বাংলাদেশ পাকিস্থানে সময়ের আলোচিত দুই রাস্ট্রের আলোচিতদের বিয়ে বিতর্ক স্ত্রীদের রোষানলে ইমরানের খানের পর মামুনুল হক!

জেমিমার পর ইমরান খানকে এক হাত নিলেন সাবেক স্ত্রী রেহাম!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নারীর পোশাক ধর্ষণের কারণ’-মন্তব্য করে বেকায়দায় পড়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার এই মন্তব্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে দেশজুড়ে। নারী ও মানবাধিকার কর্মীরা তুলোধুনো করছেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইমরান খানকে ধুয়ে দিয়েছেন খোদ তার দুই সাবেক স্ত্রী।

জেমিমা গোল্ডস্মিথের পর এবার ইমরান খানকে একহাত নিয়েছেন তার আরেক প্রাক্তণ স্ত্রী রেহাম খান। তিনি বলেছেন, ইমরান যত কম কথা বললেন তত সবার জন্য মঙ্গল। বৃহস্পতিবার টুইটে তিনি একথা লেখেন।

বিবিসির সাবেক সংবাদ পাঠিকা রেহাম খান ইমরান খানের মন্তব্যের বিষয়ে বৃটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তিনি সাবেক স্বামীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ইমরানকে ভণ্ড, যোচ্চুর আখ্যা দিয়েছেন রেহাম। সেই সঙ্গে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইমরানকে ‘প্রমাণহীন ক্ষমা চাওয়া ধর্ষক’ বলেও মন্তব্য করেন।

ক্রিকেট মাঠ থেকে রাজনীতির মাঠ কাপানো ইমরানকে বিয়ে করা রেহাম খান জানান, নারী ইস্যুতে ইমরান সব সময়েই ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি সুচতুরভাবে নারীসঙ্গ দিয়েছেন।

রেহাম আরও জানান, খান তার পারিবারিক পদবি। ইমরানের খানের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তার নামের শেষে খান যোগ হয়নি। রেহামের মূল্যায়ন ইমরান খান আদর্শ পুরুষ নন। স্বামী হিসেবে তিনি ব্যর্থ।

রেহাম খান ক্ষোভের বশে এসব বলেছেন ইমরান খানের অফিসের এই দাবি প্রসঙ্গে সাবেক স্ত্রী বলেন, তার এসব মন্তব্য নতুন নয়। তাদের উচিত এ ধরণের কথাবার্তার জন্য জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়া।
তিনি ধর্ষণ নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে বলেন, এটি (ইমরানের মন্তব্য) ধর্ষকের ক্ষমা চাওয়ার মতোই বিষয়।

‘ইমরান বারবার এসব বলছেন। তার উচিত ক্ষমা চাওয়া। সেই সঙ্গে কিভাবে কথা বলা উচিত সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন তিনি। তার অনেক কিছুই শেখার বাকি আছে’-যোগ করেন রেহাম খান।

ইমরান খান রক্ষণশীল পাকিস্তানে ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা করতে ধর্ম বিশেষ করে ইসলামকে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রেহাম খানের। অথচ তিনি দুই দুটি বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন।

এর আগে ইমরানের আরেক সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ কোরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে ইমরান খানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। জেমিমার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন রেহামও।

কোরআনের একটি আয়াতের রেফারেন্স দিয়ে জেমিমা বলেন, কোরআনে পুরুষদের চক্ষু ও বিশেষ অঙ্গ সংযত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেমিমার এই টুইট শেয়ার করেছেন দেশটির মানবাধিকার কর্মীরা।

সম্প্রতি পাকিস্তানের টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার জন্য অশ্লীলতা ও নারীদের খোলামেলা পোশাককে দায়ী করেন।
কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ওই সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নারীদের শালীন পোশাক পরার পরামর্শও দেন। তিনি বলেন, পর্দা করার সারবস্তুই হলো আকর্ষণ করা থেকে বিরত থাকা। নিজেকে বিরত রাখার ইচ্ছাশক্তি সবার নেই। সবাইকে পর্দা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে সমাজে অশ্লীলতার প্রচলন আছে, সেখানে তার পরিণতিও রয়েছে
ইমরান খানের ওই মন্তব্যের পর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন অধিকার সংগঠন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, প্রধানমন্ত্রী ‘ধর্ষণ কে ক্ষমার চোখে’ দেখতে চাচ্ছেন। নিজের মন্তব্যের জন্য তারা ইমরান খানকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন এবং এ দাবির পক্ষে কয়েকশ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে।
বুধবার দেশটির বহু বিখ্যাত ব্যক্তি এক বিবৃতিতে ইমরান খানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে ইমরান খানের মন্তব্যকে ‘ত্রুটিপূর্ণ, রূঢ় ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্ষণের ঘটনার অপরাধ কেবলমাত্র ধর্ষকের ওপরই বর্তায় এবং (ইমরান খানের মন্তব্যের মতো) বক্তব্যের সংস্কৃতি ধর্ষককে উৎসাহিত করে।
এর আগে হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান মঙ্গলবার মন্তব্য করে, ইমরান খানের মন্তব্যে তারা ‘হতভম্ব’ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জেমিমার সঙ্গে ইমরানের সংসার টিকে ৯ বছর। ২০০৪ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত তাদের দাম্পত্যকাল। এই সংসারে ইমরানের দুই সন্তান। আর রেহামকে ২০১৪ সালে বিয়ে করেন সাবেক প্লেবয়।
ইমরান খানের তৃতীয় ও শেষ স্ত্রী বুশরা ওয়াটু। তাকে রক্ষণশীল এক অনুষ্ঠানে বিয়ে করেন ২০১৮ সালে। ওই বিয়েতে তাকে দেখা যায় চোখমুখ পুরোপুরি ঢাকা অবস্থায়। ইসলামিক রীতি মেনে তিনি এমনটা করেছিলেন।

বাংলাদেশের আল্লামা মামুনুল হক কে নিয়ে যত বিতর্ক-

২০২১ সালের ৩ এপ্রিল মামুনুল হক সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে একজন নারীসহ অবকাশযাপন করছিলেন।এ খবর পেয়ে স্থানীয় কিছু লোকজন এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রেখে লাঞ্ছিত করে ও পরে প্রশাসনকে খবর দেয়া হয়। মামুনুল উক্ত নারীর নাম আমিনা তৈয়ব উল্লেখ করে তাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবী করেন।তবে উক্ত নারী জিজ্ঞাসাবাদে নিজের নাম জান্নাত আরা বলে পরিচয় দেন। মামুনুলকে রিসোর্টে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ছড়িয়ে পরলে বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে হেফাজতের কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে ওই রিসোর্টে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে সেই রিসোর্টে এবং পার্শ্ববর্তী মহাসড়কসহ বিভিন্ন জায়গায় হেফাজত কর্মীরা বিক্ষোভ, ভাঙচুর করে।মামুনুল হক দাবী করেন জিজ্ঞাসাবাদের নামে কিছু মানুষ তাকে ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে হেনস্তা করেছেন। এই ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উক্ত নারীর প্রকৃত নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা; যাকে মামুনুল আমিনা তৈয়ব এবং দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবী করেছেন; সেই আমিনা তৈয়বা মুলত তার প্রথম স্ত্রীর নাম। এবং তিনি আমিনার (প্রথম স্ত্রী) নামেই রিসোর্টে সেদিন কক্ষ বুকিং করেছেন। মামুনুল হক ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে বলেন; তাদের মধ্যে একটি মানবিক বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি সেখানে দাবী করেন হাফেজ শহিদুল ইসলাম তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শহিদুল এবং শহিদুলের স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের পরে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি শহিদুলের সাবেক পত্নীকে বিবাহ করেন। ৪ এপ্রিল সংসদে ফাস হওয়া একটি ফোনালাপের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন উক্ত নারী মামুনুল হকের স্ত্রী নন একই সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মামুনুলের কৃতকর্মের সমালোচনা করে বিনোদনের অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেন।

মামুনুলের পরিবারের বিভিন্ন সদস্য ও তার সহযোগীদের একাধিক ফোনালাপ পরবর্তীতে ফাস হয়। মামুনুল হক ৩ এপ্রিল তার সংগঠনের কর্মীদের সাহায্যে রিসোর্ট থেকে বের হয়ে কল করেন তার প্রথম স্ত্রী আমিনা তৈয়বকে। সেই ফোনকলে তিনি উক্ত নারীকে জনৈক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। পরিস্থিতির কারণে তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলতে বাধ্য হয়েছেন, বলেন তিনি। এছাড়াও মামুনুল তার প্রথম স্ত্রীকে শিখিয়ে দেন, তিনি যে সব জানেন সে কথা যে কেও জিজ্ঞেস করলেই যেন বলেন।মামুনুলের বোনও মামুনুলের প্রথম স্ত্রীকে এই বিয়েটা (মামুনুলের দ্বিতীয় বিয়ে) তার সম্মতিতে হয়েছে- একথা বলতে শিখিয়ে দেন; এরকম একটি ফোন কল অডিও ফাস হয়। হেফাজতের দুই নেতা মামুনুল হকের কর্মকাণ্ডকে ভুল আখ্যায়িত করে হেফাজতের মান বাঁচানো ও যেকোনো মূল্যে তাদের অবস্থান শক্ত করে ধরে রাখার পরামর্শমুলক কথোপকথনও ফাস হয়ে যায়।

মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর বড় পুত্রর একটি ভিডিও ৫ এপ্রিল ফেসবুকে আলোচিত হয়। সেখানে সে মামুনুলের পরকিয়াজনিত কারণে তাদের জন্মদাতা পিতা মাতার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটেছে বলে দাবী করে। একইসাথে রিসোর্টঘটিত ঘটনার জন্য তাদের দুইভাইয়ের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে। এছাড়াও মামুনুলকে বিভিন্ন নেতিবাচক শব্দে ভূষিত করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

৮ এপ্রিল এক ফেসবুক লাইভে মামুনুল হক আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, স্ত্রীকে খুশি করার জন্য প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে সত্যকে গোপন করা যায়। তিনি দাবী করেন ইসলামি শরিয়ত অনুসারে তার এ এখতিয়ার আছে। এছাড়াও তিনি বলেন, তার স্ত্রীদের সাথে ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁস করার মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। এপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

৪ এপ্রিল মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ায় সুনামগঞ্জে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।৫ এপ্রিল ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুল হকের পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা পুলিশের এক এএসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।একইদিন সোনারগাঁওয়ের ওসিকে বদলি করা হয়।