আওয়ামিলীগ দলীয় হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের কাছে প্রত্যাহেরের চিঠী পাঠানো হলেও মুখ খূলছেন না কচুয়ার কেউ!

কচুয়ারডাক নিউজ ডেস্কঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল-জোট মনোনীতদের বাইরে আওয়ামী লীগের ৭৯ জন নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছিলেন। এদের মধ্যে ৩২ জনই নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ে অযোগ্য হয়েছেন। এদিকে মাঠে দল-জোটের একক প্রার্থী রাখতে বিদ্রোহীদের স্বেচ্ছায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। নির্দেশ অমান্য করে কেউ প্রার্থী থাকলে তাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের জোটগত ও দলগত প্রার্থী মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে আছে। তালিকা না দিলেও মৌখিকভাবে চূড়ান্ত বলা আছে। কিছু কিছু আসনে প্রত্যাহারে শেষ দিনেও হয়তো দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটের দৌড়ে থাকতে চাইবেন। তাদের বিষয়ে আমাদের কঠোর বার্তা দেওয়া আছে। আমরা প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি, করবো। আওয়ামী লীগাররা সময়মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাবে। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের পর আর নরম থাকার সুযোগ নেই, আমরা আগেও বলেছি বিদ্রোহী হলে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে। প্রসঙ্গত, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিদ্রোহী হিসেবে ধরে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।এদিকে নির্বাচনী প্রচারণার আগেই শেষ মুহূর্তের ভোটের মাঠ পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এজন্য একটি টিমও গঠন করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মাধ্যমে ৩০০ আসনের সার্বিক চিত্রের প্রতিবেদন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দিবে এই কমিটি। রবিবার থেকে কমিটি কাজ শুরু করেছে। আর এ কাজটি সার্বিকভাবে তত্ত্বাবধায়ন করছেন দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পাঁচ নেতা। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক ও আহমদ হোসেন।

নির্বাচনে অযোগ্য যেসব বিদ্রোহী প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকায় ত্রটি থাকায় বেশিরভাগের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এছাড়া তাদের কেউ কেউ ঋণ খেলাপি বা হলফনামায় ভুল তথ্য দেয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। দেশের সবচেয়ে ছোট জেলা মেহেরপুরের দু’টি আসনে ১০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জনই আওয়ামী লীগের নেতা।

তারা হলেন- মেহেরপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম। মেহেরপুর-২ আসনে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক, আওয়ামী লীগ নেতা মখলেছুর রহমান মুকুল, গাংনীর সাবেক মেয়র আহম্মেদ আলী, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরজাহান বেগম। বান্দরবানে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মীপদ দাশের। বগুড়া-৪ আসনে কামাল উদ্দীন কবিরাজ, এ এন এম আহসানুল হক এবং ইউনুস আলী মন্ডলের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বরিশালে রুবিনা আক্তার, ক্যাপটেন মোয়াজ্জেম ও ফায়জুল হক রাজুর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। সাতক্ষীরায় বিএম নজরুল ইসলাম, বিশ্বজিত সাধু, পিরোজপুরে গোলাম হায়দার, কুষ্টিয়ায় আফাজ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুর রউফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনিছুর রহমান, নীলফামারীতে আখতার হোসেন বাদল, আমেনা কোহিনুর আলম, আমিনুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ার সেকেন্দার আলী, কুমিল্লায় মো. আবদুল মজিদ, জাহাঙ্গীর আলম সরকার, আহসানুল আলম কিশোর, মো. আবুল কালাম আজাদ, গাজীপুরে কামাল উদ্দিন সিকদার, নারায়ণগঞ্জে ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম ও কাউসার আহমেদ পলাশের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

সূত্র জানায়, শনিবার বিদ্রোহীদের তালিকা শেখ হাসিনার কাছে তুলে দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় অনেকটা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ ২৬৪ আসনে ২৮১ প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। বাকি ৩৬ আসনে ১৪ দল ও মহাজোটের প্রার্থী রয়েছেন। ১৭টি আসনে দু’জন করে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখানে যারা নির্বাচনে যোগ্য হচ্ছেন তাদের রাখা হচ্ছে। বাকিদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠিও গতকাল হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকা ১৭টি আসন হলো রংপুর-৬; নওগাঁ-৫; নাটোর-১; নড়াইল-১; বরগুনা-১; পটুয়াখালী-২; টাঙ্গাইল-২; জামালপুর-১ ও ৫; কিশোরগঞ্জ-১; ঢাকা-৫, ৭ ও ১৭; চাঁদপুর-১, ২ ও ৪ ও লক্ষ্মীপুর-২।

সূত্র জানায়, হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী গত দুই দিনে কয়েক জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ঢাকা-৪ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) বর্তমান এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। এবারও সে বৈধ প্রার্থী হয়েছেন। এ কারণে এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতা ড. আওলাদ হোসেন তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আওলাদ হোসেন ইত্তেফাককে এ তথ্য জানান। গত ১৪ নভেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করতে যান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী চার হাজার ২৩ জন নেতা। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, দল-জোট মনোনিত প্রার্থীর বিরোধিতা করলে সংগঠন থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে।

আরও পড়ুন: সিইসি ও চার কমিশনারের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিট খারিজ

জোট শরিকদের আসনে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ বিদ্রোহী বাতিল: আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী জোট মহাজোটের শরিকদের জন্য যেসব আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয়নি, ওইসব আসনে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। মনোনয়ন ফরমে ভুল-ত্রুটিসহ নানাবিধ কারণে তাদের মনোনয়ন বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা। আবার কিছু বিদ্রোহী জোটের প্রার্থী বৈধ হওয়ায় নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। রংপুর-৩ আসনে বৈধ প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। রংপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের নেতা হুলু সরকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন, কিন্তু কিছু অসঙ্গতি থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির নেতা মশিউর রহমান রাঙা বৈধ প্রার্থী হয়েছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান বাবলু স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন কিন্তু তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ময়মনসিংহ-৪ ও ৭ আসনে বৈধ প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। ময়মনসিংহ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল হক শামীম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম-২ আসনের বৈধ প্রার্থী পনির উদ্দিন আহমেদ (জাপা)। এই আসনের আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী চৌধুরী সফিকুল ইসলাম ও আবু সুফিয়ান এবং জাসদ প্রার্থী সলিমুল্লাহ ছলির মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাকির হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয় নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ফরমের ৭ ও ৮ নং কলাম পূরণ না করায়। এই আসনে জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী মো. রুহুল আমিনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

ইত্তেফাক।

74 total views, 1 views today