মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পথের শিশু পাঠশালার কার্যক্রম শুরু

কচুয়ার ডাকঃ
মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পথের শিশু পাঠশালার কার্যক্রম শনিবার (০২ মার্চ) সকাল ১০টায় আব্দুল হাই ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি অসহায় পথের শিশুদের শিক্ষা উপযোগী করে গড়ে তুলতেই এই পথের শিশু পাঠশালার জন্ম।এই সংগঠনের উদ্যোক্তারা সবই তরুণ।যাদের মধ্যে বেশির ভাগই শিক্ষার্থী। সম্পূর্ণ তারুণ্যভরা ভাবনারই ফসল এই প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষার আয়োজন।পথশিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য কিছু করার কথা ভাবছিল এই তরুণরা। একসময় সবার মাথায় এলো-পথশিশুদের নিয়ে এমন একটা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার দরকার যেখানে পথশিশুরা পড়বে, লিখবে। আর এ স্কুল থেকে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে ভর্তি হবে সাধারণ স্কুলে। যেই ভাবা, সেই কাজ। একসময় শুরু হয়ে গেল পথশিশুদের জন্য স্কুল ‘পথের শিশু পাঠশালা’ নামের একটি শিক্ষার স্থান।
‘পথের শিশু পাঠশালা’ নামে সংগঠনের মাধ্যমে তরুণরা এই পাঠশালা চালাচ্ছেন। অন্যতম উদ্যোক্তা ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহসিন হোসাইন জানান, ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসের প্রথম দিকে মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠনের যাত্রা শুরু। যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে একটি হলো-পথশিশু ও অসহায় বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। ওই লক্ষ্যে একই বছরের মার্চ মাসের ০২ তারিখে পথের শিশু পাঠশালা আনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। ছিন্নমূল পথশিশুদের পড়ানোর মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু। প্রথমে ১০ জন শিশুকে নিয়ে শুরু করা হয়।
সাংগঠনিক সম্পাদক ছেফায়েত হোসেন জানান, মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ‘পথের শিশু পাঠশালা’র পড়ুয়াদের প্রায় সকলেই সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশু। এদের পরিবারের পড়াশোনা করানোর সামর্থ্য নেই। এর আগে অনেকেই এখানে-ওখানে ভিক্ষা করে বেড়াতো। এরা বিভিন্ন বস্তি এলাকার অধিবাসী, শ্রমজীবিদের সন্তানরাই এখানে পড়ছে।
মানবতার ডাক সামাজিক সংগঠনের সভাপতি ডাঃ আব্দুল হাই বলেন, ‘শুরুতে আমরা বিভিন্ন বস্তি এলাকা ঘুরে ছাত্র সংগ্রহ করি। শুরুর দিকে অনেকে আগ্রহ দেখাননি। কিন্তু পরে আস্তে আস্তে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। সংগঠনের সদস্যরা পালা করে এদের পড়াচ্ছেন এবং মাঝে মাঝে ওদের নানা শিক্ষা উপকরণও দেওয়া হচ্ছে।
এসময় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ডি এম হৃদয়,দপ্তর সম্পাদক উত্তম সরকার, রক্তদান বিষয়ক সম্পাদক আশিষ দেব, সহ-বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক সম্পাদক মরজিনা আক্তার, সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ঝর্ণা আক্তার, কার্যনির্বাহী সদস্য- রাজিব কুমার,জনি সাহা, তানজিলা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
নিজেদের সন্তানরা ভিক্ষা ছেড়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ায় খুশি তাদের বাবা-মায়েরা। শিক্ষার্থী তাছলিমের মা কুলছুমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা মানুষের কাছে টাকা চাইতো, আপনাদের স্কুলে (পথের শিশু পাঠশালায়) গিয়ে অনেক কিছু শিখবে বলে আশাবাদী।
পাঠশালার শিক্ষার্থী ফাহিমার মা ফাতেমা বলেন, ‘টাকার জন্য মেয়েটাকে পড়া-লেখা করাতে পারিনা। আমরা গরীব মানুষ। মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে জীবন কাটাই। আশা করি পথের শিশু পাঠশালা সফলতা অর্জন করবে।

24 total views, 1 views today