কচুয়ার এম পি, মতলবের সাবেক এম পি র পর এবার ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি শামছুল হক ভূঁইয়া ও তার স্ত্রীকে দুদকের নোটিশ!

কচুয়ারডাক নিউজ ডেস্কঃ কচুয়া ও মতলবের সাংসদের পর এবার আবারও চাঁদপুরের নির্বাচিত কোন সাবেক সাংসদ কে দুদকের নোটিশ! চাঁদপুরের সাংসদ ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি শামছুল হক ভূঁইয়া ও তার স্ত্রীকে দুদকের নোটিশ।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ শামছুল হক ভূঁইয়া ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা হককে সম্পদ বিবরণী দিতে নোটিশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বৃহস্পতিবার সংস্থার উপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম তাঁদের নোটিশ পাঠান।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নোটিশে তাঁদের আগামী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা ও আয়ের উৎসসহ বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার কথা বলা হয়েছে।

তাকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, “প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে কমিশনের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, আপনি স্বনামে/বেনামে আপনার জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ/সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।”

এই নোটিশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শামছুল হক ভূঁইয়াকে তার নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিদের যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ দুদকের প্রধান অফিসে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

তার স্ত্রী ডা. আনোয়ারা হককে দেওয়া নোটিসেও একই কথা উল্লেখ করেছেন দুদক কর্মকর্তা কাজী শফিকুল আলম।

সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এর আগে গত ৭ মে শামছুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম।

সাবেক এই সাংসদকে গত ৬ মে দুদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওই সময় তাঁকে দেওয়া চিঠিতে দুদক বলেছে, তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে তারা। এ ছাড়া তাঁর মালিকানাধীন অ্যাপোলো গ্রুপের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগও আছে।

শামসুল হক ভূঁইয়া ২০১৪ সালে চাঁদপুর-৪ আসনে (ফরিদগঞ্জ) আওয়ামী লীগের সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে শুরুতে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান। শামসুল হকের স্ত্রী আনোয়ারা হক একজন চিকিৎসক।

উল্লেখ্য চাঁদপুরে প্রথম কোন মন্ত্রী ও তৎকালিন অ-নির্বাচিত অতঃপর ২০০৮ এ নির্বাচিত সাংসদ ,১/১১তে বাংলাদেশের প্রথম দুদক নোটিশ জারি এবং ১/১১ তে দুদক থেকে প্রথম মামলাটি ১/২০০৭ দায়ের করেন কচুয়ার এম পি ডঃ মহীউদ্দীনখান আলমগীর এম পির বিরুদ্ধে।

তৎকালিন মঈন-উদ্দিন ফখরুদ্দীনের আমলে স্থাপিত বিশেষ আদালতে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হন। অতঃপর উচ্চ আদালত ও আপীল বিভাগের চেম্বার জজ থেকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার অনুমতি পেলে(কপাল পুড়লো মরহুম মীর ইকবালের)নির্বাচনে জয়লাভ করার পরও সাজা বহাল থাকায় সংসদ সদস্য পদ চলে যাওয়ার উপক্রম হয়। যদিও ৪০ মামলার আসামি কচুয়ার সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ স্পীকারের নিকট কচুয়ার আসনটি শুন্য ঘোষণার জন্য দরখাস্ত করেন!অতঃপর উচ্চ আদালত থেকে স্টে-অরডার নিয়ে সাংসদ সদস্য পদে বহাল থেকে গেলেও উচ্চ আদালতের আপীল বিভাগ থেকে তিনি ও তার স্ত্রী খালাস পেয়ে সাংসদ পদে বহাল তবিয়তেই থেকে যান। যদিও পরিবারের সবার নামে দুদক নোটিশ ও মামলা দায়ের করলেও একমাত্র জয় আলমগীর যুক্তরাস্ট্র অবস্থান করায় আদালতে আত্ম-সমরপন ব্যার্থ হন বিধায় তার বিরুদ্ধে মামলা এখনো চলমান, আইন অনুযায়ী আদালতে এসেই তাকে মামলা মোকাবিলা করতে হবে,বাকীরা সবাই খালাস পেয়েছেন।

মতলবের সাবেক এম পি ও মন্ত্রী মায়া চৌধুরী পরিবারের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে সবসময়ই সমালোচনার মধ্যে থেকেই গত নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হন, বিশেষ করে মেয়ের জামাই ধারা নারায়ণগঞ্জের সেভেন মারডার কেইস ও তার ব্যাক্তিগত ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান ও দুদক নোটিশ এবং মামলায় তার সংসদ সদস্য পদ চলে যাওয়ায় উপক্রম হলে আদালতের স্টে-আদেশ নিয়ে সংসদ সদস্য পদ ও মন্ত্রীত্ব টিকিয়ে রাখেন!

বাংলাদেশে বিশেষ করে চাঁদপুরের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের জন্য আরেকটি অশনি সংকেত! কচুয়া,মতলব ও ফরিদগঞ্জ এর রাজনীতিতে বিশেষ পরিবরতন হলেও কচুয়ার আগামী রাজনীতিতে বিশেষ পরিবরতন হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
বংগবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে আইনের উর্ধে কেউ নন তা আবারও প্রমাণিত হলো।

101 total views, 1 views today