কচুয়ার নির্বাচিত সাংসদদের জিয়াউর রহমানের প্রতি প্রেম ও ভালবাসার স্মৃতিচারন! !

কচুয়ারডাক নিউজ ডেস্কঃ কচুয়ার সাংসদের মধ্যে যে জিনিসটি সবচেয়ে বড় মিল আর তা হলো দু-জনেই এক সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে অসম্ভব ভালোবাসতেন।

আকস্মিক সাক্ষাতের ইতিকথা!

লেখাটা কিভাবে শুরু করবো তাই ভাবছিলাম বসে বসে। হঠাৎ মনে পড়ে গেল বাসুদেব চ্যাটাজীর্র “হঠাৎ বৃষ্টি ” সিনেমার কথা।বাংলাদেশের নায়ক ফেরদৌস আর পশ্চিমবঙ্গের নায়িকা প্রিয়াঙ্কা অভিনিত এই ছবির পুরো ক্যানভাসে নায়ক নায়িকার দেখা নেই। আদিযুগের সেই টরেটক্কা মাকার্ টেলিফোনের মাধ্যমে নায়ক এবং নায়িকা বার দুয়েক কথা বলার ব্যথর্ চেষ্টা করেছেন।ফলে একজন আরেক জনকে যেমন সামনাসামনি দেখেননি তেমনি কেউ কারো কন্ঠস্বরও শোনেননি। একেবারে শেষ দৃশ্যে রেলস্টেশনে নায়ক যখন নায়িকাকে ট্রেনে তুলে দিয়ে পেছন ফিরে গায়ের চাদর খুলে মাথা মুছছেন তখন তার গায়ের পোলোশাটের্র পেছনের অংশ দেখে নায়িকা চিনতে পারেন তার স্বপ্নের পুরুষকে।
এখন যে গল্পটা বলবো সেটা এই সিনেমার ঠিক উল্টো পথে হাটা দুযুগের উপাখ্যান। এ গল্পে নায়িকা নেই, আছে কেবল দুজন নায়ক।চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুটো চরিত্র। একজন আরেক জনকে দেখেন চেনেন,এমনকি এক কক্ষে বসেন কিন্তু কথা হয় না,চোখাচোখিও হয় না।তবে মাঠে ময়দানে কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলেন না।উদ্ধার করেন একে অপরের চৌদ্দগোষ্ঠী।একজনের সমথর্ক গোষ্ঠী অন্য জনের সমথর্ক গোষ্ঠীকে বাগে পেলে রক্ষা নেই। দুই নায়কের মধ্যে এমন সম্পর্ক চলে আসছে সেই ১৯৯৬ সাল থেকে। এ অবস্থা যে আরও কতদিন চলতো তা বলা মুশকিল ছিলো। কিন্তু না৷ সেই প্রতিক্ষার অবসান ঘটালো একটি স্বাভাবিক মৃত্যু,একটি সিএনজি স্টেশন।
হ্যাঁ একটি স্বাভাবিক মৃত্যু এবং একটি স্টেশন। একটি মৃত্যু মানে মিলনের শ্বশুর এবং মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবীর বাবা ইউনুছ খানের মৃত্যু। তিনি ইন্তেকাল করেন সোমবার রাত সোয়া ৯টায়।পরের দিন মঙ্গলবার তার মৃতদেহ কচুয়ার পালগিরিতে দাফন করার উদ্দেশে মিলন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলেন সেখানে। পথিমধ্যে দাউদকান্দির এক্সপিড সিএনজি স্টেশনে জ্বালানি নিতে যাত্রাবিরতি করেন মিলন।এ পথে চলাচলে এটা মিলনের চিরাচরিত নিয়ম। কারণ স্টেশনটি তার দলীয় নেতা সাত্তারের মালিকানায় পরিচালিত। সেই স্টেশনে গিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই দেখেন সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ড.মহিউদ্দিন খান আলমগীর। তিনিও রাজনৈতিক কমর্সুচিতে অংশ নিতে যাচ্ছেন কচুয়া।তিনি মিলনকে দেখে একটু অপ্রস্তুত হয়েও পরক্ষণে কুশল বিনিময় করে করমদর্ন করেন।এসময় পাশে থাকা মিলনের স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তার বাবা ইউনুছ খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করলেন। আলাপে মনে হলো ড.আলমগীর আগে থেকেই ইউনুছ খানকে চিনতেন।এসময় সেখানে এসে উপস্থিত হয় মিলন – বেবীর একমাত্র কন্যা তানজিদা।তাকে দেখে ড.আলমগীর বললেন, কেমন আছো মা।তোমার লেখা পড়া কেমন চলছে? জবাবে তানজিদা বললো,ফাইনালী আপনার সঙ্গে দেখা হলো।
পরে আলমগীর আমেরিকায় তাঁর পিএইচডি করার গল্প করলেন।তিনি তখন যশোরের ডিসি। প্রেসিডেন্ট জিয়া যশোর গেলে তিনি গাড়ী ড্রাইভ করে বিভিন্ন জায়গা ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলেন।গল্পে গল্পে তিনি তাঁর বড় ছেলে হারানোর বেদনার কথা শেয়ার করলেন বেবি-মিলনের সঙ্গে। জানালেন ছোট ছেলে খুবই ব্রিলিয়ান্ট। সে কাজ নিয়েছিল বিলগেটস এর প্রতিষ্ঠানে।এখন নিজেই মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠান চালান।এরপর দুজন একত্রে দোতলা থেকে নিচে নেমে আবারও কমর্দন করে দুজনের গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।বিদায় নেওয়ার আগে ড.আলমগীর বলে গেলেন তিনি জানাজায় অংশ নেবেন। এবং তিনি যথা সময়ে বাদ জোহর মিলনের শ্বশুরের জানাজায় যোগ দেন।
ঘটনাটা নিয়ে আমি আমার ফেসবুক স্ট্যাটাসে একটা পোস্ট দিলে অনেকেই অনেক মন্তব্য করেন।একজন লেখেন ৭০বছরের বৃদ্ধাকে ধষর্ণের মামলার কি হবে?জবাবে আমি লিখেছি”আপাত দৃষ্টিতে আমার কাছে মনে হয়েছে ড.আলমগীর এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বুঝাতে চেয়েছেন যে,আবেগ এবং রাজনীতি দুটো আলাদা বিষয়। রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাকবে আর আবেগকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। আরেক জন লিখেছেন “আমাদের কাছে খবর আছে যে নিবার্চনের পরই দুজনের মধ্যে সম্পর্ক হয়েছে। জবাবে লিখেছি, নিবার্চনের পর সম্পর্ক ভালো হলে মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার হতো।কিন্তু সেটা হয়নি, মাসে দুবার করে মিলনকে চাঁদপুর আদালতে হাজিরা দিতে হয়।
আমি ব্যক্তিগতভাবে এই দুই নেতাকে চিনি সেই ১৯৯৬ সাল থেকে। ড.আলমগীরকে চিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্থাপিত জনতার মঞ্চে আমলাদের যোগদানের নেতৃত্ব দেওয়ার দিন থেকে। আর মিলনকে চিনি একই বছর ১২জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নিবার্চনে চাঁদপুর-১(কচুয়া)আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করার পর থেকে। কচুয়ার আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান ড.আলমগীরের ভাই মেজবাহ উদ্দিন খান।সেই মেজবাহ উদ্দিন খানকে পরাজিত করে মিলন প্রথম এই কচুয়াতে বিএনপির পতাকা পত পত করে উড়ালেন।
নিবার্চনে মেজবাহ উদ্দিন খান পরাজিত হলেও টেকনোক্রেট কোটায় প্রতি মন্ত্রী হন মহিউদ্দিন খান আলমগীর। সেই থেকে শুরু এই দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। এরপর থেকে কেউ কারো চেহারা দেখেন না,কথা বলেন না।তবে রাজনৈতিক মঞ্চে একজন আরেক জনের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করেন।মামলা মোকদ্দমা দিয়ে হয়রানি, ৭০বছরের বৃদ্ধাকে ধষর্ণ,পুকুরের মাছ চুরি, ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাই থেকে শুরু করে নামে বেনামে ৩০/৩২টি মিথ্যা মামলা দিয়ে মিলনকে নাস্তা নাবুদ করা হচ্ছে। মাসে দু/তিন বার তাকে আদালতে হাজিরা দিতে হয়। রাজনীতিতে ড.আলমগীর ১ইঞ্চি জায়গা ছাড় দিতে নারাজ।মিলনের অবস্থাও তথৈবচ। তিনিও রাজনীতিতে ১ ইঞ্চি জায়গা ছাড় দিতে চান না।
অথচ অপূর্ব মিল দুজনের মধ্যে। মনে পড়ে একটা ঘটনার কথা।নবম জাতীয় সংসদে ড.আলমগীরের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের এক রায়ে।তখন সেই রায়ের কপি নিয়ে মিলন দেখা করেন স্পিকার এডভোকেট আবদুল হামিদের সঙ্গে। আমিও ছিলাম সঙ্গে। মিলন যখন স্পিকারের কাছে দাবি তুললেন চাঁদপুর-১ আসনটি শুন্য ঘোষণা করার তখন তিনি বললেন নিবার্চন কমিশনের চিঠি পেলে আসন শুন্যের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংসদ এমন কোনো চিঠি এখনো পায়নি।কথা প্রসঙ্গে স্পিকার বললেন, “বাংলাদেশের এই একটি আসনে আপনারা দুজনই উচ্চ শিক্ষিত, দুজনই মন্ত্রী ছিলেন, দুজনই অত্যন্ত ভদ্র-অথচ আপনাদের দুজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাঁদা ছোড়াছুড়ি হয়।” আজ সেই স্পিকার দেশের প্রেসিডেন্ট আর এনারা দুজন ঢাকা-কচুয়া দৌড়াদৌড়ি করে বেড়াচ্ছেন।
তবে সবশেষে আমার কাছে এ ঘটনায় কেন জানি মনে হয়েছে কচুয়ায় সামান্য হলেও প্রতি হিংসার রাজনীতি কমতে পারে।আমার এ ধারণা সত্য নাও হতে পারে।

(লেখক আমিরুল কাগ)

62 total views, 1 views today