পবিত্র মাহে রমজানের ফজিলত ও গুরুত্ব -মাওলানা মোঃ মোশাররফ হোসাইন!

পবিত্র মাহে রমজানের ফজিলত ও গুরুত্ব -মাওলানা মোঃ মোশাররফ হোসাইন!
আল্লাহ তা’আলা মানুষকে কল্যাণের জন্যে ভালো কাজের একটি মৌসুম উপহার দিয়েছেন। যে মৌসুমে মানুষের ভালো কাজের প্রাপ্তি বেড়ে যায় আবার মন্দ কাজের প্রভাব একেবারেই কমে যায়। বান্দার সম্মান ও মর্যাদা বেড়ে যায়। ভালো কাজের এ পবিত্র মৌসুমে মুমিন মুসলমানের অন্তর শুধুমাত্র আল্লাহর তা’আলার দিকে ঝুঁকে যায়। ভালো কাজের অন্যতম এ মৌসুমটি হলো পবিত্র রমজান মাস। যে মাসে মুমিন বান্দা দিনের বেলা রোজা পালন করে আর রাতে নামাজে অতিবাহিত করে। সকল মাসের সেরা মাস রমজান। সকল রাতের সেরা রাত লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। সকল আসমানি গ্রন্থের সেরা গ্রন্থ আল-কোরআন। আল্লাহ তা’আলার প্রেরিত সকল নবী-রাসূলের মধ্যে সেরা নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)। শ্রেষ্ঠ মাসে শ্রেষ্ঠ রাতে শ্রেষ্ঠ নবীর উপর নাযিল হয়েছে শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল-কোরআন। আল-কোরআন এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। জীবনে একবার পড়ে নিলে হয় না, বারবার পড়তে হয়। আল-কোরআন পুরান হয় না। প্রতিবার তাকে নতুন মনে হয়। আল-কোরআন পড়ার স্বাদ কখনো কমে না। প্রতি পাঠেই তার নতুন স্বাদ নতুন মজা আসতে থাকে। আল-কোরআন পাঠের আকর্ষণ দিনে দিনে ক্ষণে ক্ষণে শুধু বাড়তেই থাকে। কখনও তা আর হ্রাস পায় না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যে রূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা পরহেজগারী অর্জন করতে পার। (সূরা বাকারা : ১৮৩)। আলোচ্য আয়াতে রোজা শব্দকে সওম বলা হয়েছে, সওমের বহুবচন সিয়াম। সওম বা সিয়ামের অর্থ বিরত থাকা। শরিয়তের পরিভাষায় সওম বলা হয়, আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে নিয়তসহ সুবহে সাদিকের শুরু থেকে সূর্যাস্তের পর পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা।

হাদিসের আলোকে পবিত্র মাহে রমজান

(১) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, মাহে রমজান শুরু হলে আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। অন্য এক বর্ণনায় আছে, জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয়। অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়’। (বুখারী ১৮৯৯)।

(২) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, আদম সন্তানের প্রত্যেকটি নেক আমল দশ থেকে সত্তর গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন, কিন্তু এর ব্যতিক্রম হলো রোজা। কেননা, রোজা আমার জন্যে রাখা হয় এবং আমিই এর প্রতিদান দিবো। কারণ রোজাদার ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির তাড়না ও খাবার-দাবার শুধু আমার জন্য পরিহার করে। রোজাদারের জন্য দুটি খুশি রয়েছে। একটি ইফতার করার সময় আর অপরটি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সময়। রোজাদরের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুগন্ধির চেয়েও বেশি পবিত্র ও পছন্দনীয় এবং রোজা ঢালস্বরূপ (জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষাকবচ)। তাই তোমাদের যে কেউ যেদিন সায়িম (রোজা) রাখবে সে যেনো অশ্লীল কথাবার্তা না বলে আর শোরগোল বা উচ্চবাচ্য না করে। তাকে কেউ যদি গালি দেয় বা কটু কথা বলে অথবা তার সাথে ঝগড়া করতে চায়, সে যেন বলে দেয়, ‘আমি একজন রোজাদার’। (বুখারী-১৯০৪, মুসলিম-১১৫১)।

(৩) সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূল (সাঃ) বলেন, জান্নাতে রাইয়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন রোজাদার ব্যক্তিই প্রবেশ করবে। তাঁদের ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেয়া হবে, রোজা পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তারা ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। যাতে করে এ দরজাটি দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে। (৩২৫৭, মুসলিম ১৩/৩, হাঃ ১১৫২)।

(৪) আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃ)কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিনও রোজা পালন করে, আল্লাহ্ তার মুখম-লকে দোযখের আগুন হতে সত্তর বছরের রাস্তা দূরে সরিয়ে নেন। (মুসলিম ১৩/৩১ হাঃ ১১৫৩, আহমাদ ১১৭৯০)।

(৫) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াব লাভের আশায় রমজান মাসে সিয়াম পালন করবে, তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াব লাভের আশায় ইবাদাতে রাত কাটাবে, তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াব লাভের আশায় লায়লাতুল কদরে ইবাদাতে কাটাবে তারও আগের সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে। (বুখারী-১৯১০, মুসলিম-৭৬০)।

(৬) ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, রমজানকে স্বাগত জানাবার জন্যে বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জান্নাতকে সাজানো হতে থাকে। তিনি (সাঃ) বলেন, বস্তুত যখন রমজানের প্রথম দিন শুরু হয়, ‘আরশের নিচে জান্নাতের গাছপালার পাতাগুলো হতে ”হূরিল ‘ঈন”-এর মাথার উপর বাতাস বইতে শুরু করে। তারপর হূরিল ঈন বলতে থাকে, হে আমাদের রব! তোমার বান্দাদেরকে আমাদের স্বামী বানিয়ে দাও। তাদের সাহচর্যে আমাদের অাঁখি যুগল ঠা-া হোক আর তাদের চোখ আমাদের সাহচর্যে শীতল হোক (আহমাদ ৭৮৫৭)।

নতুন চাঁদ দেখার বর্ণনা

মহান আল্লাহ চাঁদকে মানুষের জন্য সময়-নির্দেশক হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। এর দ্বারা মানুষ নিজেদের ইবাদত ও পার্থিব জীবনের সময় ও তারিখ নির্ধারণ করতে পারে। সুতরাং বান্দার প্রতি তাঁর খাস রহমত এই যে, তিনি ফরজ রোজা শুরু হওয়ার বিষয়টা একটি এমন স্পষ্ট জিনিস ও প্রকট চিহ্নের উপর নির্ভরশীল করেছেন, যা সকল মানুষই জানে। অবশ্য রোজা ফরজ হওয়ার জন্যে এ শর্ত নয় যে, প্রত্যেক মুসলিমকেই চাঁদ দেখতে হবে। বরং কিছু সংখ্যক লোক দেখলে, সকলের জন্য রোজা রাখা জরুরি হয়ে যাবে। রমজানের চাঁদ দেখে। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে রোজা রাখে (কুরআনুল কারীম ২/১৮৫)। উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, তোমরা চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম (রোজা) পালন করবে না এবং তা না দেখা পর্যন্ত সওম শেষ (ভঙ্গ) করবে না। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় তোমরা যদি চাঁদ না দেখতে পাও তাহলে (শা’বান) মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করো (অর্থাৎ এ মাসকে ত্রিশ দিন হিসেবে গণ্য করো)। অপর বর্ণনায় আছে, তিনি (সাঃ) বলেছেন, মাস ঊনত্রিশ রাতেও হয়। তাই চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম পালন করবে না। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করো (বুখারী-১৯০৬, মুসলিম-১০৮০)।

রোজার উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, উপকারিতা ও যৌক্তিকতা

মহান আল্লাহর ৯৯-এর অধিক সুন্দর নামের মধ্যে অন্যতম নাম হলো ‘আল-হাকীম।’ ‘আল-হাকীম’ অর্থ হিকমত-ওয়ালা, বিজ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময়। আর হিকমত ও প্রজ্ঞা হলো সর্বকর্ম যথাযোগ্যভাবে নৈপুণ্যের সাথে সম্পাদন করা। মহান আল্লাহর এ নামের দাবি এই যে, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন অথবা মানুষের জন্যে বিধিবদ্ধ করেছেন তার প্রত্যেকটার পশ্চাতে আছে পরিপূর্ণ যুক্তি ও হিকমত; তা কেউ বুঝতে সক্ষম হোক অথবা অক্ষম। যে রোজা আল্লাহ তায়ালা বান্দার উপর ফরজ ও বিধিবদ্ধ করেছেন তার মাঝে রয়েছে অভাবনীয় যৌক্তিকতা ও অচিন্তনীয় উপকারিতা। যেমন :

(১) রোজা হলো এক এমন ইবাদত, যার মাধ্যমে বান্দা প্রভুর নৈকট্যলাভ করতে সক্ষম হয়। এতে সে প্রকৃতিগতভাবে যে জিনিস ভালোবাসে তা বর্জন করে; বর্জন করে সকল প্রকার পানাহার ও যৌনক্রিয়া। আর এর মাধ্যমে সে নিজ প্রতিপালকের সন্তুষ্টি কামনা করে। আশা করে পরকালের সাফল্য ও বেহেশতলাভ। এতে এই কথাই স্পষ্ট হয় যে, সে নিজের প্রিয় বস্তুর উপর প্রভুর প্রিয় বস্তুকে প্রাধান্য দেয় এবং ইহকালের জীবনের উপর পরকালের জীবনকেই শ্রেষ্ঠত্ব দেয়।

(২) রোজাদার যথানিয়মে রোজা পালন করলে রোজা তাকে মুত্তাকী ও পরহেযগার বানাতে সহায়ক হয়। তাঁর জীবন পথে তাকওয়া ও পরহেযগারীর আলো বিচ্ছুরিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ”হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হলো, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতের উপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা পরহেযগার হতে পারো।” (কুরআনুল কারীম ২/১৮৩)।

(৩) রোজা আত্মাকে তরবিয়ত দান করে, চরিত্রকে সভ্য ও আদর্শভিত্তিক করে গড়ে তোলে এবং রোজাদারের আচরণে উৎকৃষ্টতার স্থায়িত্ব আনয়ন করে। মুসলিমের স্বভাব-প্রকৃতিতে রোজা গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে। রোজার সংশোধনী বার্তা তার হৃদয়-মনে তাসীর বা প্রভাব রেখে যায়। রোজাদারের অন্তরে এমন জাগরণ সৃষ্টি করে এবং তাঁর মনের দুয়ারে এমন অতন্দ্র প্রহরী খাড়া করে দেয় যে, সে নিজের আত্মাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয় এবং এই প্রহরীর চোখে ফাঁকি দিয়ে কোনও নৈতিকতা-বিরোধী কর্ম করতে ইচ্ছা ও চেষ্টাও করতে পারে না।

(৪) রোজা রোজাদারের আচার-ব্যবহারকে সুন্দর করার কাজে বড় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে। পূর্ণ একটি মাস ধরে তাকে পাপ থেকে দূরে রাখে, নিষিদ্ধ ও হারাম বস্তু থেকে নিরাপদে রাখে। বরং রোজা তাকে এক মহান ইবাদতে মাশগুল রাখে, হীনতা ও নীচতা হতে রক্ষা করে, প্রত্যেক নোংরামীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। সুতরাং সে না চুগলী করে, না গীবত করে, না মিথ্যা বলে, না অশ্লীল কাজ করে, না ফিতনা সৃষ্টি করে।

(৫) রোজা রোজাদারকে কুঅভ্যাসের দাসত্ব থেকে মুক্তিদান করে। এমন বহু মানুষ আছে, যারা এমন বহু নোংরা অভ্যাসে অভ্যাসী হয়ে পড়ে এবং তার ফাঁদ থেকে বের হওয়ার কোনো পথ খুঁজে পায় না। কিন্তু রোজা এলে তাঁদেরকে দেখা যায় যে, তারা তাঁদের সে সমস্ত কুঅভ্যাসকে পরিপূর্ণরূপে বর্জন করে ফেলেছে।

(৬) রোজা পরিপূর্ণরূপে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ এবং তাঁর পূর্ণ দাসত্ব করার কথা শিক্ষা দেয়। রোজা মুসলিমকে প্রকৃত দাসত্বের অনুশীলন দেয়। তাই তো সে রাতের বেলায় খায়, পান করে। কারণ, তার প্রভু যে বলেছেন, আর তোমরা পানাহার করো, যতক্ষণ পর্যন্ত না (রাতের) কালো অন্ধকার থেকে ফজরের সাদা রেখা তোমাদের নিকট স্পষ্ট হয়েছে (কুরআনুল কারীম ২/১৮৭)।

(৭) রোজা মুসলিমের জন্য আল্লাহর এক প্রকার রহমত, করুণা ও অনুগ্রহ। মহান আল্লাহ মুসলিম জাতির প্রতি অনুগ্রহ ও করুণা প্রদর্শন করেই রোজা ফরজ করেছেন। কারণ, এরই মাধ্যমে তিনি মুসলিমের পাপরাশি মার্জনা করে থাকেন, তার মর্যাদা উন্নীত করে থাকেন এবং বহুগুণ হারে তার সওয়াব বৃদ্ধি করে থাকেন।

(৮) রোজা হল গোনাহের কাফ্ফারা। কারণ, নেকীর কাজ গোনাহর কাজের গোনাহ নাশ করে দেয়া। আর রোজা হলো বড় নেকীর কাজ। মহান আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় পুণ্যরাশি (সওয়াবের কাজ) পাপরাশিকে দূরীভূত করে।

(৯) রোজা রোজাদারের মনে ধৈর্য ও সহনশীলতা সৃষ্টি করে। কষ্টে ধৈর্য ধারণ ও সহনশীলতা অবলম্বন করতে অভ্যাসী বানায়। রোজা তাকে তার প্রিয় বস্তুর ব্যবহার বর্জন করতে ধৈর্যের শিক্ষা দেয়। যেমন শিক্ষা দেয় কাম-দমন ও মনের যথেচ্ছাচার দমন করার; যা নিশ্চয় সহজ কাজ নয়।

(১০) রোজা হলো ঢালস্বরূপ; দোযখ থেকে রক্ষার ঢালস্বরূপ। একটি মাত্র রোজা জাহান্নামকে রোজাদার থেকে ৭০ বছরের পথ দূরে সরিয়ে দেয়। সুতরাং যে ব্যক্তি পূর্ণ রমাযান মাসের রোজা রাখে এবং প্রত্যেক মাসে ৩টি রোজা অথবা আরো অন্যান্য নফল রোজা রাখে, সে ব্যক্তি থেকে দোযখ কতো বছরের পথ দূরে সরে যায় তা অনুমেয়।

(১১) রোজা হলো চরিত্রহীনতা ও ব্যভিচার ইত্যাদি অশ্লীলতা থেকে ঢালস্বরূপ। রোজা রোজাদারকে অবৈধ যৌনাচার থেকে হিফাযতে রাখে, যেমন ঢাল মুজাহিদ (যোদ্ধা)কে শত্রুপক্ষের তীর ও তরবারির আঘাত থেকে রক্ষা করে থাকে।

(১২) রোজা হলো বেহেশ্তেগামী পথ। আবূ উমামাহ (রাঃ) জান্নাতে প্রবেশ করাবে এমন আমল প্রসঙ্গে যখন আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট নির্দেশ চাইলেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন, ”তুমি রোজা রাখো। কারণ, তার মতো অন্য কোনো আমল নেই।” তাছাড়া মহানবী (সাঃ) রোজাদারকে বেহেশ্তে ‘রাইয়ান’ নামক এক বিশেষ দরজা দিয়ে প্রবেশ করার সুসংবাদ দিয়েছেন। আর ‘রাইয়ান’ (তৃষ্ণাহীন) দ্বার। আমল অনুযায়ী রোজাদারের জন্য বড় উপযুক্ত। কারণ, রোজা রাখার ফলে দুনিয়াতে সে পিপাসায় কাতর হয়। তাই তারই বিনিময়ে পরকালে ”সেই দ্বারে যে প্রবেশ করবে সে (বেহেশ্তী পানীয়) পান করবে। আর যে ব্যক্তি একবার তা পান করবে, সে ব্যক্তি আর কোনকালেও পিপাসিত হবে না।”

(১৩) রোজাদার ব্যক্তির দুআ রোজা রাখা অবস্থায় কবুল হয়ে থাকে। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, ”তিন প্রকার দুআ আল্লাহর নিকট কবুল হয়ে থাকে; রোজাদারের দুআ, অত্যাচারিতের দুআ এবং মুসাফিরের দুআ।”

(১৪) রোজা কিয়ামতের ভীষণ বিচার দিনে রোজাদারের জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে; বলবে, ‘হে আমার প্রভু! আমি ওকে দিনের বেলায় পানাহার ও যৌনক্রিয়া থেকে বিরত রেখেছিলাম। সুতরাং ওর ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ গ্রহণ করে নাও।’ অতঃপর মহান প্রভু তার সে সুপারিশ গ্রহণ করে নেবেন।

(১৫) রোজা হলো পরহেযগার ও নেক লোকদের ট্রেনিং-ময়দান; যার মাঝে আল্লাহর দেওয়া পৃথিবীর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করার উপর নিজেদের কর্তব্যের বিভিন্ন ট্রেনিং নিয়ে থাকে। ১৬. রোজা হল কচি-কাঁচা শিশুর মনের মাটিতে ‘আমানতদারী’র বীজ রোপণ করার এক বাস্তবভিত্তিক ইতিবাচক ও কার্যকর প্রক্রিয়া। শিশু-কিশোরকে রোজা রাখতে অভ্যাসী করার সময় যখন তাকে পানাহার করতে নিষেধ করা হয় এবং খাবার ও পানি হাতের কাছে থাকা সত্ত্বেও সে শুধু এই বিশ্বাসে তা খেতে পারে না যে, এ নিষেধ হলো আল্লাহর এবং তিনি তাকে দেখছেন। অথচ এ ব্যাপারে কেবল তার মন ও বিবেক ছাড়া অন্য কেউ পর্যবেক্ষক নেই।

(১৭) রোজা মানুষের মাঝে শয়তানের প্রবেশ ও প্রবাহ-পথ রুদ্ধ করে। এর ফলে তার দেহ-মনে শয়তানের আধিপত্য কমে যায়। পক্ষান্তরে যখনই মানুষ নিজ প্রবৃত্তির লাগাম ছেড়ে দেয়, তখনই শয়তান তা লুফে নিয়ে তাকে যেদিকে ইচ্ছা সেদিকে পরিচালিত করতে থাকে।

(১৮) রোজা হলো আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুক্রিয়া আদায় করার অন্যতম মাধ্যম। কারণ, রোজা হলো পানাহার ও যৌনমিলন থেকে বিরত থাকার নাম। আর মানুষের উপর আল্লাহর যে সকল বড় বড় নেয়ামত রয়েছে তার মধ্যে পানাহার ও যৌনমিলন হলো অন্যতম। সুতরাং মানুষ এ নেয়ামতের কদর তখনই বুঝবে, যখন সে এ নেয়ামত থেকে নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বঞ্চিত থাকবে। কারণ, হারিয়ে না গেলে নেয়ামতের কদর বোঝা যায় না। আর যখনই উক্ত নেয়ামতের কদর সে বুঝবে, তখনই তার অবশিষ্ট অধিকার আদায়ের জন্য শুক্রিয়া জ্ঞাপন করবে। পক্ষান্তরে নেয়ামতের শোকরিয়া আদায় করা ফরজ; শরীয়তে এবং বিবেক মতেও।

(১৯) রোজার মাধ্যমে রোজাদার ক্ষুধা-জনিত দুর্বলতার ফলে সে আল্লাহর কতটা মুখাপেক্ষী তা আন্দাজ করতে পারে। আর যে ব্যক্তি নিজের মাঝে নিজের দুর্বলতা চিনতে পারে, সে ব্যক্তির মিথ্যা অহংকার দূরীভূত হয়ে যায়। উপরন্তু আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করেন, যে নিজের কদর নিজে জেনেছে।

সাহারী খাওয়া সুন্নাত

মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মতিক্রমে রোজার জন্যে সাহরী খাওয়া সুন্নাত। যদি সাহরী খেতে সময় না পায়, তাহলে তাঁর জন্য জরুরি রোজা রেখে নেয়া। এতে তাঁর রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। বরং ক্ষতি হবে তখন, যখন সে কিছু খেতে হয় মনে করে তখনই (ফজরের পর) কিছু খেয়ে ফেলবে। সে ক্ষেত্রে তাকে সারা দিন পানাহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে এবং রমজান পরে সেই দিন কাযা করতে হবে। সাহরী খাওয়া যে উত্তম তা প্রকাশ করার জন্য মহানবী (সাঃ) উম্মতকে বিভিন্ন কথার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি সাহরীকে বরকতময় খাদ্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ”তোমরা সাহরী খাও। কারণ, সাহরীতে বরকত আছে।” (বুখারী ১৮২৩, মুসলিম ১০৯৫নং) সাহরীতে বরকত থাকার মানে হলো, সাহরী রোজাদারকে সবল রাখে এবং রোজার কষ্ট তার জন্যে হালকা করে। আর এটা হলো শারীরিক বরকত। পক্ষান্তরে শরয়ী বরকত হলো, রসূল (সাঃ)-এর আদেশ পালন এবং তাঁর অনুসরণ। রাসূল (সাঃ) এই সাহরীর গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,”আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবের রোজার মাঝে পার্থক্য হলো সাহরী খাওয়া।”(মুসলিম ১০৯৬, আবূ দাঊদ ২৩৪৩, মুসনিদ ৯৮ পৃঃ)।

ইফতার করার মুস্তাহাব নিয়ম

সূর্যাস্তের পর ইফতারী বিলম্ব করা উচিত নয়। কিন্তু আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে সাবধানতার জন্য কিছু সময় বিলম্ব করা উত্তম। খেজুর দ্বারা ইফতার করা সুন্নত। তা না হলে অন্য কোনো মিষ্টিদ্রব্য বা শুধু পানি দ্বারা ইফতার করবেন। আগুনে পাকানো খাদ্য, রুটি, ভাত, শিরনি ইত্যাদি দ্বারা ইফতার করা দোষের নয়। কিন্তু ফল দ্বারা

ইফতার করাই উত্তম। ইফতারের দোয়া: ‘আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া তাওয়াক্কালতু আ’লা রিজকি্বকা ওয়া আফতারতু বি রাহমাতিকা ইয়া আর্ হামার রা-হিমীন।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক দ্বারা ইফতার করছি।’ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা’য়ালা সমপরিমাণ সওয়াব ওই ব্যক্তিকে প্রদান করবেন যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে সামান্য দুধ দিয়ে কিংবা খেজুর দিয়ে কিংবা পানির শরবত দিয়ে ইফতার করাবে। আর যে ব্যক্তি রমজান মাসে কোনো রোজাদারকে পেট পুরে আহার করাবে আল্লাহ তায়ালা (কিয়ামতের দিন) তাকে আমার হাউজে কাউসারের পানি পান করিয়ে পরিতৃপ্ত করবেন। এ পানি পান করার পর জান্নাতে প্রবেশ করার আগে সে আর তৃষ্ণার্ত হবে না। (মিশকাত শরীফ)

দোয়া কবুলের উত্তম সময়

রমজান মাসে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে অধিক দোয়া, আহাজারি ও কান্নাকাটি করা উচিত। এ মাসে রহমতের দ্বার উন্মুক্ত থাকে, রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হয়। ক্ষমা ও মাগফিরাতের উত্তম সময়। আল্লাহ তো ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, ‘ইফতারের সময় তোমরা আমার কাছ থেকে চেয়ে নাও, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করবো। রাতের অাঁধারে চেয়ে নাও, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করবো। শেষ রাতে চেয়ে নাও, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করবো।’

রোজাদারের জন্যে যা করা অপছন্দনীয়

ওলামাগণ কিছু এমন বৈধ কর্ম করাকে রোজাদারের জন্য অপছন্দনীয় মনে করেন, যা করার ফলে তার রোজা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর তা হলো : ১. মুখে থুথু জমা করে গিলে নেওয়া। ২. চুইংগাম-জাতীয় কিছু চিবানো। ৩. দাঁতের ফাঁকে লেগে থাকা খাবার পরিষ্কার না করা। ৪. এমন জিনিস নাকে নিয়ে ঘ্রাণ নেওয়া (শোঁকা); যা রোজাদারের নিঃশবাসের সাথে গলার ভিতরে যেতে পারে। ৫. স্ত্রীর সাথে এমন আচরণ করা, যা রোজাদারের যৌনক্ষুধা জাগ্রত করে। যেমন চুম্বন, কোলাকুলি, গলাগলি প্রভৃতি। ৬. এমন কিছু করা, যাতে তার শরীর দুর্বল হয়ে যাবে এবং রোজা চালিয়ে যেতে কষ্ট হবে। যেমন দূষিত রক্ত বহিষ্করণ ও অধিক রক্তদান। এছাড়া এমন কিছু কর্ম রয়েছে, যা করলে রোজাদারের রোজা অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং তার সওয়াবও কম হয়ে যায়। যেমন মিথ্যা কথা বলা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, গীবত করা, চুগলী করা, অনুরূপ প্রত্যেক সেই কথা বলা, যা শরীয়তে বলা নিষিদ্ধ। কারণ প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, ”যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা ও তার উপর আমল ত্যাগ করতে পারল না, সে ব্যক্তির পানাহার ত্যাগ করার মাঝে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।”(বুখারী ৬০৫৭, ইবনে মাজাহ ১৬৮৯, আহমাদ, মুসনাদ ২/৪৫২, ৫০৫)।

তারাবীহর নামাজ বা কিয়ামে রামাযান

কিয়ামে রামাযান বা রমাযানের কিয়ামকে ছালাতুত তারাবীহ বা তারাবীহর নামাজ বলা হয়। ‘তারাবীহ’ মানে হলো আরাম করা। পবিত্র মাহে রমযানে বিশ রাকাত তারাবীহ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক রোজাদার ব্যক্তির জন্য সুন্নাত। ১. হযরত নাফে’ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে ওয়াকী বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “হযরত ইবনে আবি মুলাইকা (রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম) রমজান মাসে আমাদের জামা’তের ২০ রাকআত (তারাবীহ) নামাযে ইমামতি করতেন।” (মোসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ৫ম খ-, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৭৭৬৫), ২. হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে মহানবী (সাঃ) রমজান মাসে (প্রতি রাতে) নিজে নিজে ২০ রাকআত (তারাবীহ) নামাজ আদায়করতেন এবং এরপর ৩ রাকআত বেতরের নামাজও পড়তেন। (‘সুনান আল-বায়হাকী, হাদীস নং ১২১০২), ৩. হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে রাসূলে পাক (সাঃ) রমজান মাসে ২০ রাকআত (তারাবীহ) নামাজ আদায় করতেন এবং এরপর ৩ রাকাত বেতরের নামাজও আদায় করতেন। (মোসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা’, ২য় খ-, হাদীস নং ৭৬৯২), ৪. হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, বিশ্বনবী (সাঃ) দুই রাতে ২০ রাকআত নামাজ মানুষের সাথে আদায় করেন; কিন্তু তিনি তৃতীয় রাতে আর বের হননি। তিনি বলেন, আমি আশংকা করি যে এটি তোমাদের (সাহাবা-এ-কেরামের) প্রতি আবার বাধ্যতামূলক না হয়ে যায়। (আল-তালখীস আল-হাবীর’, ২য় খ-, হাদীস নং ৫৪০),৫. ইমাম বোখারী (রহঃ) তাঁর ‘আল-কুনা’ গ্রন্থে বর্ণনা করেন: হযরত আবূ আল-খুসাইব (রাঃ) বর্ণনা করেন যে হযরত সুওয়াইদ বিন গাফালাহ (রাঃ সব সময়-ই রমজান মাসে আমাদেরকে নিয়ে জামাআতে ২০ রাকআত তারাবীহ নামাযে ইমামতি করতেন।(আল-কুনা, ২য় খ-, হাদীস নং ২৩৪) আল্লামা ইবনে হাজর মক্কী (রহঃ) তিনি বর্ণনা করেন, সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) সকলেই একমত যে, তারাবীহ নামাজ বিশ রাকায়াত। তারাবীহ নামাজ বিশ রাকায়াত এ বিষয়ে কোন সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) দ্বিমত পোষণ করেন নি। হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) তিনি এই কথা বর্ণনা করেছেন- বিশ রাকায়াত তারাবীহ। এটাই সহীহ বর্ণনা।(উমাদুল ক্বারী, শরহে বুখারী)

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাকের কারণে তারাবীহ নামাজ

বর্তমানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে চলছে সে অবস্থায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাতে মুসলি্লর সংখ্যা পাঁচ জনের বেশি হতে পারবে না অর্থাৎ খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জেন ও খাদেম মিলে জামাত আদায় করবে কোন ক্রমেই অন্য মুসলি্লকে মসজিদে আসতে দেয়া যাবে না। এবং জুমার নামাজে দশ জনের বেশি হতে পারবে না। তবে শর্ত থাকে যে, নিদিষ্ট দূরুত্ব বজায় রাখে জামাতে নামাজ আদায় করবে। সে ক্ষেত্রে পরিবারের সুরক্ষায় নিজেই ইমাম হয়ে নামাজ আাদয় করতে হবে। যেহেতু করোনা ভাইরাসটি ছোঁয়াছোয়ে রোগ। তাই জনসমাগম থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। এবং পরিবার, সমাজ ও দেশকেও রক্ষা করা ঈমানী দাবি। বিগত ২২ এপ্রিল ২০২০ তারিখে সৌধি আরবের গ্রেন্ড মুফতি মক্কা ও মদীনায় বিশ রাকাত নামাজের পরিবর্তে দশ রাকাত তারাবীহ নামাজ জামাতে আদায় করার আদেশ জারি করেন এবং শেষ দশ দিন তাহাজ্জুদ নামাজের জামাত, ই’তেকাফ না হওয়ার আদেশ জারি করেন। এ ক্ষেতে আমারা বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয় মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিন্ধান্ত অনুসরণ করতে হবে। যদি বাংলাদেশে সৌধি আরবের অনুসরনে দশ রাকায়াত নামাজে জাময়াতে আদায়ের হুকুম জারি করেন। ক্ষেত্রে বাকি দশ রাকয়াত বাসায় গিয়ে একাকী আদায় করতে কোনো বাঁধা নেই। তবে কোনোক্রমেই সরকারি হুকুমকে অমান্য করা যাবে না।

লেখক :মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন খতিব, কালেক্টরেট জামে মসজিদ ও প্রভাষক (আরবি), মান্দারী আলিম মাদ্রাসা, চাঁদপুর।