কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শীর্ষরাই রফিকুল ইসলাম লালুর পক্ষে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন (ভিডিও)

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কি
দলের দুর্দিনের কান্ডারিদের মূল্যায়ন করবে,
নাকি এবারও অতিথি আর হাইব্রিড প্রার্থীরাই সরকারি দলের শেষ ভরসা!
মতামত দিন–

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আশি-নব্বই ও পরবর্তী ছাত্রনেতা,
কচুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যুবলীগের সাবেক সাধারণ-সম্পাদক,
বর্তমান কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড় -সম্পাদক,
রফিকুল ইসলাম লালু
আসন্ন কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

শীর্ষরাই আজ রফিকুল ইসলাম লালুর পক্ষে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন। জয় বাংলা।

কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে চমক
দেখাতে চান রফিকুল ইসলাম লালু
——————————————
বিগত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে চাঁদপুরের কচুয়ায় যে ক’জন নেতাকর্মী বেশি নির্যাতিত হয়েছিলেন, তার মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম লালু অন্যতম। তৎকালীন সময়ে দলের জন্য, এলাকার মানুষের জন্য রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি বহুবার হামলা, মামলা, পুলিশি নির্যাতন, ত্যাগ স্বীকার ও বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেছেন।

পাশা-পাশি একটি সাজানো পেন্ডিং মামলায় ভুয়া অস্ত্র দিয়ে তাকে ক্রশ ফায়ারের মতো মারাত্মক বিপর্যয়ে ফেলেছিলেন। ২৪টি মামলা ও বহু হামলা-মামলার পরও তিনি দলের পক্ষে ও সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। তবুও ওই সময় গোপনে গোপনে দলের নেতাকর্মী সৃষ্টির লক্ষে কাজ করেছেন, সারা কচুয়া উপজেলা ব্যাপী। তবুও আওয়ামীলীগ ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেননি। আওয়ামীলীগের তৎকালীন চরম দূ:সময়ে আধুনিক কচুয়ার উন্নয়নের রূপকার,জননেতা ড. মহীউদ্দীন আলমগীর এমপি’র পাশে থেকে সংগঠনকে সু-সংগঠিত করেছিলেন। এবং বিগত জাতীয় সংসদ,উপজেলা পরিষদ ও অন্যান্য নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষ থেকে কাজ করেন। ফলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তৃণমূল থেকে উঠে আসা জনবান্ধব ও বহু কর্মী সৃষ্টিকারী সাবেক ছাত্রনেতা মো. রফিকুল ইসলাম লালু আসন্ন নির্বাচনে কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পাবেন এবং তিনি বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন।
পেছনের কথা: মো. রফিকুল ইসলাম লালু, বর্তমানে কচুয়া উপজেলার ৮নং কাদলা ইউনিয়নের টানা দু’বার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক । তাছাড়া তিনি চাঁদপুর জেলা যুবলীগের সদস্য, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি, কচুয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, কাদলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি,সাধারন সম্পাদক, গুলবাহার আশেক আলী উচ্চ বিদ্যালয় শাখা ছ্ত্রালীগের সাবেক সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ চেয়ারম্যান সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক,চেয়ারম্যান সমিতির কচুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি, এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও সামাজিক সংগঠনের সাথে সুনামের সাথে জড়িত রয়েছেন। সাংগঠনিক কারনে এলাকার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ‘রফিক মামা’ হিসেবে নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত।
তিনি আসন্ন ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে উপজেলাসীকে চমক দেখাতে চান।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর নিজ ইউনিয়ন পরিষদ মনপুরাস্থ কার্যালয়ে কচুয়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ধন্ধিতা করার বিষয় ও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে কচুয়া উপজেলাকে এগিয়ে নিতে ও তার ভ‚মিকা সম্পর্কে স্বপ্নের কথাগুলো তুলে ধরেন সম্মানিত উপজেলাবাসীর উদ্দেশ্যে। নিন্মে তা তুলে ধরা হলো।
প্রতিবেদক: কেমন আছেন?
রফিকুল ইসলাম লালু: ভালো আছি। আপনারা কেমন?
প্রতিবেদক: আসন্ন নির্বাচনে আপনী কোন পদে প্রার্থী হচ্ছেন?
রফিকুল ইসলাম লালু: কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হব।
প্রতিবেদক: দলীয় প্রতিকে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী?
রফিকুল ইসলাম লালু: আমি তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন আওয়ামীলীগের কর্মী। বিগতদিনে দল করতে গিয়ে বহু হামলা-মামলার স্বীকার হয়েছি, এ কথা উপজেলাবাসীর কারো জানার বাকি নেই। আশা করি আমার বিগত দিনের রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও ত্যাগের কথা বিবেচনা করে দল আমাকে কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একক ভাবে মনোনিত করবেন। মানর্নীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছানুযায়ী তৃনমূল ভাবে যদি কাউকে মনোনীত করা হয় সে ক্ষেত্রেও আমি বেশি ভোট পাবো বলে আমি আশাবাদী।
প্রতিবেদক: আপনীতো দু’বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, এলাকার উন্নয়ন সস্পর্কে কিছু বলুন ?
রফিকুল ইসলাম লালু: আমি ২০১১ সালে প্রথম বারের মতো কাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আমার ইউনিয়নের শাসনখোলা ও নয়াকান্দি এ দু’টি গ্রামের মানুষ তাদের করুন কাহিনী নিয়ে আমার কাছে আসে। আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে হাজীগঞ্জ ,মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া থানা নির্বাহী অফিসার ও ওসি, এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহায়তা নিয়ে আয়মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সুধী সমাবেশ সভা এলাকার চুরি, ডাকাতি ও মা-বোনদের ইজ্জ্বত লুণ্ঠনকারীদের হাত থেকে তাদের ইজ্জত রক্ষা করি। এমনি ভাবে ইউনিয়নের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড এগিয়ে নেই। বিশেষ করে আমাদের প্রিয় নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীনখান আলমগীর এমপি’র মাধ্যমে ইউনিয়নের সমস্ত উন্নয়ন তরান্বিত করি। বিশেষ করে এলাকার প্রায় প্রতিটি গ্রামকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়।
প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধি হওয়ায় প্রশাসন, মিডিয়া কর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে আপনার ব্যক্তিগত সর্ম্পক কেমন।
রফিকুল ইসলাম লালু: যেহেতু আমি রাজনৈতিক একজন কর্মী। ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রলীগ, যুবলীগের একাধিক পদে দায়িত্বে ছিলাম। বর্তমানে কাদলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। রাজনৈতিক ও জন প্রতিনিধি হওয়ার সুবাদে প্রশাসন, মিডিয়া কর্মীদের সাথে আমার কখনো দূরত্ব হয়নি। চেষ্টা করেছি উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও মিডিয়া কর্মীকে সম্মান করে নিজেকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করেছি এবং বিগত দিয়ে ইউনিয়নের কারো সাথে আমার সম্পর্ক অবনতি হয়েছে বলে মনে হয়নি। ছোট-বড় সবাইকে চেষ্টা করেছি সম্মান করান।
প্রতিবেদক: আপনার জীবনের স্মরনীয় বিষয় সর্ম্পকে কিছু বলুন।
রফিকুল ইসলাম লালু: তৎকালীন বিএনপি জোট সরকারের আমলে চাঁদপুরের আদালত থেকে হাজিরা শেষে কোর্টের সামনে পৌছলে আমার চোখ বেধে একটি মাইক্রো বাসে করে কোথায় যেন নিয়ে যায়। পরে দেখি আমাকে কচুয়া থানায় নিয়ে আসে। সে সময় থানার ভিতর রেখে আমাকে অমানষিক নির্যাতন করে, আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগদানের কথা বলে। কিন্তু আমি তাদের সাথে আপোষ না করায় একটি মাছের গাড়িতে ডাকাতির ঘটনার সাজানোর পেন্ডিং মামলার আসামী দেখিয়ে ভূয়া অস্ত্র দিয়ে চাঁদপুর জেল হাজতে পাঠায়। সেদিনের পুলিশি ও কথিত নেতাদের নির্যাতন আজও ভুলেনি। তিনি আরো বলেন, তৎকালীন সময়ে উপজেলাবাসী অনেকেই আমাকে ক্রসফায়ারে দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে এমনই সংবাদে অনেকেই ইন্না…..রাজিউন পড়েছেন। কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ও মানুষের দোয়ায় আজো বেঁচে আছি। যত দিন বাঁচবো সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলে যাবো।
প্রতিবেদক: উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে কচুয়া বাসীর কল্যাণে কি করতে চান?
রফিকুল ইসলাম লালু: কচুয়া বর্তমানে বাংদেশের একটি অন্যতম উপজেলা। একসময় কচুয়াকে কেউ চিনতনা- জানতেন না। জননেতা ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি কচুয়াকে দেশের চতুর্থ উপজেলায় রূপান্তর করেছেন। আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মাদকমুক্ত উপজেলা গঠন ও আধুনিক উন্নত উপজেলায় রূপান্তর করার চেষ্টা করব। এ জন্য কচুয়ার সর্বস্থরের মানুষ, দলীয় নেতাকর্মী, প্রশাসন ও মিডিয়া কর্মীদের সর্বাত্তক সহযোগীতা ও দোয়া চাই।

 

প্রতিবেদন  কচুয়াটাইমস

107 total views, 1 views today