মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশেষ অবদানের জন্য কচুয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গাজী সোলায়মান এর নামে কচুয়ায় স্থাপনা নির্মাণ ও নামকরনের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের নিকট বিনীত আবেদন!

বিশেষ প্রতিবেদনঃমুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশেষ অবদানের জন্য কচুয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গাজী সোলায়মান এর নামে কচুয়ায় স্থাপনা নির্মাণ ও নামকরনের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের নিকট বিনীত আবেদন!

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড এ কথাটি যেমন ধ্রব-তারার মত সত্য, তেমনি সম্রাট নেপোলিয়ান তা উপলব্ধি করে বলেছিলেন ” তুমি আমাকে শিক্ষিত মা দাও আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতী দিব” শিক্ষার আলোয় ধন্য হয়ে মরেও অমর হয়ে আছেন পৃথিবীর অগনিত মানুষ, যে আলো ছাড়া সুর্যালোকিত পৃথিবীও আজ অন্ধকার, যে আলোর আর্শিবাদে পৃথিবীবাসী আজ আলোকিত, সে আলোয় আলোকিত হয়ে আজ সুরভী ছড়াচ্ছেন চাঁদপুর জেলায় কচুয়া উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবার প্রধানের নাম বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গাজী মোহাম্মদ সোলায়মান প্রধান(অব:কচুয়া বি আর ডি বি ও ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কর্মকর্তা কচুয়া)সহধর্মীনি নাজমা আক্তার (অব:কচুয়া সদর থানাসাস্থ্য সহকারী কর্মকর্তা ও চেয়ারপার্সন বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী সোলায়মান ফাউন্ডেশন)গ্রাম ৮নং কাদলা ইউনিয়ন, কাদলাগ্রাম।

মুক্তিযুদ্ধে সক্রীয় অংশগ্রহন ১৯৭১ঃবীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গাজী সোলায়মান ১৯৫৩ সালে চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার কাদলা গ্রামে এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন তার পিতা ছিলেন পেশায় একজন সফল কৃষক গাজী সেরাজউদ্দীন প্বরিবারে তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি বড়। মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গাজী সোলায়মান ১৯৬৮ সালে দরবেশগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মেট্রিকপাশ এবং ১৯৭০-১৯৭৩ সালে চাদঁপুর সরকারী কলেজ বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-কম ও বি-কম পাস করেন। তিনি ১৯৭১ সালে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমানের ৭ইমার্চের ভাষনে অনুপ্রানিত হয়ে তার আহব্বানেই রনাঙ্গনে ৪নং সেক্টর (তৎকালীন ব্রিগ্রেড কমান্ডার ক্যাপ্টেন আলি আহম্মেদ ও জেডফোর্স কমান্ডার সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান) ৮নং বেঙ্গল রেজিমেন্টে অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেন, তার এই অবদান জাতি চীরদিন স্বরন করবে।

পেশাগতদায়িত্ব পালনঃ যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ সরকারের চাকুরিতে যোগদানের অনেক সুযোগ থাকা সত্তেও তিনি পরিবারের বড়সন্তান হয়ে বাবা,মা কে খেদমত এবং স্থানীয় জনগনের সেবার কথা বিবেচনায় রেখে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ পল্লী-উন্নয়ন সংস্থা বি আর ডি ভি কচুয়ায় প্রতিষ্ঠাতা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করে দীর্ঘদিন সুনামের সাথে কচুয়া উপজেলা প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামে ডিপ-টিউবয়েল বিতরণ ও জনগনকে কৃষি কাজে উদ্ভুদ্ধ করেন অতঃপর সফলতার সাথে দীর্ঘদিন চাকুরী করে অবসর গ্রহন করেন।
অতঃপর সর্বশেষ ডেল্টালাইফইন্সুরেন্স কচুয়া জোনাল ম্যানেজার হিসেবেও র্দীঘদিন সুনামের সাথে দায়িত্বপালন করেন। তাছাড়া চাকুরীর পাশাপাশি বেভারেজ ও ফার্মেসী ব্যবাসায়ের সাথেও জড়িত থেকে উপজেলা ও গ্রামবাসিদের বিভিন্ন সেবা প্রদান করেন।

রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্যারিয়ারঃ রাজনীতিতে সক্রীয়ভাবে অংশগ্রহন করেন তৎকালীন পুর্বপাকিস্থান ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়েই হাতেখড়ি ১৯৬৮-১৯৭৩ চাঁদপুর সরকারী কলেজ। বাংলাদেশ স্বাধীনতা আন্দোলনের সুচনালগ্নে গনঅভুথ্যান ছাত্রনেতৃত্ব প্রদান ১৯৬৯,কচুয়া থানা ছাত্রলীগ,যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের সক্রীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহন। একান্ত সহচর এবং সহকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক এমপি ও এমএলএ কর্মসংস্থান ব্যাংঙ্কের সাবকে চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মরহুম এডভোকেট আঃআউয়াল খন্দকারের স্নেহভাজন হিসেবেও রয়েছে যথেস্ট পরিচিতি। বংগবন্ধুর রিলিফ কমটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন ও রিলিফ বিতরন করেন কচুয়া ও কাদলা ইউনিয়ন পরিষদ ১৯৭২।
দেশি- বিদেশি ষড়যন্ত্রসহ বঙ্গবন্ধুকে পরিবার সহ ১৯৭৫ সালে হত্যার পর দেশের ক্রান্তিকালে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় ও উন্নয়নের ধারা-বাহিকতা বজায় রাখতে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন ১৯৮৬সাল।
কচুয়া থানা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি, কচুয়া থানা মুক্তিযোদ্ধা নির্বাচিত সিনিয়র সহ-সভাপতি(ডেপুটি-কমান্ডার)কাদলা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা নির্বাচিত কমান্ডার, কাদলা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি সভাপতি, কচুয়া শহীদ স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয় কমিটি, কাদলা সিনিয়র কামিল মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটি ,সাবেক কাদলা দরবেশগঞ্জ বহুমুখী স্কুল ম্যানেজিং কমিটি, কাদলা রঘুনাথপুর হাইস্কুল ম্যানেজিং কমিটি, কাদলা সরকারি প্রাইমারী স্কুল ম্যানেজিং কমিটিসহ কাদলা দরগাহ ইদ্গাহ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং কাদলা উত্তরপাড়া জামে মসজিদের পৃষ্ঠ পোষক ও নির্মাণাধীন কাদলা উত্তরপারা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গাজী সোলায়মান-নাজমা দীনীয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার দাতা হিসেবে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন ।
পারিবারিক জীবন ঃ রাজনৈতিক,পেশাগত চাকুরী ও ব্যাবসায়ে সাফল্যের পাশাপাশি পারিবারিকভাবেও সাফল্য অর্জন করেন এই বীরমুক্তিযোদ্ধা পরিবার। তিনি ১৯৭৪ সালে কচুয়া থানা মেঘদাই গ্রামে বড়বাড়ী বিশিষ্ট সমাজসেবক ১৯৭১ সালে রনাঙ্গানের মুক্তিবাহিনিকে সহেযাগীতা প্রদান ও আশ্রয়দানকারী তৎকালীন পুর্ব-পাকিস্থান চেয়্যারম্যান পদপ্রার্থী জনাব মরহুম ইউছুফ আলী প্রধানীয়ার(বজলুরবাবা-মেঘদাইগ্রাম) সর্বকনিষ্ঠ কন্যা নাজমা আক্তার শেফালীর সাথে বৈবাহিক জীবনে আবদ্ধ হন। বৈবাহিক জীবনে তাদের এক কন্যা সন্তান ও দুই পুত্রসন্তান রয়েছে, পরিবারের প্রত্যেক সন্তানকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি।
বড়মেয়ে নুরজাহান আক্তারঃ ১৯৯৪ সালে কচুয়া সরকারী শহীদস্মৃতি সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস এসসি ও ১৯৯৭-২০০০ কুমিল্লা সরকারি মহিলাবিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সসহ মাষ্টার্স ডিগ্রী অর্জন করে ঢাকায় একটি বেসরকারী এনজিওতে র্দীঘদিন কাজ করেন।ব্যাক্তিগত জীবনে নুরজাহান আক্তার বিবাহিত তিনি কচুয়া নিশ্চিন্তপুর গ্রামের সাবেক সরকারি প্রধান শিক্ষক জনাব মুসলিম পাটওয়ারীর ছেলে ও কচুয়ার কৃতি সন্তান সাবেক শিক্ষাসচিব জনাব আ:কাদের সাহেবের ভাগ্নে হাসান মাহমুদ শামীমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন বর্তমানে তাদের এককন্যা সন্তান নাম অরনী ও পুত্র সন্তান নাম আফনান রয়েছে স্ব-পরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী।

বড়ছেলে এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন টিটোঃ ১৯৯৬ সালে কচুয়া হযরত শাহনেয়ামত শাহ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এস এস সি ও ২০০২ সালে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এল,এলবি অনার্সসহ এল এল এম ডিগ্রী অর্জন করে দীর্ঘদিন আইনপেশায় নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে সরকারী আইনজীবী হিসেবে নিয়োপ্রাপ্ত হন ২০১০ সাল পর্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করেন।


২০১০ সালে লন্ডনে উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য পারি জমান,বর্তমানে তিনি যুক্তারাজ্যে শিক্ষানবীশ ব্যারিষ্টার হিসেবে অধ্যায়ন এবং আইনজীবী হিসেবে প্রাকটিস করছেন।ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত, স্ত্রী পেশায় একজন আইনজীবী এডভোকেট মৌসুমী হোসেইন জিতু তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সিভিল এভিয়েশন সাবেক সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার (ইলেকট্রিকেল) ও বাংলাদেশ প্রাইভেট এ্যারোনোটিকল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ উত্তরা ঢাকা বর্তমান প্রিন্সিপাল জিএমআনোয়ার হোসেনের একমাত্রমেয়ে।বর্তমানে তাদের এককন্যা সন্তান নাম ফাহমিদা ফাইজা স্বরনী ও দুই পুত্র সন্তান নাম তওছিফ ওয়াহেদ মাহী এবং জুনিয়ার আয়ান রয়েছে।

ছোটছেলে এডভোকেট ইমাম হোসেনঃ ১৯৯৯ সালে ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা দেবীদ্বার ধামতী আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং ২০০৬ সালে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এল,এলবি অনার্সসহ এল এল এম ডিগ্রী অর্জন করে দীর্ঘদিন যাবত রাজধানী ঢাকায় আইনপেশা ও ব্যাবসায় নিয়োজিত আছেন পাশাপাশি ইসলাম ধর্মের আধ্যাত্মিক ধ্বীক্ষায় দীক্ষীত হওয়ার চেষ্টা করছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে তার আধ্যাত্মিক ধ্বীক্ষায় দীক্ষীত হওয়ার চেষ্টার সাফল্য কামনা করছে,বর্তমানে অবিবাহিত।
সমাজের প্রতি প্রত্যাসা ও কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গাজী মোহাম্মদ সোলায়মান ও তার সহধর্মিনি নাজমা আক্তার(অব:সরকারী কর্মকর্তা) অনেক ধৈর্যের সাথে অতিকষ্টে অনেক প্রতিকুল অবস্থার মধ্য থেকেও তাদের সকল সঞ্চয় দ্বারা সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন,তাদের ধারনা আমাদের চেষ্টাই শুধু নয় সন্তানদের শিক্ষার আগ্রহ না থাকলে হয়তো তা কোনদিন সম্ভব হতো না, তিনি এবং তার সহর্ধমিনী সন্তানদের সাফেল্যে আজ তারা গর্বিত। তার পরিবার ও সন্তানদের সাফল্যে তারা মনে করেন দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সহ স্থানীয় প্রতিটি পরিবার তাদের প্রত্যেক সন্তানদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে উজ্জল ভবিষ্যত গড়ে তোলবে, এই প্রত্যাসা থাকবে সমাজের প্রতিটি ঘরে ঘরে, এভাবেই আলোকিত হবে সমাজ ও দেশ।
পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজন সুভান্যুধায়ি,পাড়া-প্রতিবেশি ও সামাজের সকল স্তরে যারা উক্ত পরিবারকে বিভিন্নভাবে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের কাছে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে ও ভবিষ্যতে সমাজের প্রতিটি কাজে সকলকে কাছে থেকে সহযোগীতা করার আশা প্রকাশ করছেন এই পরিবার। সমাজে সকল পরিবারের উত্তরোত্তর সফলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করছেন।

কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, কচুয়ার সকল ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়ক ও স্থাপনা হলেও হয়নি ৮ নং কাদলা কচুয়ার সাংসদ ডঃমহীউদ্দীনখান আলমগীর এম পির নিজ ইউনিয়নে!
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গাজী সোলায়মান প্রতিযশা রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব সাবেক নির্বাচিত থানা কমান্ডার ও ৮নং কাদলা ইউনিয়নে বার বার নির্বাচিত বীর মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধ অসামান্য অবদান ও বিশেষ ভুমিকা এবং মহান স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেও আজ দীর্ঘদিন যাবত কচুয়া এবং কাদলা ইউনিয়নে কোন স্থাপনার নাম করন করা হয়নি এই বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে, পরিবারে পক্ষ থেকে আজ এই বিজয়ের মাসে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি এই দাবীটিই করছে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।

লেখক প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব গাজী সোলায়মান ফাউন্ডেশন,কাদলা, কচুয়া চাঁদপুর।

241 total views, 1 views today