কচুয়ার জন্য আমরা কেমন উপজেলা চেয়ারম্যান চাই?

কচুয়ার ডাক সম্পাদকীয়ঃ স্থানীয় সরকারে উপজেলা নির্বাচন বর্তমান সরকারের একটি বড় সাফল্য। মুলত এরশাদ সরকার তা চালু করেছিলেন মাঝখানে বিএনপি-জামাত জোট সরকার তা মুলত প্রতিহিংসামূলক ভাবেই তা অকার্যকর করে রাখা হয়। আওয়ামিলীগ সরকার ৯৬ ও ২০০৮ ক্ষমতায় আশার পর তা আবার পুন্রুজীবিত হয়। বাংলাদেশে কিছু উপজেলা ব্যাতীত অধিকাংশ উপজেলায় আওয়ামীলীগ নির্বাচনে জয়লাভ করে দখল করে আছে।
কচুয়া উপজেলাও তার ব্যাতিক্রম নয়। পরপর দুইবার আওয়ামীলীগের প্রার্থী এ আসন থেকে জয়লাভ করে। সরকার দলীয় প্রার্থীর দলীয় ক্ষমতা ও সাংঘঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অনেকটা নামকাওয়াস্তেই জয়লাভ করে এ উপজেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যানগন ।
সরকার দলীয় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতার লাগাম কেউ নিয়ন্ত্রন করতে পারেন নি বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালের সরকার দলীয় তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই ১০দশ লাখ টাকা ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠে অতঃপর সাংসদের উপস্থিতিতে তৎকালীন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক প্রতিবাদ করে পদত্যাগ করেন। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে ঋণ খেলাপী হওয়ায় আদালতের আদেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান।
অতঃপর অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ২০১৪ সালে কচুয়া উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একাদিক প্রাথী হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনেকটা নাটকীয়ভাবেই নির্বাচিত হয়ে যান ছাত্রলীগের এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান।
যদিও আওয়ামীলীগ থেকে পর পর দুই বার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, স্থানীয় সাংসদের বন্দনা ছাড়া কচুয়ার জনগনের আশা আকাংখার প্রতিফলন কেউই ঘটাতে পারেন নি গত দশ বছরে। টী আর এ, কাবীখা, সাংসদের কাজের শূষ্ঠ বনটন ও ঊপজেলা চেয়ারম্যান অফিস থেকে ফাইল গায়েব সহ সরকারী/ বেসরকারি চাকুরী নিয়োগে রয়েছে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ।
বছর খানেক আগে বাসের হেলফারকে কচূয়া থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে নিয়োগের প্রতিবাদ করে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জড় তোলেন, তাতে আমরা দেখতে পাই সামাজিক মাধ্যমে কচুয়ার সাংসদকে ব্যাপক গালীগালাজ করেন সাধারণ মানুষ। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জেনে শূনেই এ কাজটী করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাস কয়েক আগে বংগবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদপুর আসা উপলক্ষে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান নিজে দাড়িয়ে থেকে বাস ভাংচুরের নির্দেশ প্রদানের ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।


বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান গত মাসে একটি কলেজ ও হাসপাতাল নিয়ে নিজ ফেসবূকে যে বীষেধাঁগাড় তুলেন তা নজীরবিহীন। উক্ত মহিলা কলেজটি কুমিল্লা বোর্ড ও চাঁদপুরে শতভাগ পাশ করে ইতিমধ্যে সেরা কলেজ হিসেবে মাণ অক্ষুণ্ণ রেখেছে, হাসপাতালটিতে একটি অপমৃত্যু নিয়েও ব্যাপক আলোচণা ও সমালোচনার জড় তোলেন বর্তমান কচূয়া উপজেলা চেয়ারম্যান, অতঃপর বহুল আলোচিত হাঁসপাতালটিও আজ জনগণের জন্য খূলে দেয়া হল।

প্রশ্ন থেকে যায় জনগণের জন্য প্রতিষ্ঠিত জনগণের সম্পদ নিয়ে জনপ্রতিনিধিরা যখন এসব বীষেধাঁগাড় তোলেন,ভাংচুরের নির্দেশ প্রদান করেন,টী আর এ, কাবীখা, সাংসদের কাজের শূষ্ঠ বনট্‌ন,ঊপজেলা চেয়ারম্যান অফিস থেকে ফাইল গায়েব সহ সরকারী/ বেসরকারি চাকুরী নিয়োগে রয়েছে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ,দশ লাখ ঘূষ গ্রহণ এসব জনপ্রতিনিধিগন কি আগামীদিনে কচুয়ার জনগণের জন্য হুমকি নয় কি? কেমন উপজেলা চেয়ারম্যান চাই আমরা কচুয়ার জন্য?

লেখক প্রধান সম্পাদক কচুয়ারডাক।

316 total views, 1 views today

মন্তব্য করুন।

Please enter your comment!
Please enter your name here