যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ইটন কলেজে বাংলাদেশী ছাত্র বৃত্তির মূল্য বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১ কোটি

বাংলাদেশী বালক মেহরাজ(১৫) ৭৬ হাজার পাউন্ড বৃত্তি পেয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছে ব্রিটেনের বিখ্যাত ইটন কলেজে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে ২০০৭ সালে যার পরিবার পাড়ি জমায় যুক্তরাজ্যে। রাজধানী লন্ডনের নিউহাম বারার কাউন্সিল বাসায় খুব কষ্টে বাস করেও মেধার সাক্ষর রেখে বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১ কোটি টাকার বৃত্তি পেয়েছে সে।

মেহরাজের বয়স যখন পাঁচ বছর, তখন সে বাবা শরীফ উদ্দিন ও মা রানী বেগমের সাথে পাড়ি জমায় লন্ডনে। ইস্ট লন্ডনের বার্কিংসাইডের কাউন্সিল হাউজের তিন কক্ষের একটি বাসায় পরিবারের সাথে থাকে সে। বাসার কাছের একটি স্কুলে লেখাপড়ারও সুযোগ পায়। কিন্তু অদম্য মেধাবী মেহরাজ যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ইটন কলেজের ৭৬ হাজার পাউন্ডের বৃত্তি পেয়ে বদলে ফেলেছে তার জীবন। প্রিন্স উইলিয়াম এবং হ্যারির পদাঙ্ক অনুসরণ করে কিশোর মেহরাজ আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ইতিহাস, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানে এ-লেভেল অধ্যয়ন করবে অভিজাত বার্কশায়ার প্রাইভেট স্কুল ইটন কলেজে।

মেহরাজ বলেন, “মানুষ হয়তো মনে করবে না যে, আমি ইটনের অন্য ছেলেদের মত সাধারণ ছিলাম। কিন্তু আমি তাদের কাউকেই বসে থাকতে দেখিনি। তারা সবাই জীবনে ভাল কিছু করতে চায়, যা আমিও চাই। তাদের সাথে আমার শুধুমাত্র পার্থক্য হলো, আমার প্রেরণা তাদের চেয়ে শক্তিশালী। আমার পরিবার এবং আমার একটি কঠিন জীবন ছিল। ইটন যাওয়ার জন্য আমাকে, আমাদের জীবন আরও ভাল করার সুযোগ দেবে।” মেহরাজের বাবা-মা উভয়ই বেকার থাকা সত্ত্বেও, মেহরাজ, তার ভাই, বোন, মা ও বাবাকে যুক্তরাজ্য যে জীবন দিয়েছেন তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। তিনি যোগ করে বলেন: ‘আমার পরিবারকে এবং আমাকে এখানে গ্রহণ করার জন্য এই দেশের প্রতি আমরা খুবই কৃতজ্ঞ। আমি এই সমাজের একজন কঠোর পরিশ্রমী হয়ে এর প্রতিদান দিতে চাই, যাতে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারি। আমি এই কারণে অক্সফোর্ড বা ক্যামব্রিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন বিষয়ে অধ্যয়ন করতে চাই, এবং একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠতে পারি। আমি কিছু দিতে চাই।”

উল্লেখ্য, ইটন হচ্ছে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে অভিজাত বিখ্যাত স্কুল, যেখানে প্রিন্স হ্যারী ও উইলিয়ামসহ ব্রিটেনের বেশিরভাগ রাজনীতিবিদরা লেখাপড়া করেছেন।

34 total views, 1 views today