বংগবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ডঃ মহীউদ্দিন খান আলমগীর এমপি ও কচুয়ার জনগণের প্রতি শাহজাহান শিশিরের কৃতজ্ঞতা প্রকাশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আধুনিক কচুয়া বিনির্মানের আহ্বান

কচুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ডঃ মহীউদ্দিন খান আলমগীর এমপি ও কচুয়ার জনগণের প্রতি শাহজাহান শিশিরের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে খোলা চিঠি

প্রিয় মুজিব সৈনিক এবং আমার শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ।

আমার প্রীতি এবং ভালবাসা নিবেন। আপনাদের দোয়া এবং সর্বোচ্চ সমর্থনে জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এবং কচুয়ার উন্নয়নের রুপকার ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর স্যার আমার উপর যে গুরু দায়িত্ব দিয়েছেন তা আমি যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু’র প্রতীক এবং তার সুযোগ্য কন্যা গণতন্ত্রের মানসকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতীক, স্বাধীনতার প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক নৌকা মার্কার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পেরেছি। যার জন্য আমি মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করছি। যেটা আমার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিলো।

কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং তার কিছু অংশ নির্বাচনকালীন সময়ে সরাসরি আমার বিরুদ্ধে এবং নৌকা মার্কার প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করেছিলো। ব্যক্তিগত পর্যায়ে উনাদের সাথে আমার কোন বিরোধ ছিলো না, এখনো নেই। তারপরও যেহেতু এবার আমাদের প্রতিপক্ষ কোন দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। তাই নির্বাচনের সৌন্দর্য রক্ষার্থে আমি বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিয়েছি। দলের ভিতর এরকম গণতান্ত্রিক চর্চা সম্ভবত ইতিবাচক রাজনীতির’ই পূর্বশর্ত। তাছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে থানা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন কিছু নেতাকর্মী আমার বিরুদ্ধে কাজ করছে। কাজ করতে গিয়ে আমার শুভাকাঙ্ক্ষী এবং থানা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন নেতাকর্মীদের মাঝে একধরনের ভুলবোঝাবুঝি হয়েছে। আমি চাই এসব ভুলবোঝাবুঝির অবসান হোক। কারণ আমরা আওয়ামীলীগ পরিবার ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোন অপশক্তি আমাদের হারাতে পারবেনা। নির্বাচনকালীন সময়ে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে আমরা নৌকা মার্কা এবং নৌকা মার্কার অপজিশনে কাজ করে মূলত একটি জবাবদিহি জনপ্রতিনিধি কাঠামো তৈরি করেছি। এতে নির্বাচিত প্রতিনিধি তার জনগণের কাছে স্বচ্ছ এবং অনেকটা জবাবদিহি।

এমতবস্থায়, নির্বাচনের সময় আমি যদি কারো মনে কোন কষ্ট দিয়ে থাকি, দুঃখ দিয়ে থাকি ; তাহলে আমাকে ক্ষমাসূলভ দৃষ্টিতে দেখবেন। পাশাপাশি যারা আমার শুভাকাঙ্ক্ষী তাদের অনুরোধ করবো আপনারা সকল মান-অভিমান ভুলে আসুন আমাদের স্বপ্নের আধুনিক কচুয়া বিনির্মানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি। আপনাদের কষ্ট এবং দুঃখের জায়গা আমি বুঝি, তারপরও একটি শান্তিপূর্ণ এব বসবাসযোগ্য কচুয়া গড়তে আপনাদের এতটুকু ছাড় দিতে হবে।

আমি কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ, আনারস মার্কার প্রার্থী ফয়েজ আহমেদ স্বপন, কাপ-পিরিজ মার্কার প্রার্থী জিয়াউর রহমান হাতেম এবং যারা আমার বিরুদ্ধে নির্বাচনের সময় কাজ করেছেন তাদের প্রতি অনুরোধ করবো; আসুন সকল মান-অভিমান ভুলে একটি শান্তিপূর্ণ, বসবাসযোগ্য আধুনিক কচুয়া বিনির্মানে সবাই এক হয়ে কাজ করি। জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এবং ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর স্যার আমাদের যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে এক অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করি।

আর ধন্যবাদ জানাই কচুয়ার আপামর জনসাধারণকে, যারা আমাকে ভোট দিয়ে দ্বিতীয়বারের মত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। বিশেষকরে তৃনমুলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠন, ছাত্র জনতা, শিক্ষক সমাজ, কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর। আপনাদের ঋণে আমি আবদ্ধ এবং দায়বদ্ধ। আপনাদের ঋণ আমি আমার রক্ত দিয়েও শোধ করতে পারবো না। অনেকে নিজের টাকায় আমার নির্বাচন করেছেন, মধ্যপ্রাচ্য সহ অনেক দেশ থেকে আমাকে স্বল্পপরিসরে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। আপনাদের কাছেও আমি চির কৃতজ্ঞ। আমি আশার ফুলঝুরি দিতে চাইনা, আমার প্রতি আপনাদের যে অবিচল আস্থা এবং বিশ্বাস রেখেছেন, আমি চেষ্টা করবো আমার জীবনের শেষ রক্তবিন্দু তা রক্ষা করতে।

আপনাদের সকল মঙ্গল এবং দীর্ঘায়ু কামনা করছি। সবাই ভালো থাকবেন, অন্যকে ভালো রাখবেন।

জয় বাংলা,
জয় বঙ্গবন্ধু।

190 total views, 1 views today