আমার ৪০বছরের সাংবাদিকতার !!! আবুল হোসেন

১৯৮০ সালের জানুয়ারী মাসের প্রথম দিকে ১০ পয়সা মূল্যের পোস্ট কার্ডে লেখা একটি পত্র পেলাম। পত্রটি লিখেছেন ব্যাংকার রুহুল আমিন। সম্পর্কে তিনি আমার চাচা। পত্রের বিষয়বস্তু ছিল কুমিল্লা থেকে জাকারিয়া মজুমদারের সম্পাদনায়’ কুমিল্লা সংবাদ নামে একটি পাক্ষিক পত্রিকা বের হবে। এ পত্রিকায় সংবাদদাতা নিয়োগ করা হচ্ছে। আমি যেনো পত্র প্রাপ্তির পর পরই কুমিল্লায় গিয়ে ওনার সাথে দেখা করি। সাংবাদিকতার পেশায় আমার জড়িত হওয়ার প্রচন্ড আগ্রহের কথা তিনি জানতেন। পরের দিনই কুমিল্লায় গিয়ে চাচার সাথে দেখা করলে তিনি আমাকে জাকারিয়া মজুমদারের কান্দিরপাড়ের বাসায় নিয়ে যান। কথা হয় জাকারিয়া মজুমদারের সাথে। আগামী দুই মাসের মধ্যে অন্তত ৫০জন গ্রাহক সৃষ্টি করতে হবে। এ শর্তে আমাকে কুমিল্লা সংবাদে সংবাদ পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়। আমার প্রকাশিত প্রথম সংবাদ ‘কচুয়ার নূরপুরে যাত্রা-পাখি রানী গানে গানে মাতিয়ে তুললেন দর্শকদেরকে। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি দেখে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠি। ১৯৮০ সালের ১৬ এপ্রিল কুমিল্লার ওয়াপদা রেস্ট হাউজে অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লা সংবাদের সংবাদদাতাদের মতবিনিময় সভা। এ সভার মধ্য দিয়ে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানার সংবাদদাতাদের সাথে পরিচয় ঘটে। পত্রিকাটি বছরের মাথায় ‘দৈনিক বাংলাদেশ সংবাদ’ নামে আত্মপ্রকাশ করে। এ পত্রিকায় কাজ করার পাশাপাশি জাতীয় দৈনিক কাজ করার জন্য প্রচন্ড আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
১৯৮১ সালের জুন মাসে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য ও চাঁদপুর জেলা গভর্নর মরহুম এডভোকেট আব্দুল আউয়াল খন্দকারের একটি চিঠি নিয়ে দৈনিক বাংলার বানীর সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সাথে দেখা করি। তিনি কিছু দিক নির্দেশনা দিয়ে সংবাদ পাঠাতে অনুমতি দেন। প্রকাশিত সংবাদের মান বিবেচনা করে (রাইটিং স্কিল) কয়েক মাস পরই আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলার বানীর নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক চাঁদপুর বার্তা’ কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সমাজ কন্ঠ’ ও সাপ্তাহিক রংধনু পত্রিকায় কাজ করি। ১৯৮৩ সালে কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক নিরীক্ষণ পত্রিকায়ও কাজ করি। সংবাদ লেখার পাশাপাশি চলতে থাকে সাহিত্য চর্চা। আমার প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘বিরহ’ (বাংলাদেশ সংবাদ) এবং প্রথম গল্প ‘ভূলের মাশুল’ (মাসিক নাট্যরাজ)। লেখা-লেখি আমার নেশায় পরিনত হয়। আশির দশকের প্রথম দিকে আমার এলাকা বিদ্যুতায়ন না হওয়ায় হারিকেন আর মোমবাতির আলোতে গভীর রাত পর্যন্ত লেখা-লেখি করি। গভীর নেশা নিয়ে লিখতে গিয়ে কখন যে রাত ১টা/২টা বেজে যেত টেরই পেতাম না। পায়ে হেটে ও রিক্সায় চড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করি। সংবাদ পাঠাতাম বুক পোস্টে। ডাক টিকেট বাবৎ খরচ হতো ১৫ পয়সা। জরুরী সংবাদ হলে পরিচিত ঢাকার যাত্রীদের শরণাপন্ন হতাম। সায়েদাবাদ হতে মতিঝিল বাংলার বানী অফিসের গেইট পর্যন্ত রিক্সায় যাওয়ার জন্য ১০টাকা ভাড়া দিয়ে দিতাম। প্রেরিত সংবাদ পৌছে যেত বাংলার বানী অফিসের গেইটের দারোয়ানের নিকট। খামের উপর লেখা থাকত- জরুরি ভিত্তিতে পৌঁছে দিন মফস্বল বিভাগে। কুমিল্লার কোটবাড়িতে ১৯৮৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউটের (পিআইবি) পক্ষকাল ব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মশালা। ওই প্রশিক্ষন কর্মশালায় জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক ছাড়াও বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার বার্তা সম্পাদকরা অংশ গ্রহণ করে। আমিও ওই প্রশিক্ষন কর্মশালায় অংশ গ্রহনের সুযোগ পাই। ওই সময় দেশের প্রেসিডেন্ট লেঃ জেনারেল এরশাদ সামরিক কায়দায় দেশ পরিচালনা করতেন। দেশকে কয়েকটি অঞ্চলে বিভক্ত করে সেনা কর্মকর্তাদের দ্বারা শাসন কার্য পরিচালনা করতেন। কুমিল্লা অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন ব্রিগিডিয়ার আবদুস সালাম। তিনি কর্মশালার সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রাধান অতিথি হিসেবে যোগদান করে সনদপত্র বিতরণ করবেন, এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আমরা সাংবাদিকরা সেনা শাসন সমর্থন করতাম না। তাই এই সিদ্ধান্তকে দৃঢ় ভাবে প্রত্যাখান করি। এতে সনদপত্র বিতরন অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে আমরা প্রশিক্ষন কারীরা পিআইবির ঢাকা কার্যালয় থেকে সনদপত্র গ্রহণ করি। ওই প্রশিক্ষনে বার্লিন থেকে সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা গ্রহণকারী মোঃ রফিকুল ইসলাম নাসিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গন সংযোগ বিভাগের অধ্যাপক নুরুদ্দিন ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর (নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত ড. ইউনুছের অনুজ) সহ খ্যাতনামা সাংবাদিকরা প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ করেন। ওই প্রশিক্ষন কর্মশালায় অংশগ্রহনের মধ্যদিয়ে সংবাদ লিখার বৈশিষ্ট, ফিচার, অর্থনৈতিক প্রতিবেদন, অনুসন্ধান রিপোর্ট, ডেপথ ও এক্সক্লোসিভ রিপোর্ট ইত্যাদি বিষয়ে একটি ধারনা লাভ করি।
রিপোটিং এর মনোন্নয়নে প্রায়ই আলোচনায় মিলিত হতাম কুমিল্লার বিশিষ্ট সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা চৌধুরী (ইত্তেফাক), শাজা দেলোয়ার জাহিদ (সম্পাদকসমাজ কন্ঠ), রেজাউল করিম শামীম (বাংলার বানী), অধ্যাপক আলী হোসেন চৌধুরী ( দৈনিক বাংলা ) ও নওশাদ কবির (যুগান্তর, সড়ক দুঘর্টনায় নিহত), চাঁদপুরের হেলাল উদ্দিন (বিশেষ সংবাদদাতা, যুগান্তর), শংকর চন্দ্র দে (দৈনিক বাংলা), অজিত কুমার মুকুল (দৈনিক সংবাদ) ও গোলাম কিবরিয়া জীবন (ইত্তেফাক)। কুমিল্লার কান্দির পাড়ের রহমান মিঞার লাইব্রেরী ও চাঁদপুরের কালীর বাড়ী মোড়ে তাজ লাইব্রেরী ছিল সাংবাদিকদের গল্প গুজবের আড্ডাখানা। সাংবাদিক অজিত কুমার মুকুল বলতেন লেখায় দক্ষতা অর্জন করতে ম্যাগাজিনে লিখতে হবে (এক্সকেøাসিভ নিউজ)। তাঁর পরামর্শে ৯০ এর দশকের প্রথম দিক থেকেই লেখা শুরু করি সাপ্তাহিক চিত্র বাংলা, সন্ধানী ও সংবাদ চিত্রে। এছাড়াও ৯০ দশকে চাঁদপুর থেকে মাসুদ ভূঁইয়ার সম্পাদনায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক রূপসী বাংলা ও গোলাম কিবরিয়ার জীবনের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক চাঁদপুর পত্রিকায় কাজ করি। ২০০০ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছি ইকরাম চৌধুরীর সম্পাদনায় সরাসরি দৈনিক হিসাবে প্রকাশিত দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ পত্রিকায়।
দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কাজী শাহাদাত ভাই ও আমি দৈনিক রংধনু পত্রিকায় (৮৩,৮৪,সালে) কাজ করতাম। সে সুবাধে তার সাথে আমার ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমি ১৯৮৩ সাল থেকে একজন শিশু সংগঠক হিসাবেও কাজ করি। ওই সালে গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় কচুয়া উপজেলার রহিমানগর হাজী চাঁদ মিয়া বালিকা বিদ্যালয়ে ‘পল্লী স্মৃতি’ ও রহিমানগর বি এ বি উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘সত্য সুন্দর’ নামে দু’টি কচি কাঁচার মেলার শাখা প্রতিষ্ঠা করি। পরবর্তীতে ৯২ সালে শাপলা কুড়িঁর আসারের কচুয়া শাখা প্রতিষ্ঠা করি। কেন্দ্রীয় সদস্য ও শাখার সভাপতির দায়িত্বে থেকে উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসরের বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করি।
১৯৮৪ সালে ব্রিগিডিয়ার আবেদ মিযার সহযোগিতায় তৈতৈয়ার শহিদ উল্যাহ কায়সার ও চাঙ্গিনী গ্রামের তাওফিকুল মাওলা চৌধুরী পাক্ষিক কচুয়া সংবাদ প্রকাশ করি। পর পর তিনটি সংখ্যা প্রকাশের পর অর্থনৈতিক টানা পোড়নে আর এগুতে পারেনি। এটিই ছিল কচুয়া থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
বাংলার বাণীতে কাজ করার সময় এ পত্রিকার প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ্যাডভোকেট নুরল আমিন রুহুল ভাই (বর্তমানে চাঁদপুর-২ মতলব আসনের সংসদ সদস্য) সংবাদ প্রেরণের পাশাপাশি কচুয়া ও মতলবের ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ঘটনাবলী নিয়ে প্রতিবেদন লিখার জন্য আমাকে উৎসাহিত করেন। ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলার বানীতে কাজ করি। এ পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ২০০২ সাল থেকে ইত্তেফাকে কাজ করা শুরু করি (বর্তমানে এ পত্রিকায় কর্মরত)
এ পর্যন্ত আমার যে সব প্রতিবেদনের জন্য সাধারন পাঠক ছাড়াও সাংবাদিক বন্দুদের সাধুবাদ পাই । তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য প্রতিবেদন হচ্ছে, বাংলার বানীতে প্রকাশিত ‘অনুসন্ধান রির্পোট’ বেহুলার মনসা দেবী, ল²িন্দরের স্মৃতি বিজড়িত কাহিনি (১০-০৫-১৯৯০) কচুয়ার বিমলার বাড়ী যেন এক পাখীর রাজ্য । (২৭-১০-১৯৯৩) ধারাবাহিকভাবে লেখা উজানি গ্রামের স্মৃতি কথা- ১,২,৩ (০২-০৪-১৯৯৭ থেকে) কালের নীরব সাক্ষী শাহারপাড়ের দীঘি (০৭-০৫-১৯৯৭ । দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘কিংবদন্তি ঘেরা পালগিরী গ্রাম’ (২৭-০৮-২০০৬), ‘বেহুলা লক্ষিন্দরের গল্প গাঁথা, মনসা মুড়ায় দর্শনার্থীর ভিড়’ (২০-১০-২০০৭)।
১৯৯০ সালে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির ‘কচুয়া শাখা’ গঠন করি। ১৯৯২ সালের প্রথম দিকে চাঁদপুর প্রেস কøাবের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন জানালে বিটিভি ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়া জীবন ভাই আমাকে পরামর্শ দেনÑ আপনি যেহেতু কচুয়া উপজেলার নূরপুর ল্যাবরেটরী উচ্চ বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে কর্মরত, এ দিক বিবেচনায় উপজেলার বাইরে গিয়ে সাংবাদিকতার কাজ করা খুবই কষ্ট কর হবে। আপনার উপজেলায় প্রেসক্লাব গঠন করে নেতৃত্ব দেওয়াই হবে আপনার জন্য উত্তম কাজ। তাঁর পরামর্শ অনুসরণ করে ১৯৯২ সালের ১৯জুন কচুয়া উপজেলা পরিষদের হল রুমে এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘কচুয়া প্রেসক্লাব’ গঠন করি। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন, কচুয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিসবা উদ্দিন খান, প্রধান বক্তা ছিলেনÑ বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সফিউদ্দিন আহমেদ। তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গাজী মেসবাউদ্দিন ও উপজেলা সাব-রেজিষ্টার নিখিল চন্দ্র অনুষ্ঠান আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। ২২ বছরের ও অধিক সময় ব্যাপি সভাপতির দায়িত্বে থেকে প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব দিয়ে আসি। আজও এই প্রেসক্লাবের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমার সাংবাদিকতায় উৎসাহ অনুপ্রেরনা দানকারী হিসাবে যাদের নাম সর্বাগ্রে স্মরণে আসে তাঁরা হচ্ছেন, আমার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরহুম আলহাজ্ব সেকান্দর আলী, দৈনিক বাংলার সাব এডিটর, ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মরহুম আবদুল আউয়াল (উজানী গ্রামের অধিবাসী) ও দৈনিক বাংলার বানীর প্রশাসনিক কর্মকর্তা বর্তমানে মতলব-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল।
সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতা এ উভয় পেশাকে অত্যন্ত মহৎ পেশা হিসাবে গ্রহণ করি। অন্যের রচিত সংবাদ/ প্রতিবেদন কপি করে বা পত্রিকায় প্রকাশ করে বাহবা কুড়ানোর মত ঘৃন্য কাজকে পরিহার করে নিজের মেধাশক্তি খাটিয়ে সংবাদ/প্রতিবেদন লিখে তৃপ্তি খোঁজার চেষ্টা করি। বয়স ষাটোর্ধ হলে ও সাংবাদিকতায় ভাটা পড়েনি। সংবাদ/প্রতিবেদন লেখার তাড়া সর্বক্ষনই অনুভব করছি। দীর্ঘ সময় ব্যাপি সংবাদপত্রে কাজ করলেও এ জগতের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারের প্রান্তে দাড়িয়ে আছি বলেই মনে হয়।

188 total views, 1 views today