(মুক্তকথা ভিডিও)কচুয়া উপজেলায় শাহাজাহান শিশিরের বাবাকে করোনায় তালিকাভুক্ত না করা ও আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল হাই মুন্সীর মৃত্যুতে কচুয়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অবহেলা ও উদাসীনতাকেই দায়ী করলেন-নাজমুন নাহার বেবী! 

কচুয়ারডাক মুক্তকথা বিশেষ প্রতিবেদনঃ চাঁদপুর কচুয়ার ১০ গোহট উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান ও  আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আব্দুল হাই মুন্সী (৭০) মৃত্যুতে এই প্রথম কচুয়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অবহেলা ও  উদাসীনতাকেই দায়ী করলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভাপতি জনাবা নাজমুন নাহার বেবী!

আব্দুল হাই মুন্সি গত ৩১ মে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার স্কয়ার হসপিটালে ভর্তি করা হয়।  ওই হাসাপাতালে ভর্তির পরদিন তার করোনা নমুনা পরীক্ষা করলে রির্পোট পজেটিভ আসে, পরে ওই হাসাপাতালে ৮দিন করোনা সাথে যুদ্ধে করে মঙ্গলবার সকালে  তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে, ২ মেয়েসহ বহু গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

চাঁদপুরের কচুয়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে উপজেলার গোইট উত্তর ইউনিয়নের পালগিরী গ্রামের সরকার বাড়ির ফজিলেতুন্নেসা (৭০) করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণ করেন। এনিয়ে একই পরিবারের ছেলে মানিক সরকার (৫০) , বাবা বাচ্চু সরকার (৮০) ও মাতা ফজিলেতুন্নেসা  বেলা ২টায় মৃত্যু বরণ করেন।

সরকার বাড়ির মানিক সরকার একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরি করত গ্রামের বাড়িতে থাকত তার বৃদ্ধ মা ও বাবা। দেশ ব্যাপি করোনা ভাইরাসের কারনে দেশের যখন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তখন তিনি তার র্কমস্থাল ঢাকা হতে গ্রামের বাড়িতে আসেন তার স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১ কন্যা সন্তান নিয়ে। গ্রামের বাড়িতে এসে গত ১৫ মে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৯ মে মৃত্যু বরণ করেন। তার মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করলে তার নমুনা পজেটিভ আসে। মানিক সরকারের মুত্যুর ৯দিন পরেই করোনা উপসর্গ নিয়ে ছেলের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সাহিত হলেন তার বাবা বাচ্চু সরকার। বাবার মৃত্যুর ২ দিনের মাথায় করোনা উপসর্গ নিয়ে স্বামী ও ছেলের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সাহিত হলেন ফজিলেতুন্নেসা ।

একই পরিবারের একমাত্র সন্তান মানিক সরকারের মৃত্যুর পর বাবা ও মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. মোঃ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ জানান, সকালে পারিবারিক সুত্রে ফজিলেতুন্নেসা অসুস্থ এখবর পেয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকা আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়ার পথে গোরীপুর নামক স্থানে মৃত্যু বরণ করেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরো জানান , মানিক সরকারের স্ত্রী, ২ ছেলে ১ কন্যা ও করোনা ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানান তখন।

সম্প্রতি কচুয়ারডাক মুক্তকথায় আসেন বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন কে নকলমুক্ত কর‍তে যার অবদান অবিস্মরণীয়,শিক্ষাঙ্গনে পড়ালেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে যে মানুষটি কচুয়াকে নতুনভাবে বাংলাদেশে পরিচয় করিয়ে দেন,কচুয়ার গর্ব সারা দেশে নকলমুক্ত করতে পর্দার অন্তরাল থেকে যে নারী শক্তি ও সাহস যুগিয়েছিলেন সেই মহীয়সী নারীকে নিয়েই ছিল কচুয়ারডাক ”মুক্তকথা” আয়োজন! কচুয়ারডাক নিয়মিত জনপ্রিয় লাইভ ”মুক্তকথা” লাইভে গত মঙ্গলবার ১৪/০৭/২০২০ইং তারিখ রাত ৭.৩০ঘটিকায় ইউ এস এ সময় ৯.৩০ (সকাল) কন্ট্রিবিউটর এডিটর জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় সন্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কচুয়ার স্বপ্নবান কৃতি সন্তান সাবেক এম পি ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমুন নাহার বেবী এম এস এস ঢাকা ইউনিভার্সিটি, সহ-সভাপতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটি!

তিনি যে বিষয় নিয়ে মুক্তকথায় আলোচনা করেন তা হলো কচুয়া উপজেলায় করোনায় মানবিক কার্যক্রম ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বি এন পির ভুমিকা !

তিনি লাইভে চাঁদপুরের কচুয়ার ১০ গোহট উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান ও  আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আব্দুল হাই মুন্সী (৭০) মৃত্যুতে এই প্রথম কচুয়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অবহেলা ও  উদাসীনতাকেই দায়ী করলেন। জনাবা নাজমুন নাহার বলেন মানিক সরকার থানা হাঁসপাতালে উপসর্গ নিয়ে গেলেও তাকে হোম আইসোলেশনে না পাঠিয়ে থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সবাস্থ্যবিধি না মেনে বেআইনিভাবে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন, তার কয়েকদিন পরেই ১৯শে মে তিনি মারা যান, মানিক সরকার কে দাফন করতে এসে স্থানীয় চেয়ারম্যান আবদুল হাই মুন্সী কবর খনন করেন এবং মানিক সরকারের বাবাকেও তিনি জড়িয়ে ধরেন, এবং তার বাবাও করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১ সপ্তাহ পরে মার যান,এবং তার কয়েকদিন পরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান মানিক সরকারের মা।

অতঃপর আব্দুল হাই মুন্সী ৩১ মে অসুস্থ্য হলে ঢাকায় তার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসে অতঃপর জনাব আব্দুল হাই মুন্সীও ৯ জুলাই করোনায় মারা যান।

জনাবা নাজমুন নাহার বলেন  উপজেলা প্রশাসন ও থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ঠিকমতো সাস্থ্যবিধি মেনে মানিক সরকারের পরিবার কে হোম আইসোলেশনের ব্যাবস্থা করলে এই দুর্ঘটনা হতো না।

জনাবা নাজমুন নাহার বলেন ঠিক তদ্রুপভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান তার বাবা ঢাকায় করোনায় মারা গেলেও তাকে দাপন করা হয়েছে কচুয়ায় সে ক্ষেত্রে তিনি কচুয়ায় করোনা কাউন্টেবল বলে গণ্য হবেন কিন্ত সে ক্ষেত্রে তা হয়নি।

কচুয়ারডাক সম্পাদকীয় মনে করে করোনায় উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আরও অধিক জনসচেতনতা মুলক উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিৎ বলে মনে করছে।

সম্পাদকীয়