ থেকে ৭১ সাল পর্যন্ত যত রিপোর্ট ওখানে রয়ে গেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওই রিপোর্টগুলো কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে লেখা। এর মাধ্যমেই কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস ও আওয়ামী লীগের ইতিহাস পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও রিপোর্ট আছে। আমি সেই রিপোর্টও এটা শেষ হলে আনবো। এ তথ্যগুলো আওয়ামী লীগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে জানতে পারবেন, কত কষ্ট করে এই সংগঠন করা আর কত কষ্ট করে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি।’
বইটির প্রকাশনা হাক্কানী পাবলিশার্সের গোলাম মোস্তফা বলেন, এই বইটি পড়ার সময় কেউ চোখের জল আটকিয়ে রাখতে পারবেন না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রজীবন থেকেই বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু করেন। পাকিস্তান ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (আই বি) প্রতিষ্ঠান প্রতিমুহূর্তে তার কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট পাঠাত। এরই ভিত্তিতে বিনা বিচারে আটক, মামলাসহ নানামুখী নির্যাতন চলত।
বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধাদের। উৎসর্গ পত্রে লেখা আছে- ‘বঙ্গবন্ধু তার সংগ্রামী জীবনের সকল সহযোদ্ধাদের প্রতি…’।

105 total views, 1 views today

মন্তব্য করুন।

Please enter your comment!
Please enter your name here