কিছু লিখতে গেলেই বাবার চড় মনে পরে ……… লেখক- মানিক ভৌমিক

———-+++++
আহামরি কিছু লিখতে পারি না, একজন সংবাদকর্মী হিসেবে মাঝে মধ্যে কিছু লিখতে চেষ্টা করি। অনেকে পছন্দ করেন আবার অনেকে করেন না। অনেকের প্রশ্ন, আপনারা সাংবাদিক, সব সত্য লিখেন না কেন? আমি মনে করি, সব সত্য সবসময় লিখা যায় না। সামাজিক ও ব্যক্তিগত কারণেও লেখা যায়না। ব্যক্তিটি যদি গুণি ও গুরুত্বপূর্ণ হন, চিন্তা-ভাবনা করে লিখতে হয়। আমার লেখার কারণে জনগণের ক্ষতি/ স্থানীয় উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হলে লেখা যায় না। যাহোক আসল কথায় আসি।

আমার বাবা নারায়ন চন্দ্র ভৌমিক (নারু বাবু)’র খ্যাতি ছিল অসামান্য। জমিদার (ভরত চন্দ্র)’র একমাত্র সন্তান নারায়ন চন্দ্রের চাল-চলন ছিলো জমিদারের মতোই।

কচুয়া বাজারের সেরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ভৌমিক স্টোর’ ছিল আমার বাবার। প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে সকল সুধিজনদের আড্ডাস্থল ছিলো ভৌমিক স্টোরে। মূলত বাবার ভাগিনা, আমার পিসতু ভাই নির্মলদা ব্যবসা পরিচালনা করতেন। বাবা ব্যস্ত থাকতেন আতিথেয়তা আর সামাজিক কাজ নিয়ে। আমরা বেড়ে উঠতে থাকলাম ‘বাবুর ছেলে’ পরিচয়ে। এতে বিড়ম্বনাও ছিল অনেক। বড়দের সামনে পারতপক্ষে কথা বলতাম না; যদি কোনো কথায় বেয়াদবি হয়ে যায়। অপরিচিত বড়দের সামনেও কথা বলতাম সাবধানে কারণ বাবাকে চিনে না এমন মানুষ এ তল্লাটে নাই। অনেকটা ভিতুর মতোই কেটেছে আমার শৈশব-কৈশোর।

১৯৮৩ সাল। আমি ৮ম শ্রেনিতে পড়ি। সকাল ১০টায় স্কুলে যেতাম , ফিরতাম ৪টায়। দুপুরের খাবার খেতে হতো দোকানের পিছনে বসে। একদিন লাঞ্চের সময় দোকানে গিয়ে দেখি ৩০/৩২ বছরের একজন সুন্দর ভদ্রলোক বসে আছেন চেয়ারে। বাবা বড়সড় দুটি ক্যাশবাক্স সামনে রেখে গদিতে আসন করে বসে কথা বলছেন। আমি একটু দূরে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছি বাবার অনুমতির জন্য। মিনিট খানেক পর বাবা লাফিয়ে এসে আমার গালে সজোড়ে মারলেন এক চড়। চেয়ারে বসা ভদ্রলোক করেন কি.. করেন কি বলে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। বাবা গজগজ করে বলতে লাগলেন, আদবকায়দা কিছু শিখেনি। বড়দের আদাব/নমস্কার কিছু নাই।

নির্মলদা তাড়াতাড়ি এসে হাত ধরে আমাকে পিছনে নিয়ে গেলেন। খাবার প্লেট এগিয়ে দিলেন। আমি চোখভরা জল নিয়ে ভাঙ্গা গলায় বললাম, ওই লোকটি কে? নির্মলদা বললেন, ওনি জুনু সাব। অনেক বড় সরকারি অফিসার। (অসমাপ্ত)

মানিক ভৌমিক
সহসভাপতি
কচুয়া প্রেসক্লাব।
১০/০২/২০২০

75 total views, 1 views today